Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ব্রততী সরকার: ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা এবং অতিরিক্ত অসম আবহাওয়ার কারণে ফসল বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়গুলো সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে (Food Security)। ইউরোপের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী ফসল আগের তুলনায় কয়েক সপ্তাহ আগেই পরিপক্ক হচ্ছে। এটিকে ভারতীয় কৃষিক্ষেত্রের জন্য সতর্কবার্তা বলেও ধরা হচ্ছে।

ইউরোপীয় কমিশনের তথ্য অনুযায়ী (Food Security)
শীতকালীন গম, সরিষা, ভুট্টা সময়ের ৩ সপ্তাহ আগেই পরিপক্ক হয়ে যাচ্ছে। ধরা হচ্ছে, এই পরিবর্তনটি মূলত উষ্ণ তাপমাত্রার সাথে সম্পর্কিত। কিন্তু দ্রুত পরিপক্কতা মানেই ভালো ফসল, সেরকম নয়। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জির ইএমইএ/এপিএসি কৃষি-ব্যবসা পরামর্শক স্বাতী মাথুর বলছেন, ‘ইউরোপে ২০২৬ সালের আবহাওয়ার ধরণ জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে তুলে ধরছে। যেখানে বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ, বৃষ্টিপাতের ঘাটতি এবং খরা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।’
ক্ষতিকর দিক (Food Security)
ফলন ও গুণমান বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত সময় ও অনুকূল পরিবেশ প্রয়োজন। ফসল সময়ের আগে পেকে গেলে বা স্বাভাবিক বিকাশের পরিবর্তে তাপজনিত কারণে পরিপক্কতা এগিয়ে এলে ক্ষতির ঝুঁকি আরও বেশি থাকতে পারে। ফসল আগে পেকে যাওয়া মানেই কৃষকরা প্রতি হেক্টর থেকে বেশি শস্য পাচ্ছেন এমন নয়।

আরও পড়ুন: Nabanna: মানা হচ্ছে না অগ্নি সুরক্ষা বিধি, কলকাতার ৯১৯ হোটেল-গেস্ট হাউস বন্ধের নির্দেশ নবান্নের
ভারতে প্রভাব
২০২৬ সালের ফেব্রিয়ারিতে গম কাটার সময় ভারতে তাপপ্রবাহের দেখা গিয়েছিল। ভূবিজ্ঞান মন্ত্রক ২০২৬ সালের মার্চ মাসে জানায় , ১৯০১ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ভারতের গড় ভূপৃষ্ঠের বায়ুর তাপমাত্রা প্রায় ০.৭ সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে। মাথুর বলেছেন, ‘ভারতের জন্য জলবায়ুর অন্তর্নিহিত সংকেত স্পষ্ট। ভারতীয় কৃষি ক্রমবর্ধমানভাবে দীর্ঘস্থায়ী তাপমাত্রার ক্যাপ এবং তীব্র আবহাওয়ার মধ্যে রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে দীর্ঘায়িত তাপপ্রবাহ এবং অসম বৃষ্টিপাত। যা ফসলের ফলনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’ ভারতের জন্য উদ্বেগের বিষয় হল, তাপপ্রবাহ এবং আবহাওয়ার পরিবর্তন কৃষি উৎপাদনের নির্ভরযোগ্যতা ক্রমশ কমিয়ে দেবে কিনা। জলবায়ু পরিবর্তন সব ফসল বা সব অঞ্চলকে একই ভাবে প্রভাবিত করে। ভারতের জন্য জলবায়ুগত চাপ কেবল একটি কৃষি সমস্যা নয়, এটি খাদ্য নিরাপত্তা, মুদ্রাস্ফীতি, বাণিজ্য এবং বৃহত্তর অর্থনীতিতে ভীষণ ঝুঁকির সৃষ্টি করতে পারে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।



