Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আ্যডামাস বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্রিকেট অ্যাকাডেমি: নবীন প্রতিভা গড়ার বড় উদ্যোগ (Cricket Academy)।
তরুণ প্রতিভা গড়ে তোলার লক্ষে এই গোষ্ঠী (Cricket Academy)
যেকোন ক্ষেত্রে সামগ্রিক উন্নতির জন্য প্রয়োজন হয় তার ভিত শক্ত করা। যে ভিত যত মজবুত তার উপর ইমারতও তত শক্তভাবে দাঁড়াতে পারে। পড়াশোনা বা ক্রীড়া, গ্রাস রুট লেভেল যদি শক্ত এবং মজবুত না হয় তবে সেক্ষত্রে অনেকটাই পিছিয়ে পড়তে হয় ভবিষ্যতে। একদিকে পড়াশোনার ক্ষেত্রে যেমন শুরু হয় ‘সহজ পাঠ’ থেকে ক্রিকেট বা ফুটবলের শুরু হয় তার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পরিকাঠামোর উপর (Cricket Academy)।
কিছু ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের অনিশ্চিয়তার কথা ভেবে অনেকেই পিছিয়ে আসে ক্রীড়া জগতে পা রাখার থেকে। তবে যদি ভবিষ্যৎ নিশ্চিত এবং সুরক্ষিত করা যায় তবে অনেক তরুণ প্রতিভাই এগিয়ে আসবে ক্রীড়া জগতের দিকে। এবার সেই কাজটাই করতে চলেছে আ্যডামাস এডুকেশন। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে খেলা নিয়ে আগ্রহ বাড়াতে এবং সেই প্রতিভাকে বিশ্ব মঞ্চে বিকশিত হতে সাহায্য করবে এই ক্রিকেট অ্যাকাডেমি।
এই মুহূর্তে ক্রিকেট মঞ্চে উঠে এসেছেন বহু এমন তরুণ প্রতিভা যাঁদের এখন তুলনা করা হচ্ছে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের সঙ্গে। এই সকল উদীয়মান তারকাদের মধ্যে অন্যতম নাম বৈভব, প্রফুল, আয়ুষ মাত্রে প্রমুখ। এবার দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে সেই সব প্রতিভা তুলে এনে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ করবে এই অ্যাকাডেমি।
সংগঠিত ক্রীড়া উন্নয়নে এবার সেই বড় পদক্ষেপ নিল এই সংস্থা। পেশাদার কোচিং ও শিক্ষার সমন্বয়ে আগামী দিনের ক্রিকেট প্রতিভা গড়ে তোলার লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে পথ চলা শুরু হল ‘আ্যডামাস ক্রিকেট অ্যাকাডেমি’। তরুণ প্রতিভাকে সঠিক দিক নির্দেশ এবং প্রশিক্ষণই এদের মূল লক্ষ্য। কলকাতা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে এই ঘোষণা করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা, প্রযুক্তি ও ক্রীড়া ক্ষেত্রের এই গোষ্ঠীর শীর্ষ কর্তারা (Cricket Academy)।
বহু সংস্থার যৌথ উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই অ্যাকাডেমি শুধু প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নয়, এখানে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রতিভা চিহ্নিতকরণ থেকে প্রশিক্ষণ ও পারফরম্যান্স সবকিছুকে এক ছাতার তলায় আনার লক্ষ্য নিয়েই এই উদ্যোগ। বাংলার ক্রিকেট পরিকাঠামোয় দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে একটি সুসংহত কাঠামো গড়ে তোলাই মূল উদ্দেশ্য।
এই বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও বেসরকারি গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. সমিত রায় বলেন, “এই অ্যাকাডেমি এমন এক ক্রীড়া পরিবেশ তৈরি করবে, যেখানে প্রতিভা ও সুযোগ একসঙ্গে বিকশিত হবে। আমাদের লক্ষ্য শুধু দক্ষ ক্রিকেটার তৈরি করা নয়, বরং এমন মানুষ গড়ে তোলা, যারা শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় এবং বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম (Cricket Academy)।”
