Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিনা খরচে পড়াশোনা, থাকা এবং খাওয়ার টোপ দিয়ে বিহার থেকে ওড়িশায় শিশু পাচারের এক চাঞ্চল্যকর চক্রের হদিশ মিলল (Child Protection)। RPF-এর তৎপরতায় ওড়িশার কটক রেলস্টেশন থেকে উদ্ধার করা হয়েছে মোট ৫৯ জন নাবালককে। ‘অপারেশন নানহে ফরিশতে’-র আওতায় চালানো এই অভিযানে একটি বড়সড় পাচারচক্রের ইঙ্গিত মিলেছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

কটক স্টেশনে আরপিএফ-এর তৎপরতা (Child Protection)
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৪ এপ্রিল সন্ধ্যা প্রায় সাড়ে ৬টা নাগাদ Dhauli Express কটক স্টেশনের ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে এসে দাঁড়ায়। ট্রেন থেকে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে সারিবদ্ধভাবে নামতে দেখা যায় ৫৯ জন শিশুকে। এত সংখ্যক নাবালককে একসঙ্গে দেখে এবং তাদের মুখে স্পষ্ট আতঙ্ক ও বিভ্রান্তির ছাপ লক্ষ্য করে সন্দেহ হয় আরপিএফ কর্মীদের।
বিহার থেকে ওড়িশা (Child Protection)
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সঙ্গে সঙ্গেই ওই শিশুদের আটক করা হয় এবং শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ। পাশাপাশি চাইল্ডলাইন কর্তৃপক্ষকেও খবর দেওয়া হয়। প্রাথমিক জেরায় শিশুদের বক্তব্যে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তারা জানায়, বিহারের আরারিয়া জেলা থেকে প্রথমে তাদের কাটিহারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ট্রেনে করে Howrah Railway Station-এ আনা হয় এবং পরে সেখান থেকে কটকের উদ্দেশে রওনা করানো হয়।
মাদ্রাসায় ভর্তির প্রতিশ্রুতি (Child Protection)
শিশুরা আরও জানায়, হাওড়া স্টেশনে এক ব্যক্তি, যিনি নিজেকে ‘মৌলানা’ হিসেবে পরিচয় দেন, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি ওড়িশার একটি মাদ্রাসায় বিনামূল্যে ভর্তি, থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। দরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ায় উন্নত জীবনের আশায় তারা ওই প্রস্তাবে রাজি হয়ে যায়।
অভিযুক্তের অসংলগ্নতা (Child Protection)
অভিযুক্ত মহম্মদ আখলাদ নামে ওই ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি জগৎসিংপুর জেলার একটি মাদ্রাসায় শিশুদের ভর্তি করানোর উদ্দেশ্যেই নিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে আরপিএফ আধিকারিকরা যখন তাঁর কাছে শিশুদের অভিভাবকদের অনুমতিপত্র, পরিচয়পত্র বা ভর্তির কোনও বৈধ নথি দেখতে চান, তখন তিনি কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি। প্রয়োজনীয় নথিপত্রের অভাবেই তাঁর বক্তব্য নিয়ে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।
প্রশাসনের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ (Child Protection)
এরপরই তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে আরপিএফ। একইসঙ্গে উদ্ধার হওয়া শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের খাবার ও পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয় এবং পরে তাদের Child Welfare Committee (CWC)-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়।
তদন্তে নতুন দিশা (Child Protection)
আরপিএফ-এর এক আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে এই শিশুরা ওড়িশার বাসিন্দা নয় এবং কোনও বৈধ অভিভাবক ছাড়াই তাদের ভিন রাজ্যে আনা হচ্ছিল। এত বড় সংখ্যায় শিশুদের স্থানান্তরের পিছনে একটি সংগঠিত পাচারচক্র বা নেটওয়ার্ক সক্রিয় থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: Minakshi Mukherjee: “আইনের শাসন রসাতলে” মীনাক্ষীর মতে ভোটেই জবাব দেবে মানুষ!
এই ঘটনায় বিহার ও ওড়িশা—উভয় রাজ্যের পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে যৌথ তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্তকে জেরা করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে, এর আগে তিনি এমন কোনও পাচারচক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কিনা এবং এই চক্রে আর কারা কারা জড়িত। ঘটনাটি সামনে আসতেই শিশু সুরক্ষা ও আন্তঃরাজ্য পাচার প্রতিরোধ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রুখতে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে এবং সংশ্লিষ্ট সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



