Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ত্রয়ণ চক্রবর্তী: দুর্গাপুজোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার পক্ষে স্পষ্ট বার্তা দিলেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, শুধু কলকাতার ঐতিহ্যবাহী কলেজ স্কোয়ার দুর্গাপুজোই নয়, রাজ্যের কোনও দুর্গাপুজো কমিটির সভাপতির পদ তিনি গ্রহণ করবেন না। একইসঙ্গে কোনও পুজোর পরিচালনার দায়িত্বও নিজের হাতে নেবেন না বলেই স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন তিনি।
‘আমি কোনও পুজো কমিটির সভাপতি হচ্ছি না’ (Samik Bhattacharya)
শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “কলেজ স্কোয়ারের দুর্গাপুজোর সভাপতি আমি হচ্ছি না। শুধু কলেজ স্কোয়ার নয়, রাজ্যের কোনও দুর্গাপুজোর সভাপতি আমি হব না, কিংবা কোনও পুজোর পরিচালনার দায়িত্ব নেব না।” তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে যেমন তাৎপর্যপূর্ণ, তেমনই দুর্গাপুজোর সাংস্কৃতিক চরিত্র নিয়ে নতুন করে আলোচনারও জন্ম দিয়েছে। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে বহু পুজো কমিটির সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের প্রত্যক্ষ যোগসূত্র নিয়ে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
পুজো কমিটির স্বাধীনতা বজায় রাখার বার্তা (Samik Bhattacharya)
শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্যে উঠে এসেছে পুজো কমিটির স্বাধীনতা ও স্বতন্ত্র পরিচয় বজায় রাখার বিষয়টি। তিনি বলেন, একজন বিধায়ক বা মন্ত্রী নিজের এলাকার কোনও পুজো কমিটির সভাপতি হতে পারেন, সেটি তাঁদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তবে সেই ঘটনাকে সাধারণ নিয়মে পরিণত করা উচিত নয়। তাঁর মতে, রাজনৈতিক নেতারা যদি একের পর এক পুজো কমিটির নেতৃত্ব নিজেদের হাতে তুলে নেন, তাহলে দুর্গাপুজোর সর্বজনীন চরিত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
‘দুর্গাপুজো সর্বজনের, কোনও রাজনৈতিক দলের নয়’ (Samik Bhattacharya)
নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “দুর্গাপুজো সর্বজনের, কোনও রাজনৈতিক দলের নয়।” তিনি মনে করেন, দুর্গাপুজো এমন একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসব, যেখানে ধর্ম, বর্ণ, মতাদর্শ কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষ একত্রিত হন। তাই এই উৎসবের পরিচালনায় রাজনৈতিক আধিপত্য নয়, বরং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
রাজনীতির বাইরে উৎসবের আবহ বজায় রাখার আহ্বান
শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্যে আরও উঠে এসেছে উৎসবকে রাজনীতির প্রভাব থেকে দূরে রাখার আহ্বান। তাঁর মতে, পুজো কমিটিগুলির স্বাধীনতা, স্বতন্ত্রতা এবং সর্বজনীন চরিত্র অক্ষুণ্ণ রাখা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, এই বিশ্বাস থেকেই তিনি কোনও পুজো কমিটির সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করবেন না। তাঁর বক্তব্য, “উৎসবের আনন্দ মানুষের হাতে থাকুক, রাজনীতির দখলে নয়।”
রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের ইঙ্গিত (Samik Bhattacharya)
শমীক ভট্টাচার্যের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন বড় দুর্গাপুজো কমিটির সঙ্গে রাজনৈতিক নেতাদের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রায়ই আলোচনা হয়। বিভিন্ন দলের জনপ্রতিনিধিরা বহু ক্ষেত্রে পুজো কমিটির সভাপতি বা প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। এই পরিস্থিতিতে বিজেপির রাজ্য সভাপতির এমন অবস্থান রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কেরও ইঙ্গিত দিচ্ছে। অনেকের মতে, এটি দুর্গাপুজোর সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখার পক্ষে একটি নীতিগত বার্তা। আবার রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ভবিষ্যতে অন্যান্য রাজনৈতিক দলও এই প্রসঙ্গে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে বাধ্য হতে পারে।
আরও পড়ুন: Kolkata Metro Rail: চালকবিহীন মেট্রোর পথে বড় সাফল্য, গ্রিন লাইনে মিলল প্রাথমিক ছাড়পত্র
উৎসবের মূল দর্শন অটুট রাখার বার্তা
দুর্গাপুজো শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি বাঙালির আবেগ, ঐতিহ্য ও সামাজিক সম্প্রীতির অন্যতম প্রতীক। সেই ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ণ রাখতে পুজো কমিটিগুলির স্বাধীনতা বজায় থাকা প্রয়োজন বলেই মত প্রকাশ করেছেন শমীক ভট্টাচার্য।