অ্যাকাডেমির লক্ষ্য ও কাঠামো
এই সংস্থার ক্রিকেট অ্যাকাডেমি একটি পূর্ণাঙ্গ বিকাশকেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। বয়সভিত্তিক প্রশিক্ষণ, বৈজ্ঞানিক কোচিং পদ্ধতি, আধুনিক ডেটা অ্যানালিটিক্স, ফিটনেস ট্রেনিং এবং অভিজ্ঞ মেন্টরশিপ—সবকিছুকেই গুরুত্ব দেওয়া হবে এখানে। ক্রীড়া কাঠামোর নেতৃত্বে থাকবে আ্যডামাস ইউনাইটেড স্পোর্টস। এর ফলে রাজ্যের বাইরেও প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে অংশ নেওয়ার সুযোগ বাড়বে শিক্ষার্থীদের জন্য। এই অ্যাকাডেমি যারা আবাসিক হিসেবে যাঁদের নাম অন্তর্ভুক্তি হবে তাদের পড়াশোনার দায়িত্বও নেবে এই গোষ্ঠী (Cricket Academy)।
অ্যাকাডেমির অন্যতম আকর্ষণ সৌরাশিস লাহিড়ীর উপস্থিতি। তিনি টেকনিক্যাল ডিরেক্টর ও মেন্টর হিসেবে যুক্ত থাকবেন। তাঁর অভিজ্ঞতা প্রশিক্ষণ পদ্ধতি নির্ধারণ এবং তরুণ ক্রিকেটারদের গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি অ্যাথলিট ডেভেলপমেন্টে বিশেষ জোর দেওয়া হবে। দক্ষতার পাশাপাশি ম্যাচ পরিস্থিতিতে মানসিক দৃঢ়তা ও শৃঙ্খলা গড়ে তোলাও থাকবে মূল ফোকাসে। এর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন মিঃ রঞ্জন ভট্টাচার্য (ডিরেক্টর অফ স্পোর্টস এবং ট্রাইবাল টিম বেঙ্গলের কোচ)।
মেন্টর হিসেবে এই দিনের অনুষ্ঠানে সৌরাশিস লাহিড়ী বলেন, ‘আমি সম্মানিত। খেলার মঞ্চ গড়ে দিতে দারুন উদ্যোগ। সেরাটা দেব এখানে।’ তিনি আরও বলেন, তিনি আরও বলেন আমার ১০ বছরের কোচিংয়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাই। পরিকাঠামো বিশ্বসেরা, ইন্ডোর দারুন, ন্যাচারাল টার্ফ, ন্যাচারাল টার্ফ রানার রয়েছে এখানে।’ তিনি এই দিন এই উদ্যোগ নিয়ে যথেষ্ঠ আশা প্রকাশ করেছেন। তাঁর আশা ভবিষ্যতের ক্রিকেট প্রতিবাদের উঠে আসতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
আরও পড়ুন: Kimono Japan: জাপানে কিমোনো রহস্য: শেষ পর্যন্ত কী হল জেনে নিন
এই অ্যাকাডেমিতে ইতিমধ্যেই রয়েছে বিশ্বমানের পরিকাঠামো। যার মধ্যে রয়েছে একটি নিবেদিত প্র্যাকটিস গ্রাউন্ড, যেখানে তিনটি প্রাকৃতিক টার্ফ উইকেট এবং একটি সম্পূর্ণ সুসজ্জিত ইন্ডোর প্র্যাকটিস এরিনা। এই উদ্যোগের ভাবনায় রয়েছে বাংলা থেকেও যাতে আরও তরুণ প্রতিভা উঠে আসে বিশ্বমঞ্চে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আ্যডামাস টেক কনসাল্টিং-এর ডিরেক্টর রজতশুভ্র রায় ও সৌম্যশুভ্র রায়-সহ ক্রীড়া জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। এতদিন শিক্ষা ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকলেও, এই উদ্যোগের মাধ্যমে আ্যডামাস গোষ্ঠী যে সমন্বিত প্রতিভা বিকাশের পথে এগোচ্ছে, তা স্পষ্ট। শিক্ষা, প্রযুক্তি ও ক্রীড়ার মেলবন্ধনে ভবিষ্যতের পেশাদার তৈরির লক্ষ্যেই এই পরিকল্পনা। অ্যাকাডেমির কার্যক্রম শীঘ্রই শুরু হবে। ভর্তি, প্রশিক্ষণ ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য আগামী দিনে জানানো হবে (Cricket Academy)।


