Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভারতীয় দলে জায়গা করে নেওয়াই এখন রোহিত শর্মার অন্যতম লক্ষ্য (Rohit Sharma)। বয়স তখন ৪০-এর কাছাকাছি পৌঁছবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বর্তমানে শুধুমাত্র ওয়ানডে ফরম্যাটেই খেলছেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক। ব্যাট হাতে রান করলেও তাঁর ফিটনেস ও শারীরিক গঠন নিয়ে মাঝেমধ্যেই সমালোচনা হয়। এবার সেই বিতর্কে রোহিতের পাশে দাঁড়ালেন ভারতের প্রাক্তন স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ সোহম দেশাই। তাঁর দাবি, রোহিতের ফিটনেসের পিছনে রয়েছে গুরুতর চোটের ইতিহাস। সেই চোটের প্রভাব সামলে দীর্ঘদিন সর্বোচ্চ পর্যায়ে ক্রিকেট খেলার জন্য নিয়মিত কঠোর পরিশ্রম করতে হয় তাঁকে।
রোহিতের ফিটনেসের বড় চ্যালেঞ্জ (Rohit Sharma)
প্রশান্ত দেশাইয়ের সঙ্গে একটি পডকাস্টে কথা বলতে গিয়ে সোহম জানান, ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সময় গুরুতর চোট পেয়েছিলেন রোহিত। সেই চোট তাঁর কেরিয়ারের জন্য বড়সড় বিপদ হয়ে উঠেছিল। হ্যামস্ট্রিং এবং হিপ ফ্লেক্সর-সহ শরীরের একাধিক জায়গায় অস্ত্রোপচারও করতে হয়েছে ভারতীয় তারকাকে।
রোহিতকে অলস বলে কটাক্ষ করার বিরোধিতা করে সোহম বলেন, “অনেকে বলে রোহিত অলস, মোটা এবং অনুশীলন করে না। কিন্তু মানুষকে বুঝতে হবে, ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সময় ওর এমন চোট লেগেছিল, যা কেরিয়ারের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল। হ্যামস্ট্রিং, হিপ ফ্লেক্সর-সহ বিভিন্ন জায়গায় অস্ত্রোপচার হয়েছে ওর।”
শক্তি বাড়ানোর অনুশীলন জরুরি (Rohit Sharma)
সোহমের মতে, রোহিতের হিপের আশপাশের অংশ এখনও তাঁর শরীরের দুর্বল জায়গা। সেই কারণে সপ্তাহে অন্তত দু’টি স্ট্রেন্থ ট্রেনিং সেশন করা তাঁর পক্ষে অত্যন্ত জরুরি। অনুশীলনে কোনওরকম ঘাটতি হলে চোটের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
প্রাক্তন কোচের কথায়, “গত সাত-আট বছর ধরে এটাই রোহিতের অবস্থা। ও যদি পরিশ্রম না করত বা সত্যিই অলস হতো, তা হলে এত দিন ধরে ক্রিকেট খেলতে পারত না।”
ফিটনেস ধরে রাখাও বড় চ্যালেঞ্জ (Rohit Sharma)
শুধু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নয়, আইপিএলের মতো দীর্ঘ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ টুর্নামেন্টে খেলতে গেলেও রোহিতকে নিয়মিত ফিটনেসের উপর জোর দিতে হয় বলে জানান সোহম। দীর্ঘদিন সর্বোচ্চ পর্যায়ে ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ পদ্ধতি মেনে চলা তাঁর কাছে কার্যত বাধ্যতামূলক।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখা এবং পুরনো চোটের পুনরাবৃত্তি এড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ। তাই রোহিতের ক্ষেত্রে পরিকল্পিত অনুশীলন ও শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
রোহিত-বিরাটের প্রশিক্ষণ আলাদা (Rohit Sharma)
রোহিতের ফিটনেস প্রসঙ্গে বিরাট কোহলির সঙ্গেও তুলনা টানেন প্রাক্তন কোচ। তাঁর ব্যাখ্যা, দুই ক্রিকেটারের প্রশিক্ষণের ধরন এক নয়। রোহিতের খেলার ধরন অনেকটাই শক্তি, ক্ষমতা এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়ার উপর নির্ভরশীল। তাই তাঁর জন্য নির্দিষ্ট ধরনের স্ট্রেন্থ ট্রেনিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সোহমের কথায়, “রোহিতের চোটের ইতিহাসের কারণে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে শক্তিবর্ধক অনুশীলন করা জরুরি। তা না হলে শারীরিক দুর্বলতা আরও বাড়তে পারে। পাশাপাশি হ্যামস্ট্রিং, কোয়াড্রিসেপস-সহ পায়ের বিভিন্ন পেশিকে সঠিক ছন্দে রাখতে নিয়মিত দৌড়নোর অনুশীলনও করতে হবে।”
অন্যদিকে, বিরাট কোহলির প্রশিক্ষণ পদ্ধতি কিছুটা আলাদা। তাঁর ক্ষেত্রে মাঠের অনুশীলনের পাশাপাশি ওজন তোলা ও শক্তিবর্ধক ব্যায়ামও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
২০২৭ বিশ্বকাপের লক্ষ্যে রোহিত (Rohit Sharma)
সব মিলিয়ে, রোহিতের শারীরিক গঠন দেখে তাঁর ফিটনেস সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক নয় বলেই বোঝাতে চেয়েছেন সোহম (Rohit Sharma)। ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন পূরণ করতে হলে রোহিতকে ব্যাট হাতে ধারাবাহিকতার পাশাপাশি নিজের শারীরিক সক্ষমতাও ধরে রাখতে হবে।
আরও পড়ুন: Manpreet Singh: এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে ধাক্কা ভারতের, ছিটকে গেলেন মনপ্রীত সিং
পুরনো চোটের ইতিহাস মাথায় রেখে নিয়মিত ও পরিকল্পিত অনুশীলন চালিয়ে যাওয়াই হবে তাঁর প্রস্তুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বয়স বাড়লেও ভারতীয় ক্রিকেটে নিজের জায়গা ধরে রাখার লড়াইয়ে সেই প্রস্তুতিই হতে পারে রোহিতের বড় অস্ত্র।



