Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কেটিভি বাংলা ডিজিটাল: ত্রয়ণ চক্রবর্তী: বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগকে কেন্দ্র করে গোটা রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে (Pabitra Sarkar)। ঘটনার তদন্ত, অভিযুক্তদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিতর্ক এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে যখন নানা মহলে আলোচনা চলছে, তখন এই ঘটনায় নিজের প্রতিক্রিয়া জানালেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের বিচার করতে গিয়ে কোনোভাবেই রাজনৈতিক পরিচয় বা দলীয় রংকে প্রাধান্য দেওয়া চলবে না। অপরাধী যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

‘আমি টেলিভিশন দেখি না’ (Pabitra Sarkar)
ঘটনা সম্পর্কে নিজের তথ্যসূত্র ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পবিত্র সরকার বলেন, তিনি নিয়মিত টেলিভিশনের খবর দেখেন না। সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতেই বিষয়টি সম্পর্কে ধারণা করেছেন। তার কথায়, সংবাদমাধ্যমে যা প্রকাশিত হয়েছে, তা থেকে তাঁর মনে হয়েছে যে, এই ঘটনায় অভিযুক্তদের সঙ্গে একটি রাজনৈতিক দলের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ উঠে এসেছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে পৌঁছনো উচিত নয়। বরং আইনকে তার নিজস্ব পথে চলতে দিতে হবে।
‘দল-মত নির্বিশেষে ধর্ষকের কঠোর শাস্তি হোক’ (Pabitra Sarkar)
ধর্ষণের মতো অপরাধের ক্ষেত্রে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অত্যন্ত কড়া অবস্থান নেন শিক্ষাবিদ। তিনি বলেন, সরকারকে অত্যন্ত দৃঢ়তা ও নির্মমতার সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে হবে। পবিত্র সরকারের বক্তব্য, যারা নারী নির্যাতন, ধর্ষণ কিংবা হত্যার মতো অপরাধ করে, তাদের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় দেখা চলবে না। অপরাধী যদি শাসক দলের হয়, বিরোধী দলের হয় অথবা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গেই যুক্ত না থাকে—সব ক্ষেত্রেই আইনের চোখে সমান বিচার হওয়া উচিত। তিনি বলেন, “ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। তার কোনো রাজনৈতিক রং দেখা চলবে না।” দলের লোককে বাঁচানোর অভিযোগে উদ্বেগ
প্রতিক্রিয়ায় তিনি আরও জানান, বিভিন্ন মহলে তিনি শুনেছেন যে অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ কেউ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করছে বা তাদের বাঁচানোর অভিযোগ উঠেছে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যদি সত্যিই এমন কিছু ঘটে থাকে, তবে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কোনো অপরাধীকে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে রক্ষা করা গণতান্ত্রিক সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। প্রশাসনের উচিত নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্য সামনে আনা এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা।
মুখ্যমন্ত্রীর সক্রিয় ভূমিকাকে স্বাগত (Pabitra Sarkar)
বারুইপুরে মুখ্যমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফর নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পবিত্র সরকার বলেন, এই ধরনের সংবেদনশীল ঘটনায় প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরের সক্রিয়তা ইতিবাচক বার্তা দেয়। তার মতে, মুখ্যমন্ত্রী যদি ঘটনাস্থলে যান এবং প্রশাসনকে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দেন, তবে তা তদন্তের গতি বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়ে সক্রিয়তা দেখাচ্ছেন। এই ধরনের ঘটনাকে খুব কড়া হাতে সামাল দিতে হবে।”
পার্ক স্ট্রিট কাণ্ডের সঙ্গে তুলনা (Pabitra Sarkar)
পার্ক স্ট্রিট গণধর্ষণ মামলার সময়কার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বর্তমান সময়ে সরকারের অবস্থানের তুলনা টানতে গিয়ে পবিত্র সরকার বলেন, তিনি লক্ষ্য করছেন যে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী নিজেকে সেই সময়কার বিতর্কিত অবস্থান থেকে আলাদা করে দেখানোর চেষ্টা করছেন। তার মতে, এই প্রচেষ্টা ইতিবাচক হলেও শুধুমাত্র বক্তব্য বা অবস্থান যথেষ্ট নয়। প্রকৃত মূল্যায়ন হবে বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে। তিনি বলেন, “বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী নিজেকে তফাৎ করার চেষ্টা করছেন। সেই চেষ্টা প্রশংসনীয়। তবে শেষ পর্যন্ত দেখতে হবে অপরাধীরা সত্যিই শাস্তি পায় কি না।”
‘বিচারই হোক সরকারের আসল পরিচয়’
পবিত্র সরকারের বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে একটি বিষয়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা। তিনি মনে করেন, অতীতের বহু ঘটনায় বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাই এবার প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, শুধু বিরোধী দলের কর্মী নয়, শাসক দলের কেউ অভিযুক্ত হলেও একইভাবে আইন প্রয়োগ করতে হবে। বিচার ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ভর করে আইনের সমান প্রয়োগের ওপর।

আরও পড়ুন: Diabetes Cure Temple: মন্দিরে গেলেই সারবে সুগার! কোথায় জানেন?
সমাজের প্রতি বার্তা
শেষে শিক্ষাবিদের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, ধর্ষণ কেবল একটি ফৌজদারি অপরাধ নয়, এটি সমাজের বিবেককে আঘাত করে। তাই রাজনৈতিক তরজা নয়, প্রাধান্য পাওয়া উচিত ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার এবং অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার প্রক্রিয়াকে।



