Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আরজি করে (RG Kar Case) তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় কেটে গিয়েছে দু’বছর। আদালতের নির্দেশে নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে সিবিআই-এর নতুন তদন্তকারী দল। কিন্তু তাতেও চরম ক্ষুব্ধ কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার সিবিআই-এর নতুন তদন্তকারী দলের জমা দেওয়ার রিপোর্ট নিয়ে চরম বিরক্তি প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট।
সবকিছু নতুন করে খতিয়ে দেখার নির্দেশ (RG Kar Case)
আরজি কর হাসপাতালের ঘটনাস্থল থেকে শুরু করে শ্মশানঘাট (RG Kar Case) পর্যন্ত কোথায় কী কী হয়েছে, তা নতুন করে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিলেন বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের পর্যবেক্ষণ, তদন্ত সঠিক পথে এগোচ্ছে না। তদন্তে নেমে যা যা করার দরকার ছিল সিবিআই তা করছে না। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার জমা দেওয়ার নতুন তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে চরম বিরক্তি প্রকাশ করেন দুই বিচারপতি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কীভাবে তদন্তকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিৎ, পর্যবেক্ষণে সেই পরামর্শ দেয় আদালত। তারপরই এদিন আদালতের কাছে কিছুটা সময় চায় সিবিআই। আগামী ২৮ আগস্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানি। ওইদিন সিবিআইয়ের তদন্তের অগ্রগতি কী অবস্থায় রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়ে দিল বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ।
গ্রেফতার করা হয়েছিল সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে (RG Kar Case)
আরজি করের এই ঘটনায় পুলিশের হাতে তদন্তভার থাকা (RG Kar Case) অবস্থাতেই গ্রেফতার করা হয়েছিল সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে। পরবর্তীতে, হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তভার সিবিআই-এর হাতে যায়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দেওয়া চাটশিটেও সঞ্জয় রায়কেই একমাত্র মূল অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এরপর শিয়ালদহ আদালত সঞ্জয় রায়কে একমাত্র দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের নির্দেশ দেয়।
সিবিআই-এর ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ (RG Kar Case)
প্রথম থেকেই পুলিশ এবং সিবিআই-এর তদন্ত নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন (RG Kar Case) নির্যাতিতার পরিবার। তদন্তে সিবিআই-এর ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে নতুন করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলাও করে নির্যাতিতার পরিবার। হাইকোর্ট নতুন করে সিবিআই-কে এই ঘটনার তদন্ত করার নির্দেশ দেয়।
কলকাতা হাইকোর্টের এই নির্দেশের পর আরজি কর-এর ঘটনায় নতুন করে সিট গঠন করে তদন্ত শুরু করে সিবিআই। বৃহস্পতিবার আদালতে তাদের তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সেই রিপোর্ট দেখেই সিবিআই এর তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ।
এদিন বিচারপতিরা তাদের পর্যবেক্ষণে জানান, পুরনো তদন্তের দাঁড়ায় প্রভাবিত হচ্ছে নতুন তদন্তকারী দল। বিচারপতি শম্পা সরকার সিবিআই-এর আইনজীবীর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘এই মামলার প্রথম দিন থেকেই আমরা বলছি ঘটনার দিন ঘটনাস্থল থেকে শুরু করে শ্মশানঘাট পর্যন্ত কী কী ঘটেছে, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পুনরায় খতিয়ে দেখুন। কিন্তু তা করা হচ্ছে না। আগে কী তদন্ত হয়েছে ভুলে যান। পুরনো সবকিছুকে সরিয়ে রেখে নতুন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখুন। আগের তদন্ত থেকে প্রভাবিত হয়ে নতুন তদন্ত করবেন না।সকলে বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে। আর কত দিনে সেটা মিলবে?’
এদিন শুনানিতে নির্যাতিতার পরিবারের আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ণ চট্টোপাধ্যায় আদালতে দাবি করেন, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ঘটনার দিন নির্যাতিতা চিকিৎসক আরও চারজন জুনিয়র চিকিৎসকের সঙ্গে নৈশভোজ সেরেছিলেন। তাঁদের সঙ্গে হাসপাতালে তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের ভালো যোগাযোগ ছিল। ওই চারজন জুনিয়র চিকিৎসককে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানানো হয়েছিল। তিনি আদালতে আরও দাবি করেন, ঘটনার দিন রাতে নির্যাতিতার সঙ্গে নৈশভোজ করেছিলেন সৌমিত্র রায় নামে একজন জুনিয়র চিকিৎসক। কিন্তু কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তাঁর বয়ান এখনও পর্যন্ত রেকর্ড করেনি।
নির্যাতিতার পরিবারের আইনজীবী আদালতে বলেন, ‘ঘটনার আগে কী ঘটেছিল, তা এখনও পর্যন্ত তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে না। ওইদিন নির্যাতিতার সঙ্গে চারজন জুনিয়র চিকিৎসক নৈশভোজ সেরেছিলেন। তাঁদের সকলের সঙ্গে তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের যোগাযোগ ছিল কি না, তা কেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে না? কেন তাঁদের এখনও গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে না?’
এই অভিযোগ পাওয়ার পরই বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ সিবিআই এর আইনজীবির উদ্দেশ্যে জিজ্ঞাসা করেন, ঘটনার পরের দিন সকালে কখন নির্যাতিতার মাকে হাসপাতালে ডাকা হয় এবং সেই চার জুনিয়র চিকিৎসকের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে কি না। তার উত্তরে আদালতকে সিবিআই জানায়, সবদিক নতুন করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিবিআই-এর আইনজীবী বলেন, ‘আমরা নিজেদের সেরাটা দিয়ে তদন্ত করার চেষ্টা করছি। সমস্ত দিক ও অভিযোগ খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে। কোথাও কোনও সংকেত রয়েছে কিনা তাও দেখা হচ্ছে। আমাদের দক্ষ অফিসাররা কাজ করছেন। নতুন করে তদন্ত অনেকটাই এগিয়েছে। তদন্তে কোনও রকম গাফিলতি হবে না, তা আমরা নিশ্চিত করছি।’ সিবিআই-এর এই বক্তব্যের পরই বিচারপতি শম্পা সরকার বলেন, আদালত তদন্তের চূড়ান্ত অগ্রগতি দেখতে চায়। আগামী ২৮ আগস্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন আদালত তা দেখবে।


