Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘দেবদাস’ শুধু একটি ব্যর্থ প্রেমের গল্প নয়, বরং ভালোবাসা, সামাজিক বাধা, আত্মদ্বন্দ্ব এবং অনুশোচনার এক গভীর মানবিক আখ্যান (Devdas in Pakistan)। ১৯১৭ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাস সময়ের সীমানা অতিক্রম করে আজও পাঠক-দর্শকের আবেগকে স্পর্শ করে।

বাংলা থেকে ভারতীয় সিনেমার পর্দায় (Devdas in Pakistan)
‘দেবদাস’ বারবার ভারতীয় সিনেমায় নতুন রূপ পেয়েছে। প্রমথেশ বড়ুয়া থেকে বিমল রায়, পরবর্তীতে সঞ্জয় লীলা বনশালী—বিভিন্ন পরিচালক নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গিতে এই কাহিনিকে পর্দায় তুলে ধরেছেন। বাংলা ও হিন্দির পাশাপাশি তামিল, তেলুগু, কন্নড়, মালয়ালম ও অসমিয়া ভাষাতেও গল্পটি চলচ্চিত্রের রূপ পেয়েছে।
পাকিস্তানেও পৌঁছেছিল শরৎচন্দ্রের প্রেমকাহিনি (Devdas in Pakistan)
ভারতের গণ্ডি পেরিয়ে ‘দেবদাস’ পৌঁছে যায় তৎকালীন পাকিস্তানের চলচ্চিত্র জগতেও। ১৯৬৫ সালে পরিচালক খাজা সরফরাজ উর্দু ভাষায় তৈরি করেন ‘দেবদাস’। রাজনৈতিক বিভাজনের পরও শরৎচন্দ্রের গল্পের আবেগ যে দুই দেশের দর্শকের কাছেই গ্রহণযোগ্য ছিল, এই ছবির নির্মাণ তারই উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত।
পাকিস্তানি পর্দায় দেবদাস-দু’জগত (Devdas in Pakistan)
ছবিতে দেবদাসের ভূমিকায় অভিনয় করেন হাবিব। পার্বতীর চরিত্রে ছিলেন শামিম আরা এবং চন্দ্রমুখীর ভূমিকায় নায়ার সুলতানা। পাশাপাশি আসাদ বুখারি, আজাদ, আজমল, মায়া দেবী ও রাজিয়ার মতো শিল্পীরাও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন। পরবর্তীকালের অ্যাকশন তারকা সুলতান রাহিকেও অতিথি শিল্পী হিসেবে দেখা যায়।
অভিনয় নিয়ে উঠেছিল প্রশ্ন (Devdas in Pakistan)
ছবিটি ঘিরে আগ্রহ থাকলেও অভিনয় নিয়ে সমালোচনাও হয়েছিল। তৎকালীন ‘The Illustrated Weekly of Pakistan’-এর পর্যালোচনায় হাবিবের দেবদাস চরিত্রে অভিনয় নিয়ে হতাশা প্রকাশ করা হয়। চন্দ্রমুখীর চরিত্রে নায়ার সুলতানার অভিনয় নিয়েও সমালোচনার কথা উঠে আসে।
প্রশংসার কেন্দ্রে শামিম আরা (Devdas in Pakistan)
তবে সেই সমালোচনার মধ্যেও ব্যতিক্রম ছিলেন শামিম আরা। পার্বতীর বিচ্ছেদবেদনা, আবেগ এবং আত্মত্যাগকে তিনি যথাযথভাবে ফুটিয়ে তুলতে পেরেছিলেন বলে সমালোচকদের প্রশংসা পান। তাঁর অভিনয় ছবিটির অন্যতম আলোচিত দিক হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন: USA: ট্রাম্পের ভিসা কড়াকড়ি সত্ত্বেও আমেরিকায় বাড়ছে ভারতীয়
কাঁটাতারের ওপারেও একই আবেগ
‘দেবদাস’-এর পাকিস্তানি সংস্করণ আসলে মনে করিয়ে দেয়, সাহিত্য ও শিল্পের আবেগ রাজনৈতিক সীমানায় আটকে থাকে না। দেবদাসের অপূর্ণতা, পার্বতীর অপেক্ষা এবং চন্দ্রমুখীর ভালোবাসা ভারতীয় দর্শকের মতোই সীমান্তের ওপারের দর্শকের কাছেও অনুরণিত হয়েছিল। শরৎচন্দ্রের সৃষ্টি তাই শুধু একটি যুগের নয়—মানুষের চিরন্তন আবেগের গল্প।



