Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভাদ্রমাসের শেষ দিন মানেই বাংলার (Ranna Pujo) বহু ঘরে ব্যস্ততা। কারণ পরের দিন অরন্ধন। তাই তার আগের রাতে চলে নানা পদ রান্নার আয়োজন। উনুনে একের পর এক পদ তৈরি হয়, তারপর সেই উনুন নিভিয়ে রাখা হয়। এই বিশেষ রীতিই পরিচিত ‘রান্না পুজো’ নামে।
ভাদ্রে রেঁধে আশ্বিনে খাওয়া (Ranna Pujo)
‘ভাদ্রে রেঁধে আশ্বিনে খাওয়া’-এই প্রচলিত কথার (Ranna Pujo) মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে এই উৎসবের মূল ভাবনা। রান্না পুজো শুধু খাবারের আয়োজন নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলার লোকবিশ্বাস, প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক এবং পারিবারিক ঐতিহ্য।
দেবী মনসার আরাধনার সঙ্গে যুক্ত (Ranna Pujo)
লোককথা অনুযায়ী, রান্না পুজোর সম্পর্ক দেবী মনসার আরাধনার সঙ্গে যুক্ত। বিশ্বাস করা হয়, দেবীকে শান্ত করতে বছরে একটি দিন উনুনে আগুন না জ্বালানোর রীতি শুরু হয়েছিল। আবার বাংলার লোকজ ইতিহাসে এর সঙ্গে সাপের ভয়ও জড়িয়ে আছে। ভাদ্রমাসে বন্যার সময় সাপ শুকনো জায়গার সন্ধানে মানুষের বসতিতে ঢুকে পড়ত। মাটির উনুন ছিল তাদের আশ্রয়ের অন্যতম জায়গা। তাই একদিন উনুনে আগুন না জ্বালিয়ে সাপ ও প্রকৃতির প্রতি সহমর্মিতা দেখানোর রীতিও প্রচলিত হয়েছিল বলে মনে করা হয়।
আরও পড়ুন: Airport Connectivity: বিমান যোগাযোগে জোর, রাজ্যের চার প্রকল্পে মউ স্বাক্ষরের প্রস্তুতি
রান্না পুজোর অন্যতম আকর্ষণ অবশ্যই খাবার। ভাদ্রের শেষ রাতে তৈরি হয় নানা রকম ভাজা, শাক, ডাল, টক, মাছ ও অন্যান্য ব্যঞ্জন। অনেক বাড়িতে সাত থেকে তেরো রকম ভাজার আয়োজন করা হয়। রান্না করা ভাত জলে ভিজিয়ে রাখা হয়, যা পরদিন পান্তা হিসেবে পরিবেশন করা হয়।


