Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
‘কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রিমিকে মাঝি: এনাফ ইজ এনাফ’- অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বারবার দায়ের হওয়া মামলা নিয়ে চরম বিরক্তি প্রকাশ বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্যর (Calcutta High Court)। সেবাশ্রয় মামলায় এখনই কোনও কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না। তবে তদন্ত তদন্তের মতো চলবে। তদন্তে সব রকম সহযোগিতা করতে হবে অভিষেককে, নির্দেশ হাইকোর্টের। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২৩ নভেম্বর।।
‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পে দুর্নীতি (Calcutta High Court)
রাজ্যে রাজনৈতিক পালা বদলের পর ডায়মন্ড হারবারে তৃণমূল সাংসদ তথা কালীঘাট তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে রাজ্যের বিভিন্ন থানায় দায়ের হয়েছে একের পর এক এফআইআর। কলকাতা হাইকোর্টে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হল তাঁর ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ। কোনও মেডিক্যাল স্ট্যাটুটারি বোর্ডের অনুমতি না নিয়েই সেবাশ্রয় মেডিক্যাল ক্যাম্প করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস (ববি)। গত ৪ এবং ১১ জুলাই এই নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন তিনি।
চিকিৎসায় গাফিলতির বিষয় (Calcutta High Court)
সোমবার সেই মামলারই শুনানি ছিল বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্যর এজলাসে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা নিয়ে এদিন রীতিমতো চরম বিরক্তি প্রকাশ করে বিচারপতি ভট্টাচার্য্য তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘গত ২১ মে থেকে একজনের নামে এই ধরনের অভিযোগ শুনে আমি ক্লান্ত। আদালতে নির্দেশ ছাড়া নতুন করে আর এফআইআর দায়ের করা যাবে না, এই নির্দেশ দিতে আমি বাধ্য হব। একই ধরনের তিনটে মামলা দেখেছি। যার কোনও ভিত্তিই নেই। নির্বাচনে পরাজিত হয়ে একজনই ব্যক্তি পরপর অভিযোগ করে চলেছেন! এটা সম্পূর্ণ চিকিৎসায় গাফিলতির বিষয়। আপনারা যদি ক্লিনিক্যাল কাউন্সিলের কাছে কোনও অভিযোগ করে থাকেন, তাহলে তার নথি দেখান!’
বিচারপতির উদ্দেশ্যে বলেন (Calcutta High Court)
তখন রাজ্যের আইনজীবী তথা অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার বিচারপতির উদ্দেশ্যে বলেন, ‘এক্সরে মেশিন থেকে শুরু করে অন্য সমস্ত মেশিন লাগাতে গেলে তার অনুমতি নিতে হয়। সেই ধরনের কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। মেডিসিন ড্রাগ কন্ট্রোলার ওই মেডিক্যাল ক্যাম্প থেকে ওষুধ বাজেয়াপ্ত করেছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই এর আসল মাথা।’ সেই শুনেই চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য। তিনি বলেন, ‘এনাফ ইজ এনাফ। এটা খুব বেশি হলে চিকিৎসার গাফিলতি হতে পারে একজন চিকিৎসক অভিযুক্ত হলে, আইন অনুযায়ী তাঁকেও রক্ষাকবচ দিতে হবে।’ বিচারপতি রাজ্যের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করেন, ‘সেবাশ্রয়ে চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্ন তোলা অভিযোগকারী কোনও রোগী আদৌ কি মেডিক্যাল বোর্ডে এই নিয়ে কোনও অভিযোগ জানিয়েছেন?’
বিচারপতি পাল্টা প্রশ্ন করেন (Calcutta High Court)
তার উত্তরে অ্যাডিশনাল এজি রাজদীপ মজুমদার আদালত কে বলেন, ‘কী করে অভিযোগ জানাবে? রাজনৈতিক পালাবদলের আগে এক বছর আগে রাজ্যে সেই পরিস্থিতি ছিল না।’ তখন বিচারপতি পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘একজন ব্যক্তি যিনি হেরে গিয়েছেন, তিনিই তো শুধুমাত্র অভিযোগ করেছেন!’
সম্পূর্ণ আইনবিরুদ্ধ! (Calcutta High Court)
বিচারপতির এই প্রশ্নে মামলাকারী অভিজিৎ দাসের আইনজীবী, জয়ন্ত নারায়ণ বলেন,’তিনি হেরে যেতেই পারেন। তার মানে তাঁর অভিযোগ করার কোনও অধিকার নেই, এটা তো হতে পারেনা! রাজ্যে সরকার বদল না হলে এই অভিযোগগুলো সামনে আসতো না। একজন নয় একাধিক ব্যক্তি প্রতারিত হয়েছেন। সেবাশ্রয় ক্যাম্পে মেডিক্যাল স্টুডেন্টদের দিয়ে কাজ করানো হয়েছে। এটাও সম্পূর্ণ আইনবিরুদ্ধ।’
সৌগত ভট্টাচার্য্য বলেন (Calcutta High Court)
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য তখন বলেন, ‘তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে দোষী বলা যায় না। এই অভিযোগে আমি মোটেও সন্তুষ্ট নই। তবে তদন্ত, তদন্তর মত চলতে পারে।’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী শঙ্কর নারায়ণ তখন তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় তাঁকে রক্ষাকবচ দেওয়ার উদাহরণ টেনে বিচারপতির উদ্দেশ্যে বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল অতীতে ভুল করে এফআইআর করেছিল। এখন আরেকটি রাজনৈতিক দল সেই একই ভুলই করছে।’
আরও পড়ুন: Annapurna Yojana Helpline: অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে অভিযোগ? চালু হেল্পলাইন নম্বর
সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য নির্দেশ দিয়েছেন, সেবাশ্রয় মামলায় আপাতত কোনও কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না। তবে তদন্ত তদন্তের মতো চলবে। তদন্তে সব রকম সহযোগিতা করতে হবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২৩ নভেম্বর।



