Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ব্রততী সরকার: রাত বাড়ছে, ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে চলেছে, অথচ (Sleep) চোখে ঘুম নেই-এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই পরিচিত। সারাদিনের ক্লান্তির পর শরীর বিশ্রাম চাইছে, কিন্তু মাথায় ঘুরতে থাকে নানা চিন্তা। তার সঙ্গে যোগ হয়, “কাল সকালে কীভাবে উঠব?” বা “আজ এত কম ঘুম হচ্ছে!”-এই দুশ্চিন্তা। ফলে ঘুমের বদলে উদ্বেগ আরও বাড়ে এবং তৈরি হয় ঘুম না আসার একটি চক্র। মাঝে মধ্যে এমন হওয়া স্বাভাবিক হলেও, নিয়মিত ঘুমের সমস্যা দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব ফেলতে পারে।
ইনসোমনিয়া বা অনিদ্রা কী? (Sleep)
নিয়মিত ঘুমাতে যেতে দেরি (Sleep) হওয়া, রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া, খুব ভোরে ঘুম ভেঙে যাওয়ার পর আর ঘুম না আসা- এই সমস্যাগুলিকে অনিদ্রার লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়। পর্যাপ্ত সময় বিছানায় থাকার পরও সকালে ক্লান্ত লাগা, দিনের বেলা মনোযোগ কমে যাওয়া বা খিটখিটে মেজাজও এর সঙ্গে দেখা দিতে পারে। তিন মাসের কম সময় থাকলে একে স্বল্পমেয়াদি এবং তিন মাস বা তার বেশি স্থায়ী হলে দীর্ঘমেয়াদি অনিদ্রা বলা হয়।
কেন হয় অনিদ্রা? (Sleep)
অনিদ্রার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। অতিরিক্ত মানসিক চাপ, উদ্বেগ, বিষণ্ণতা, কাজের চাপ বা ব্যক্তিগত দুশ্চিন্তা অন্যতম কারণ। এর পাশাপাশি রাতে চা-কফি বা ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়, ধূমপান, অ্যালকোহল, অনিয়মিত ঘুমের সময়, শিফট ডিউটি, জেট ল্যাগ কিংবা অস্বস্তিকর ঘুমের পরিবেশও সমস্যা বাড়াতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, থাইরয়েডের সমস্যা, মেনোপজ, রেস্টলেস লেগস সিনড্রোম বা স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো কিছু শারীরিক সমস্যার সঙ্গেও অনিদ্রার সম্পর্ক থাকতে পারে।
Fair Skin: পুজোর আগেই পাবেন ফর্সা ত্বক, রান্নাঘরেই লুকিয়ে রয়েছে জাদুকরী উপকরণ
কী করলে মিলবে মুক্তি?
ঘুমের সময় প্রতিদিন যতটা সম্ভব একই রাখা এবং ঘুম পেলেই বিছানায় যাওয়া উপকারী। শোওয়ার আগে অন্তত এক ঘণ্টা মনকে শান্ত রাখার চেষ্টা করুন-বই পড়া, হালকা গান শোনা বা রিল্যাক্সেশন করা যেতে পারে। রাতে ফোন, ট্যাব বা কম্পিউটার ব্যবহার কমানো, ঘর অন্ধকার ও শান্ত রাখা এবং সন্ধ্যার পর ক্যাফেইন এড়ানোও সাহায্য করতে পারে। নিয়মিত দিনের বেলা শরীরচর্চা করুন, তবে শোওয়ার ঠিক আগে ব্যায়াম না করাই ভালো। বিছানায় গিয়ে দীর্ঘক্ষণ ঘুম না এলে জোর করে ঘুমানোর চেষ্টা না করে উঠে শান্ত কোনো কাজ করা এবং ঘুম পেলে আবার বিছানায় যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে ঘুমের সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চললে, দৈনন্দিন কাজে প্রভাব ফেললে বা বারবার ফিরে এলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রয়োজনে কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি (CBT), বিশেষ করে CBT-I, অনিদ্রার চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। নিজের ইচ্ছায় ঘুমের ওষুধ শুরু না করাই নিরাপদ।


