Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: কলকাতার কলেজ স্ট্রিট বইপাড়ায় বৃষ্টি নেমে এসেছে যেন অভিশাপ হয়ে। মঙ্গলবার ভোররাতে আকাশ ভেঙে মুষলধারে বৃষ্টিতে হাঁটু জল জমেছে গোটা বইপাড়ায় (College Street)। সেই জলে ভেসে গিয়েছে লক্ষ লক্ষ নতুন বই। বহুপ্রতীক্ষিত পুজোসংখ্যা থেকে শুরু করে ক্লাসিক সাহিত্য, কমিক্স, শিশুতোষ—কোনও কিছুই রেহাই পায়নি।
পুজোর সেরা বইও রক্ষা পেল না প্রকৃতির কোপ থেকে। দীপ প্রকাশনের দীপ্তাংশু মণ্ডল জানালেন, “আমাদের তিন লক্ষ টাকার বই একেবারে শেষ (College Street)। সদ্যপ্রকাশিত ‘মহাস্থবির জাতক’ আর ‘আলো আঁধারির গোপাল পাঁঠা’ দারুণ বিক্রি হচ্ছিল। কিন্তু এখন বইয়ের পাতা ফুলে গিয়ে ছিঁড়ে যাচ্ছে—বিক্রির অযোগ্য।”
আরও পড়ুন:Durga Puja Pandals in Kolkata: পুজোর মুখে দুর্যোগে জেরবার কলকাতা, প্রস্তুতিতে জল ঢালছে অকালবৃষ্টি!
শুধু দীপ প্রকাশনই নয়, পত্রভারতী, দে’জ পাবলিশিং, ধ্যানবিন্দু, বুকফার্ম—ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় শতাধিক প্রকাশক ক্ষতিগ্রস্ত।
ছাপাখানাও জলের তলায়, বিকল প্রিন্ট মেশিন (College Street)
সহস্র কপি লিটল ম্যাগাজিন ভিজে গেল মৌলালির প্রেসে। ধ্যানবিন্দু প্রকাশনার অভীক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, “প্রায় ৬০ হাজার টাকার লিটল ম্যাগাজিন ছাপানো হচ্ছিল মৌলালিতে (College Street)। ছাপাখানায় জল ঢুকে সব বই নষ্ট। সকালে সাইকেল চালিয়ে দোকানে গিয়ে দেখি—জলের নিচে ডুবে সব বই। এতটাই ভিজেছে যে বিশাল ছাড়েও বিক্রি করা অসম্ভব।”
বীমা, আধার, পরিকল্পনার অভাবে সংকটে ছোট প্রকাশক (College Street)
“পরিস্থিতি না বদলালে বিপদ বাড়বে”—গিল্ডের হুঁশিয়ারি। পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ডের কর্তা ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায়ের মতে, “কমবেশি সবাই ক্ষতিগ্রস্ত। পত্রভারতীরও বড় ক্ষতি হয়েছে। বীমা ক্লেম করা হচ্ছে। কিন্তু সমস্যা হল, অনেক ছোট প্রকাশকের আধার বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই। পরিকল্পনাহীনভাবে চলছে এই ব্যবসা, যা দ্রুত বদলানো প্রয়োজন।”
আরও পড়ুন:Weather Update: আবারও নিম্নচাপ! অষ্টমীতেও মেঘের চোখ রাঙানি…
আমফানেও যে ক্ষতি হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি ঘটল এবার বৃষ্টিতে। প্রকাশকদের এখন একটাই আশা—মা দুর্গার কৃপা।


