Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজনীতির উত্তপ্ত বিতর্ক এবার পা রাখতে চলেছে বিনোদনের মঞ্চে (Dadagiri)। দেব সঞ্চালিত জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘দাদাগিরি’র বিশেষ পর্বে একই মঞ্চে মুখোমুখি হওয়ার কথা তৃণমূলের কুণাল ঘোষ, আইএসএফ-এর নওশাদ সিদ্দিকী, বিজেপির সজল ঘোষ এবং সিপিআই(এম)-এর মোস্তাফিজুর রহমানের। রাজনৈতিক মঞ্চে যাঁদের একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করতে দেখা যায়, তাঁদেরই এবার দেখা যেতে পারে তুলনামূলক হালকা মেজাজের একটি অনুষ্ঠানে।
দেবের চ্যালেঞ্জে বাড়ছে উত্তেজনা (Dadagiri)
দেবের ‘দাদাগিরি’র মঞ্চে এই চার নেতার উপস্থিতির খবর সামনে আসতেই দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে প্রবল আগ্রহ। এতদিন টেলিভিশনের রাজনৈতিক বিতর্কে নিজেদের বক্তব্যের পক্ষে সওয়াল করতে দেখা গিয়েছে তাঁদের। এবার সেই পরিচিত রাজনৈতিক লড়াইয়ের বাইরে বিনোদনের মঞ্চে তাঁদের আচরণ কেমন হয়, সেটাই দেখার বিষয়। দেবের সঞ্চালনায় রাজনৈতিক মতপার্থক্যের বাইরে চার নেতা কতটা খোলামেলা আড্ডায় অংশ নেন, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে কৌতূহল।

আচমকাই বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন (Dadagiri)
কিন্তু শুটিংয়ের পরিকল্পনার মাঝেই তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা। আগামী ১৩ অগস্ট পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন বসার সম্ভাবনার খবর সামনে আসতেই চার নেতার অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কারণ, এই চারজনের মধ্যে একাধিক জনই বিধায়ক। ফলে বিধানসভার অধিবেশন থাকলে তাঁদের কাছে দলীয় বা ব্যক্তিগত কর্মসূচির তুলনায় বিধানসভার দায়িত্বই অগ্রাধিকার পাবে—এমনটাই স্বাভাবিক।
‘আগে বিধানসভা, পরে দাদাগিরি’ (Dadagiri)
মোস্তাফিজুর রহমান ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করেছেন, অনুষ্ঠানে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও বিধানসভার অধিবেশন হলে জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর প্রথম দায়িত্ব অধিবেশনে উপস্থিত থাকা। প্রয়োজনে শুটিংয়ের সময় পরিবর্তনের অনুরোধ জানানো হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। নওশাদ সিদ্দিকীর বক্তব্যেও একই ধরনের অবস্থান উঠে এসেছে। দিনের দ্বিতীয়ার্ধে অনুষ্ঠানে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও বিধানসভার কাজ থাকলে সেটিই আগে—এমনটাই তাঁর বক্তব্য।
কুণালের সম্মতি, সজলকে ঘিরে জল্পনা (Dadagiri)
তৃণমূলের কুণাল ঘোষও জানিয়েছেন, জনপ্রিয় অনুষ্ঠান বলেই তিনি অংশ নেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন। তবে বিধানসভার কাজ থাকলে সময় পরিবর্তন করাই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হতে পারে বলে তাঁর বক্তব্য। অন্যদিকে বিজেপির সজল ঘোষের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। ফলে তাঁর অংশগ্রহণ ঘিরে জল্পনাও তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন:North Bengal: বাঙালি-ভাটিয়াদের নিয়ে মন্তব্যে আইনি জটিলতায় তৃণমূল যুবনেতা
শেষ পর্যন্ত কোন মঞ্চে চার নেতা?
সব মিলিয়ে এখন প্রশ্ন একটাই—দেবের ‘দাদাগিরি’র মঞ্চে কি শেষ পর্যন্ত চার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে একসঙ্গে দেখা যাবে? নাকি বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন বদলে দেবে পুরো পরিকল্পনা? রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে চার নেতাকে একই মঞ্চে দেখার সুযোগ তৈরি হওয়ায় দর্শকদের আগ্রহ ইতিমধ্যেই তুঙ্গে। শেষ পর্যন্ত সময়সূচির সমন্বয় করে অনুষ্ঠানটি সম্ভব হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর বাংলার রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ দর্শকদের।



