Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল : ভারতীয় সভ্যতা ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের এক অনন্য স্মারক গুজরাটের সোমনাথ মন্দির (Narendra Modi)। কেবল একটি ধর্মীয় স্থাপত্য নয়, ইতিহাসের ধারায় বারবার ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে আসা এক অদম্য আত্মবিশ্বাসের প্রতীক এই মন্দির। শিবভক্তদের কাছে এটি দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম, আবার জাতীয় চেতনায় সোমনাথ মানেই অবিনাশী স্বাভিমান।

‘সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব’ (Narendra Modi)
রবিবার ‘সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব’ উপলক্ষে সমাজমাধ্যমে এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে তিনি লেখেন, “চিরন্তন দেবত্বের মূর্ত প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সোমনাথ মন্দির। এর পবিত্র উপস্থিতি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষকে পথ দেখিয়ে এসেছে।” এই বার্তার সঙ্গে তিনি শনিবার অনুষ্ঠিত মন্দিরের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার ছবি এবং ওঙ্কার মন্ত্রপাঠের এক মনোমুগ্ধকর ড্রোন ভিডিও শেয়ার করেন। তাঁর এই পোস্টে স্পষ্টভাবে উঠে আসে সোমনাথের সঙ্গে ভারতীয় আত্মপরিচয়ের গভীর যোগসূত্র।
ইতিহাসের ক্ষত ও পুনর্জাগরণের কাহিনি (Narendra Modi)
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, আজ থেকে ঠিক এক হাজার বছর আগে ১০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে প্রথমবার আক্রমণের শিকার হয়েছিল এই পবিত্র মন্দির। একাধিকবার লুন্ঠিত ও ধ্বংসপ্রাপ্ত হলেও সোমনাথ কখনও মুছে যায়নি ইতিহাসের পাতা থেকে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই স্মরণ করিয়ে দেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে বারবার ফিনিক্স পাখির মতো জেগে ওঠাই সোমনাথের প্রকৃত পরিচয়। এই পুনর্জাগরণই ভারতীয় সংস্কৃতির চিরন্তন শক্তির প্রতিফলন।

স্বাধীন ভারতের নির্মাণ (Narendra Modi)
১৯৫১ সালে স্বাধীন ভারতের প্রথম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের উদ্যোগে সোমনাথ মন্দিরের আধুনিক পুনর্গঠন সম্পন্ন হয়। এটি ছিল কেবল একটি মন্দির নির্মাণ নয়, বরং স্বাধীন ভারতের আত্মমর্যাদার পুনঃপ্রতিষ্ঠা। ২০০১ সালে সেই পুনর্গঠনের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী এবং লালকৃষ্ণ আডবাণী। আর চলতি ২০২৬ সালে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের ৭৫ বছর পূর্তি হতে চলেছে যা আরও এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।
শৌর্য যাত্রা ও ধর্মীয় আচার (Narendra Modi)
রবিবার সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে শুরু হয় ‘শৌর্য যাত্রা’ যা সাহস, ঐতিহ্য ও আত্মমর্যাদার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। প্রধানমন্ত্রী নিজে এই শোভাযাত্রায় অংশ নেন। এরপর সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে ঐতিহাসিক সোমনাথ মন্দিরে পুজো দেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
সদভাবনা ময়দানে ভাষণ ও উন্নয়ন বার্তা (Narendra Modi)
মন্দির দর্শনের পর সদভাবনা ময়দানে আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও উন্নয়নের মেলবন্ধনের কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে ধর্মীয় আস্থার পাশাপাশি জাতীয় উন্নয়ন ও আত্মনির্ভর ভারতের ভাবনাও গুরুত্ব পায়।

আরও পড়ুন : Bangladesh: বিএনপির চেয়ারম্যান পদে তারেক রহমান: নির্বাচনের আগে পদক্ষেপ তাৎপর্যপূর্ণ, দাবি রাজনৈতিক মহলের
গুজরাট সফরের বাকি কর্মসূচি
সোমনাথ থেকে প্রধানমন্ত্রী রাজকোটে রওনা দেন। দুপুর ১টা ৩৫ মিনিট নাগাদ মারওয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত বাণিজ্য মেলা ও প্রদর্শনীতে অংশ নেন তিনি। এরপর দুপুর ২টা নাগাদ কচ্ছ ও সৌরাষ্ট্র অঞ্চলের জন্য আয়োজিত ভাইব্র্যান্ট গুজরাট সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। এই সফরে ধর্মীয় ঐতিহ্যের পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বিনিয়োগের বার্তাও সমান গুরুত্ব পেয়েছে।



