Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ত্রয়ণ চক্রবর্তী: কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে আগামী নববর্ষে এক বৃহৎ সনাতনী ধর্মীয় অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে (Sanatan Dharma)। পূজ্য জগদগুরু শ্রী রামভদ্রাচার্যজি মহারাজের সান্নিধ্য ও দিকনির্দেশনায় প্রস্তাবিত এই অনুষ্ঠানে ১০০৮ কুণ্ডীয় মহাযজ্ঞের আয়োজন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, ধর্মীয় আচার, বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ এবং সনাতনী সংস্কৃতির বিভিন্ন দিককে সামনে রেখে এই অনুষ্ঠানকে বৃহৎ আকার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
রাষ্ট্র ও ধর্মের সংকল্পকে সামনে রেখে মহাযজ্ঞ (Sanatan Dharma)
প্রস্তাবিত মহাযজ্ঞে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার সংকল্প এবং বিভিন্ন কারণে ধর্মান্তরিত হিন্দুদের সনাতন ধর্মে ঘর-ওয়াপসির ভাবনাকে সামনে রাখা হয়েছে। ১০০৮টি যজ্ঞকুণ্ডে বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে রাষ্ট্র, ধর্ম ও সনাতন সমাজের বিভিন্ন সংকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ফলে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এর রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য নিয়েও ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে।
আচার্যের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সাক্ষাৎ (Sanatan Dharma)
এই উদ্যোগের প্রেক্ষাপটে বুধবার গভীর রাতে মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী আচার্য শ্রী রামচন্দ্র দাসজি মহারাজের সঙ্গে তাঁর বাসভবনে সাক্ষাৎ করেন এবং আশীর্বাদ গ্রহণ করেন বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। বৈঠকে আগামী নববর্ষ উপলক্ষে বাংলায় প্রস্তাবিত মহা-অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়। আচার্য মহারাজ অনুষ্ঠানের ব্যাপকতা তুলে ধরে প্রশাসন এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সহযোগিতার আবেদন জানান।
সহযোগিতার আশ্বাস, শুরু সংগঠন অভিযান (Sanatan Dharma)
প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন যে নতুন সরকার গঠিত হলে হিন্দুত্ব, সনাতন ধর্ম, ভারতীয় সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে ঘিরে বিভিন্ন উদ্যোগে পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে। পাশাপাশি কলকাতার শিল্পপতি, সমাজসেবী ও বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গেও এই অনুষ্ঠান নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে বৈঠক করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
বাংলার বিভিন্ন প্রান্তকে যুক্ত করার লক্ষ্য (Sanatan Dharma)
আয়োজকদের পরিকল্পনা শুধু কলকাতাকেন্দ্রিক অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বাংলার বিভিন্ন প্রান্তের সনাতনী সমাজ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সমাজসেবী, বুদ্ধিজীবী এবং শিল্পপতিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বৃহত্তর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। অনুষ্ঠান পরিচালনা, জনসমাগম, নিরাপত্তা, ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে রূপরেখা তৈরি করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:North Bengal: বাঙালি-ভাটিয়াদের নিয়ে মন্তব্যে আইনি জটিলতায় তৃণমূল যুবনেতা
ধর্মীয় অনুষ্ঠান থেকে বৃহত্তর বার্তার পরিকল্পনা
আয়োজকদের বক্তব্য অনুযায়ী, ১০০৮ কুণ্ডীয় এই মহাযজ্ঞকে শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় আচার হিসেবে দেখতে তাঁরা চান না। তাঁদের লক্ষ্য, সনাতন ঐক্য, সাংস্কৃতিক জাগরণ এবং রাষ্ট্রহিতের ভাবনাকে সামনে রেখে একটি বৃহত্তর মঞ্চ তৈরি করা। রামানন্দ মিশনের বঙ্গ শাখার প্রবীণ পদাধিকারীরাও অনুষ্ঠান ও আগামী দিনের প্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন।



