Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল:ত্রয়ণ চক্রবর্তী: যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলি কোনও শাসকের সামনে মাথানত করেনি, তাদেরই কি এবার নিশানা করা হচ্ছে? এমনই প্রশ্ন তুললেন নওশাদ সিদ্দিকী (Naushad Siddiqui)। তাঁর বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট বিলের মাধ্যমে বিরোধী মতকে সংকুচিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই বিলের বিরুদ্ধে তাঁরা আইনি পথেও যাবেন বলে জানান তিনি। তাঁর কথায় স্পষ্ট, বিষয়টি শুধু কোনও একটি প্রতিষ্ঠান বা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোর প্রশ্ন নয়, বরং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক পরিসর কতটা অক্ষুণ্ণ থাকবে, সেই বৃহত্তর প্রশ্নও এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।
‘ফি প্যালেস্টাইন’—বৈদেশিক নীতির প্রশ্নও তুললেন (Naushad Siddiqui)
আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। নওশাদ বলেন, তিনি প্রকাশ্যে ‘ফি প্যালেস্টাইন’ বলছেন এবং এর জন্য সরকার তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে নিক। তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে ভারতের বৈদেশিক নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং আন্তর্জাতিক ঘটনাবলির ক্ষেত্রে দেশের অবস্থান নিয়ে আলোচনা করার অধিকার। অর্থাৎ তাঁর মতে, কোনও আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে মত প্রকাশ করাকে কেবল রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবে না দেখে বৃহত্তর গণতান্ত্রিক বিতর্কের অংশ হিসেবেও দেখা প্রয়োজন।
মহালয়া, শরৎ আর দুর্গাপুজোর বাঙালিয়ানা (Naushad Siddiqui)
বাঙালির কাছে মহালয়া মানেই শরতের আগমন, দেবীপক্ষের সূচনা এবং দুর্গাপুজোর আবেগ। ‘আশ্বিনের শারদপ্রাতে’ উচ্চারিত স্তোত্র, ভোরের রেডিও এবং মহিষাসুরমর্দিনীর আবহ—সব মিলিয়ে মহালয়া বাঙালির সাংস্কৃতিক স্মৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। দুর্গাপুজো তাই কেবল ধর্মীয় আচার নয়, বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনেরও অন্যতম বৃহৎ উৎসব। সেই উৎসবের আবহেই গেরুয়া রং নিয়েও উঠে আসে অন্য এক ব্যাখ্যা।

গেরুয়া কি শুধু হিন্দুদের? ‘মানুষের রং’ বললেন নওশাদ (Naushad Siddiqui)
নওশাদ সিদ্দিকীর বক্তব্যে গেরুয়া রংকে কোনও নির্দিষ্ট ধর্মের একচেটিয়া পরিচয় হিসেবে দেখার বিরোধিতা রয়েছে। তাঁর কথায়, “গেরুয়া শুধু হিন্দুদের রং নয়, মানুষের রং।” এই বক্তব্যের মধ্যে রয়েছে প্রতীকের রাজনৈতিক ব্যবহার এবং তার সামাজিক অর্থ নিয়ে একটি বৃহত্তর প্রশ্ন। ভারতীয় সংস্কৃতিতে গেরুয়া বহুদিন ধরেই ত্যাগ, সাধনা, আত্মসংযম ও আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে যুক্ত। ফলে তাকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক বা ধর্মীয় পরিচয়ের সংকীর্ণ গণ্ডিতে আটকে রাখা যায় কি না, তা নিয়েও বিতর্কের অবকাশ রয়েছে।
আরও পড়ুন: Dr Debobroto Nath Bhiravi: বাঙালির খাদ্যাভ্যাস নিয়ে মন্তব্য কেন? প্রশ্ন ড: দেবব্রত নাথ ভৈরবীর
সুমিত রায়ের গ্রেফতার
অন্যদিকে সুমিত রায়ের গ্রেফতার নিয়েও আশাবাদী নন নওশাদ। তাঁর কটাক্ষ, “কান টানলে মাথা আসবে ঠিক, কিন্তু কান ধরে যদি ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে কী হবে?” অর্থাৎ শুধু একজনকে গ্রেফতার করলেই তদন্তের শেষ নয়—এর নেপথ্যে থাকা বৃহত্তর যোগসূত্র সামনে আনা এবং তদন্তকে শেষ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়াটাই তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।



