Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ফের ভয়াবহ জঙ্গি হামলা (Pakistan Blast)। শনিবার খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের ডেরা ইসমাইল খান জেলার দারাজিন্দা এলাকার আমান মেলার কাছে একটি নিরাপত্তা চেকপোস্টে শক্তিশালী বিস্ফোরণে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন বহু মানুষ। প্রাথমিক ভাবে ৩০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। পাকিস্তানের জরুরি পরিষেবা সংস্থা রেসকিউ ১১২২ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে।

বিস্ফোরণের পর দ্রুত শুরু উদ্ধারকাজ (Pakistan Blast)
বিস্ফোরণের অভিঘাতে ঘটনাস্থলে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত সেখানে পৌঁছন উদ্ধারকারী দল, পুলিশ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। আহতদের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়। গুরুতর আহতদের কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র স্থানান্তরের ব্যবস্থাও করা হয়। উদ্ধারকারীরা দীর্ঘ সময় ধরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালান।
গাড়িবোমা হামলার সন্দেহ (Pakistan Blast)
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বিস্ফোরণটি একটি নিরাপত্তা চেকপোস্টকে লক্ষ্য করে ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি ব্যবহার করে হামলার সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। তবে তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত হামলার ধরন ও বিস্ফোরণের পদ্ধতি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছে না প্রশাসন।
দায় স্বীকার তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের (Pakistan Blast)
ঘটনার পর হামলার দায় স্বীকার করেছে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান বা টিটিপি। পাকিস্তানি তালিবান নামেও পরিচিত এই সশস্ত্র সংগঠনটি অতীতেও দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একাধিক হামলার দায় স্বীকার করেছে। শনিবারের হামলার ক্ষেত্রেও সংগঠনটি একটি বিবৃতিতে দায়িত্ব স্বীকার করেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই জঙ্গি হামলার নিশানায় এলাকা (Pakistan Blast)
ডেরা ইসমাইল খান খাইবার পাখতুনখোয়ার গুরুত্বপূর্ণ একটি জেলা। আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী অঞ্চলের কাছাকাছি হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই এলাকাটি নিরাপত্তার দিক থেকে স্পর্শকাতর। পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে জঙ্গি হামলার ঘটনাও বেড়েছে। ফলে নতুন করে এই বিস্ফোরণ পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
তদন্ত ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ
বিস্ফোরণের পর পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে তল্লাশি ও তদন্ত শুরু করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। হামলার নেপথ্যে আরও কোনও সংগঠন বা ব্যক্তি যুক্ত ছিল কি না, বিস্ফোরকের উৎস কী এবং হামলার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য কী ছিল—সেই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তকারীরা। এদিকে আহতদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। উদ্ধার ও তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হবে না।



