Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সাফ কাপের প্রস্তুতির জন্য কলকাতায় মাত্র দু’দিনের জাতীয় শিবির (SAFF)। তার পরেই মঙ্গলবার বাংলাদেশ উড়ে যাবে নৌশাদ মুসার ভারতীয় দল। কিন্তু পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে নামার আগে পুরো দলকে হাতে পাচ্ছেন না ভারতীয় কোচ। মাত্র ১৮ জন ফুটবলারকে নিয়েই টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ খেলতে হবে ভারতকে। পরিস্থিতি কঠিন হলেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয় নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী মুসা। তাঁর লক্ষ্য, সীমিত প্রস্তুতিকে বাধা হতে না দিয়ে সাফ কাপে ভালো ফল করা।
দায়িত্বে নৌশাদ মুসা, সহকারী বিবিয়ানো (SAFF)
সিনিয়র ভারতীয় দল নিউজিল্যান্ড সফরে যাওয়ায় সাফ কাপে কোচিংয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কোচ নৌশাদ মুসা। তাঁর সহকারী হিসেবে থাকছেন বিবিয়ানো ফার্নান্ডেজ। সদ্য আজারবাইজানে অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপে ভারতীয় দলের কোচিং করিয়ে কলকাতায় এসেছেন তিনি। সাফের ভারতীয় দলে সিনিয়রদের পরিবর্তে মূলত অনূর্ধ্ব-২৩ দলের ফুটবলাররাই রয়েছেন। এর আগে কলিন টোল, সুখবিন্দর সিং এবং আর্মান্দো কোলাসোও তরুণদের নিয়ে সাফে সাফল্য পেয়েছেন। তবে এ বার প্রস্তুতি ও ফুটবলার পাওয়ার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং।
সমস্যা ক্লাবের ফুটবলার ছাড়ায় (SAFF)
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি নির্ধারিত হয়েছে ৫ নভেম্বর, যা ফিফার আন্তর্জাতিক ম্যাচের ক্যালেন্ডারের নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে পড়ছে না। ফলে ওই ম্যাচের জন্য ফুটবলার ছাড়তে ক্লাবগুলির বাধ্যবাধকতা নেই। অন্য দিকে, গ্রুপের পরের ম্যাচে মালদ্বীপের মুখোমুখি হবে ভারত ফিফা ক্যালেন্ডারের নির্ধারিত সময়েই। তাই সেই ম্যাচের আগে বাকি ফুটবলারদের পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
মোহনবাগান, কেরালা ব্লাস্টার্স, পাঞ্জাব এফসি এবং মহামেডানের মতো ক্লাবগুলির কাছ থেকে সব ফুটবলারকে না পাওয়ায় পাকিস্তান ম্যাচে ১৮ জনের দল নিয়েই নামতে হচ্ছে ভারতকে। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন সাফ কর্তৃপক্ষের কাছে পাকিস্তান ম্যাচের দিন পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন করেছিল। কিন্তু সূচি পরিবর্তনে রাজি হয়নি সাফ। ফলে নির্ধারিত দিনেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলতে হবে ভারতকে।
প্রথম দিনেই মিলবে না পুরো দল (SAFF)
রবিবার রাতেই গুয়াহাটি থেকে কলকাতায় পৌঁছেছেন নৌশাদ মুসা। বিবিয়ানোও আজারবাইজান থেকে ফিরে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। সোমবার থেকে শুরু হবে প্রস্তুতি। প্রথম দিনের অনুশীলনে ১০-১২ জন ফুটবলারকে পাওয়ার আশা করছেন ভারতীয় কোচ। মঙ্গলবার বাংলাদেশ যাওয়ার আগে সকালের অনুশীলনে ১৮ জন ফুটবলারকে একসঙ্গে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ পাকিস্তান ম্যাচের আগে পুরো দল নিয়ে প্রস্তুতির সুযোগ কার্যত এক দিনেরও কম।
পাকিস্তানের খেলা দেখে আত্মবিশ্বাসী মুসা (SAFF)
প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন ভারতীয় কোচ। পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি ম্যাচ দেখে নিয়েছেন তিনি। প্রতিপক্ষ সম্পর্কে ধারণা নিয়েই দলকে মাঠে নামাতে চান মুসা। তাঁর কথায়, “পাকিস্তানের বেশ কয়েকটা খেলা দেখে নিয়েছি। মনে তো হয় না হারাতে কোনও সমস্যা হবে। আসলে ম্যাচটা ফিফা ডেটে না হওয়ায়, ক্লাবরাও সবাই ফুটবলার ছাড়তে পারছে না। কিন্তু মালদ্বীপ ম্যাচের আগেই বাকি ১০ জন ফুটবলারকে পেয়ে যাব আমরা।”
ফুটবলার না পেলেও আশাবাদী কোচ (SAFF)
নৌশাদ জানিয়েছেন, খেলা থাকায় পাকিস্তান ম্যাচের আগে ইস্টবেঙ্গল তাদের কোনও ফুটবলার ছাড়তে পারেনি। মোহনবাগান অবশ্য সাফের জন্য ফুটবলার ছেড়েছে। পাকিস্তান ম্যাচের পরে মালদ্বীপের বিরুদ্ধে খেলার আগে লিস্টন কোলাসোকেও ছেড়ে দিতে পারে সবুজ-মেরুন শিবির। ফলে দ্বিতীয় ম্যাচের আগে ২৮ জন ফুটবলারকে নিয়ে দল সাজানোর সুযোগ পাবেন মুসা।
আরও পড়ুন: Mohun Bagan vs Punjab FC: পিছিয়ে পড়েও পাঞ্জাব এফসি-কে হারিয়ে শীর্ষে মোহনবাগান
অজুহাত দিতে নারাজ মুসা (SAFF)
সাফ কাপের সূচি ও ক্লাবগুলির ব্যস্ততার কারণে প্রস্তুতি নিয়ে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই (SAFF)। তবু সেই পরিস্থিতিকে অজুহাত হিসেবে দেখতে নারাজ নৌশাদ মুসা। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে অভিযান শুরু করাই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য। পরবর্তী ম্যাচের আগে পুরো দলকে হাতে পেলে প্রস্তুতির ঘাটতি অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা যাবে বলে আশাবাদী ভারতীয় কোচ। সীমিত শক্তি নিয়ে শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত সাফের শিরোপা জেতার লক্ষ্যেই এগোতে চায় ভারতীয় দল।



