Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা যখন চরমে, সেই আবহে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে (Security Of S Jaishankar)। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, জয়শঙ্করের জন্য দু’টি বুলেটপ্রুফ গাড়ি বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি দিল্লিতে তাঁর সরকারি বাসভবনের বাইরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও বাড়ানো হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এই পদক্ষেপ ঘিরে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক জল্পনা।
পেছনে কোনও হুমকির ইঙ্গিত ? (Security Of S Jaishankar)
বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর বর্তমানে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পষ্টভাষী মুখ, যিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের অবস্থান দৃঢ়ভাবে তুলে ধরছেন(Security Of S Jaishankar)। পহেলগাঁও জঙ্গি হামলা, ভারত-পাক সীমান্ত উত্তেজনা, কূটনীতিক বহিষ্কার এবং পাকিস্তান ঘনিষ্ঠ চীনের ভূমিকাকে কেন্দ্র করে যখন ভারত কঠোর অবস্থান নিয়েছে, তখন জয়শঙ্করের (Dr. S. Jaishankar) নিরাপত্তা বাড়ানো নিছক নিয়মিত পদক্ষেপ নাকি নির্দিষ্ট কোনও হুমকির ইঙ্গিত—তা নিয়েই তৈরি হয়েছে চর্চা।
সম্ভাব্য ঝুঁকির আশঙ্কা ?(Security Of S Jaishankar)
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক অবশ্য এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও হুমকির কথা জানায়নি (Security Of S Jaishankar)। তবে পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, গোয়েন্দা রিপোর্টে সম্ভাব্য ঝুঁকির আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। বর্তমানে জয়শঙ্করের সুরক্ষায় রয়েছে Z ক্যাটেগরির নিরাপত্তা বলয়, যা ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ স্তরের সুরক্ষা। এই পর্যায়ের সুরক্ষায় ৩৩ জন সিআরপিএফ কমান্ডো সর্বক্ষণ প্রহরায় থাকেন। এ ছাড়াও থাকেন এনএসজি কমান্ডো, স্থানীয় পুলিশ এবং এসকর্ট গাড়িসহ একটি বুলেটপ্রুফ গাড়ি।

অতিরিক্ত কী নিরাপত্তা দেওয়া হবে?(Security Of S Jaishankar)
তবে এবার অতিরিক্ত একটি বুলেটপ্রুফ গাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে(Security Of S Jaishankar)। এটি ব্যবহৃত হবে বিশেষ সফর বা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে যাতায়াতের সময়। বাসভবনের বাইরে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি ক্যামেরা, অতিরিক্ত প্রহরী এবং যানবাহন স্ক্যানিংয়ের ব্যবস্থা।
আগেও বেড়েছে নিরাপত্তা(Security Of S Jaishankar)
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৩ সালেও একবার জয়শঙ্করের নিরাপত্তা স্তর বাড়ানো হয়েছিল(Security Of S Jaishankar)। তখন ওয়াই স্তর থেকে তাঁকে জ়েড স্তরে উন্নীত করা হয়েছিল সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায়। সেই সময় তাঁর বাসভবনে বাড়ানো হয়েছিল সশস্ত্র নিরাপত্তার সংখ্যা ও এসকর্ট টিমের শক্তি। এবার নতুন করে একই ধরনের সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন কোনও পদক্ষেপ নিছক ‘সাধারণ সাবধানতা’ হিসেবে নেওয়া হয়নি। সীমান্তে সামরিক অস্থিরতা, কূটনৈতিক বহিষ্কার, এবং পাকিস্তানের পক্ষ নিয়ে চীনের সক্রিয়তা—এই তিনটি ফ্রন্টেই জয়শঙ্করের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বা হামলার ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
কূটনৈতিক মহলে উদ্বেগ(Security Of S Jaishankar)
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ একদিকে যেমন বিদেশমন্ত্রীর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করছে, তেমনই অন্যদিকে, দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে উদ্বেগের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। পরিস্থিতি যে এখনও স্বাভাবিক হয়নি, তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠল জয়শঙ্করের বাড়ানো নিরাপত্তার মাধ্যমে। আগামিদিনে ভারত-পাক উত্তেজনা যদি আরও বৃদ্ধি পায়, তবে দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের ক্ষেত্রেও একই রকম সতর্কতা নেওয়া হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


