Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল : কাশ্মীর উপত্যকা বহু দশক ধরেই রক্ত, বারুদ আর হাহাকারের সাক্ষী (Pahalgam Kingpin)। তবু পহেলগাঁওয়ে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলা সেই দীর্ঘ ইতিহাসের মধ্যেও এক ভয়ংকর নজির হয়ে রয়ে যাবে। ধর্ম জিজ্ঞেস করে করে নিরীহ মানুষদের হত্যা, আতঙ্কে ছুটোছুটি, কান্নার রোল এই দৃশ্য শুধু কাশ্মীর নয়, গোটা ভারতকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। ২৬ জন নিরস্ত্র নাগরিকের মৃত্যু এক মুহূর্তে বদলে দিয়েছে অসংখ্য পরিবারের জীবন, আর দেশের স্মৃতিতে এঁকে দিয়েছে এক স্থায়ী শোকচিহ্ন। এই হামলা আবারও প্রমাণ করে দিল সন্ত্রাসবাদের কোনও ধর্ম নেই, কিন্তু সন্ত্রাসীরা ধর্মকেই অস্ত্র বানায়।

নৃশংসতার নেপথ্যে ‘মাস্টারমাইন্ড’ (Pahalgam Kingpin)
পহেলগাঁও হামলার পর তদন্তের কেন্দ্রে উঠে আসে লস্কর-ই-তইবার শীর্ষ নেতা সইফুল্লা কাসুরির নাম। দীর্ঘদিন ধরেই সে হাফিজ সইদের ‘ডানহাত’ হিসেবে পরিচিত। ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার মতে, উপত্যকায় একাধিক জঙ্গি হামলার নেপথ্য পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে সে অন্যতম। সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে সইফুল্লা কাসুরিকে প্রকাশ্যে দম্ভ করতে দেখা গিয়েছে। যদিও ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি, তবু তাতে যে বক্তব্য উঠে এসেছে, তা যথেষ্ট উদ্বেগজনক।
পাকিস্তানের মাটিতে প্রকাশ্য দম্ভ (Pahalgam Kingpin)
ভাইরাল ভিডিও অনুযায়ী, পাকিস্তানের একটি স্কুলের অনুষ্ঠানে ‘ভাষণ’ দিতে দেখা যায় সইফুল্লাকে। সেখানেই সে দাবি করে, পাকিস্তানি সেনার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। এমনকী, কোনও সেনা নিহত হলে শেষকৃত্যেও তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয় এই বক্তব্য সরাসরি পাকিস্তান সেনা ও জঙ্গি সংগঠনের যোগসাজশের দিকেই ইঙ্গিত করে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অংশটি আসে তখনই, যখন সে গর্বের সঙ্গে বলে, “তোমরা জানো, ভারত আমাকে ভয় পায়? আমাকে পহেলগাঁও হামলার মূলচক্রী ধরা হয়। আজ আমার নাম গোটা বিশ্বে পরিচিত।” এই বক্তব্য শুধুমাত্র দম্ভ নয়, বরং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের এক নগ্ন আত্মপ্রকাশ।
‘অপারেশন সিঁদুর’ ও জঙ্গির খোঁচা (Pahalgam Kingpin)
ভিডিওতে সইফুল্লাকে ভারতীয় সেনার ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়েও কটাক্ষ করতে শোনা যায়। তার বক্তব্য, বেছে বেছে জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে ভারত নাকি “বড় ভুল” করেছে। এই মন্তব্য আসলে ভারতের কৌশলগত সাফল্যকেই স্বীকার করে নেওয়ার নামান্তর। কারণ, যদি এই অভিযান তুচ্ছ হতো, তবে তা নিয়ে জঙ্গি নেতাদের এমন প্রতিক্রিয়া আসত না।
পাকিস্তানের অস্বীকার ও বাস্তব সত্য (Pahalgam Kingpin)
পাকিস্তান বরাবরই দাবি করে এসেছে তাদের মাটিতে কোনও জঙ্গি আশ্রয় পায় না। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। আন্তর্জাতিক মহলের চাপেই একসময় পাকিস্তানকে ‘ধূসর তালিকা’য় স্থান পেতে হয়েছিল। তাতেও যে বাস্তবতার খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি, তা সইফুল্লার মতো নেতাদের প্রকাশ্য কার্যকলাপই প্রমাণ করে। স্কুলের মঞ্চে দাঁড়িয়ে এক জঙ্গি নেতার এমন ভাষণ, আর তার সঙ্গে সেনার সম্পর্কের দাবি এগুলো কাকতালীয় হতে পারে না।

আরও পড়ুন : Narendra Modi: সোমনাথ মন্দির নিয়ে বার্তা মোদির
কাশ্মীর, সন্ত্রাস ও ভারতের লড়াই
পহেলগাঁও হামলা আবারও দেখিয়ে দিল, কাশ্মীরের সমস্যা শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ নয় এটি আন্তর্জাতিক মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদের ফল। নিরীহ মানুষদের হত্যা করে ভয় তৈরি করাই এই জঙ্গিদের লক্ষ্য। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী, এই ভয় কখনও ভারতের গণতান্ত্রিক শক্তিকে ভাঙতে পারেনি। প্রতিটি হামলার পর দেশ আরও দৃঢ় হয়েছে, আরও ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।



