Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে নতুন করে তৈরি হওয়া সামরিক সংঘাতের প্রভাব সরাসরি এসে পড়ল ভারতীয় শেয়ার বাজারে (Share Market)। আন্তর্জাতিক বাজারে হু হু করে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সপ্তাহের প্রথম দিন, অর্থাৎ সোমবার বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তার জেরে সকালে ট্রেডিং শুরু হতেই সেনসেক্স ও নিফটি উভয় সূচকই বড় পতনের মুখে পড়ে।
সকালের ট্রেডিংয়ে সেনসেক্স ও নিফটির পতন (Share Market)
সোমবার সকালে বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই বড় আকারের নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যায়। সকাল ৯টা ১৫ মিনিট নাগাদ বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক সেনসেক্স ২০০ পয়েন্টের বেশি নিচে নেমে যায়। একই সময়ে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক নিফটি ৫০-ও ২৩,৮৫০-এর মনস্তাত্ত্বিক স্তরের নিচে চলে আসে। সকাল ৯টা ৪৯ মিনিটে সেনসেক্স ২১৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ৭৬,২৯৭.৭৭-এ এবং নিফটি প্রায় ৬৮.১০ পয়েন্ট হারিয়ে নেমে আসে ২৩,৮২৯.৬০ পয়েন্টে।
সেক্টরভিত্তিক পারফরম্যান্স ও ইন্ডিয়া ভিআইএক্স (Share Market)
বাজারের এই ধসে প্রায় সব প্রধান সেক্টরই রেড জোনে প্রবেশ করে। নিফটি ব্যাংক, নিফটি আইটি, নিফটি পিএসইউ ব্যাংক, নিফটি মেটাল, নিফটি রিয়েলটি এবং নিফটি মিডিয়া সূচকে বড় পতন দেখা যায়। মিডিয়া সূচক সর্বোচ্চ ২.২১ শতাংশ এবং আইটি সূচক ১.৯১ শতাংশ হ্রাস পায়। এ দিন নিফটি মিডক্যাপ ১০০ সূচক ০.০৮ শতাংশ কমলেও, ব্যতিক্রমীভাবে নিফটি স্মলক্যাপ ১০০ সূচক ০.১২ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়া বাজার খোলার পরেই নিফটি অটো (০.০৮%) এবং নিফটি ফার্মা (০.২৮%) সামান্য ইতিবাচক ছিল। তবে সার্বিক অনিশ্চয়তার সূচক ইন্ডয়া ভিআইএক্স ৫.৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশঙ্কার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
টপ গেইনার্স এবং টপ লুজার্স (Share Market)
শেয়ারবাজারের এই অস্থিরতার মধ্যেও জাইডাস ওয়েলনেস, সাইরমা এসজিএস টেকনোলজিস, এইচএফসিএল, কারট্রেড টেকনোলজিস, বলরামপুর চিনি, ভোডাফোন আইডিয়া এবং আদিত্য বিড়লা রিটেলের মতো শেয়ারগুলি সকালে টপ গেইনার্সের তালিকায় স্থান করে নেয়। অন্য দিকে, সবথেকে বড় পতনের মুখে পড়ে জি এন্টারটেইনমেন্ট, মনাপ্পুরম ফাইন্যান্স, সেল, দীপক নাইট্রেট, এলটিআই মাইন্ডট্রি এবং তেজাস নেটওয়ার্কসের শেয়ারগুলি।
আরও পড়ুন: NSE IPO: ৩০,০০০ কোটির IPO ঘিরে জল্পনা, নজরে দুই বড় ব্যাংক
বাজারের পতনের মূল কারণ (Share Market)
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বরাজনীতির ভৌগোলিক সংঘাতই এই পতনের প্রধান অনুঘটক (Share Market)। জিওজিৎ ইনভেস্টমেন্টসের চিফ ইনভেস্টমেন্ট স্ট্র্যাটেজিস্ট ভিকে বিজয় কুমার জানান, “দেশীয় বাজারের প্রাথমিক অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী থাকা সত্ত্বেও পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতি শেয়ার বাজারের সেন্টিমেন্টকে নেগেটিভ করে তুলেছে। ক্রুড অয়েলের দাম বেড়ে যাওয়ার ফলে চলতি সপ্তাহে একাধিক বড় আইপিও আসা সত্ত্বেও বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নিচ্ছেন।” সংস্থার অপর বিশেষজ্ঞ আনন্দ জেমস জানান যে, “বাজার ২৩,৮৬০ পয়েন্টের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করতে পারে। সূচকে পজিটিভ মুভমেন্ট থাকলে তা ২৩,৯৬০ থেকে ২৪,১০০ পয়েন্ট পর্যন্ত উঠতে পারে, তবে নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় থাকলে নিফটি ২৩,৫৭০ পয়েন্ট পর্যন্ত নেমে যেতে পারে।”



