Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দেশের লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ ও শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতার দাবিতে দিল্লির যন্তর-মন্তরে টানা অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষাবিদ, পরিবেশপ্রেমী ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)। বলিউডের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র থ্রি ইডিয়টস-এর ‘রাঞ্চো’ চরিত্রের অনুপ্রেরণা হিসেবে পরিচিত ওয়াংচুকের এই অনশন দেখতে দেখতে ১৮ দিনে পড়েছে। নিট পরীক্ষায় কারচুপির অভিযোগের প্রতিবাদ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে তাঁর এই অবস্থান ক্রমেই জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। দীর্ঘ অনশনের ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে বিভিন্ন মহলে। এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি আদালতের দোরগোড়ায় পৌঁছেছে।
)
আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে জনস্বার্থ মামলা (Sonam Wangchuk)
সোনম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যের অবনতির কথা তুলে ধরে সমাজকর্মী ও আইনজীবী রাকেশকুমার সাইনি আদালতে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন। আবেদনে তিনি দাবি করেছেন, আদালত যেন অবিলম্বে বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করে। তাঁর বক্তব্য, ওয়াংচুকের জীবন রক্ষা করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হোক এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে জোর করে খাদ্য দিয়ে অনশন ভাঙানোর ব্যবস্থাও করা হোক। আইনজীবীর মতে, একজন নাগরিকের গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের অধিকার যেমন রয়েছে, তেমনই রাষ্ট্রের দায়িত্ব তাঁর জীবন রক্ষা করা।
দ্রুত অবনতি শারীরিক অবস্থার (Sonam Wangchuk)
আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, টানা ১৮ দিনের অনশনে সোনম ওয়াংচুকের প্রায় সাড়ে আট কেজি ওজন কমে গেছে। চিকিৎসাজনিত আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, যদি অনশন একইভাবে চলতে থাকে, তাহলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁর প্রাণসংকট তৈরি হতে পারে। আবেদনে আরও বলা হয়েছে, একজন আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত পরিবেশবিদ ও শিক্ষাবিদের মৃত্যু শুধুমাত্র ভারতের জন্য নয়, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও অত্যন্ত লজ্জাজনক ও দুঃখজনক ঘটনা হবে। তাই সময় নষ্ট না করে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

নিট কারচুপির প্রতিবাদেই এই আন্দোলন
সোনম ওয়াংচুকের দাবি, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি। নিট পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে বহু ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে তিনি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের নৈতিক দায় স্বীকার করে পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কঠোর ও স্বচ্ছ পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
সরকারের নীরবতায় ক্ষুব্ধ ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)
দীর্ঘ ১৮ দিন অনশন চললেও এখনও পর্যন্ত কেন্দ্র সরকারের তরফে তাঁর সঙ্গে কোনও আনুষ্ঠানিক আলোচনা বা যোগাযোগ করা হয়নি বলে অভিযোগ। অনশন মঞ্চ থেকেই তিনি সরকারের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করে বলেন, “দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থেই জনগণের কথা শোনা সরকারের উচিত। কঠোর মানসিকতা ছেড়ে তাদের সংবেদনশীল হওয়া উচিত। গণতন্ত্র সহানুভূতি ও সহমর্মিতার ওপর চলে, একগুঁয়েমির ওপর নয়। প্রধানমন্ত্রীর উচিত তাঁর একগুঁয়ে মনোভাব ত্যাগ করে মানুষের কথা শোনা। জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিলে শেষ পর্যন্ত সরকারেরই লাভ হবে।” এই বক্তব্য ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
রাজনৈতিক মহলের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে
এই আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক মহলের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। যদিও বিভিন্ন বিরোধী দল মৌখিকভাবে সোনম ওয়াংচুকের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে, কিন্তু এখনও পর্যন্ত বড় কোনও জাতীয় নেতাকে অনশন মঞ্চে উপস্থিত হতে দেখা যায়নি। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী কিংবা দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে—কেউই এখনও সেখানে যাননি বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, যাদের সমর্থনে তিনি এই আন্দোলন করছেন বলে উল্লেখ করা হচ্ছে, সেই রাজনৈতিক শিবিরের নেতাদেরও অনশনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেখা যায়নি। বরং এই বিষয়টি নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে নানা প্রশ্ন উঠছে।

‘আমাকে হিরো বানাবেন না’ (Sonam Wangchuk)
নিজেকে কোনও নায়ক হিসেবে তুলে ধরার বিরোধিতা করেছেন সোনম ওয়াংচুক। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমাকে হিরো বানাবেন না। আমি একজন সাধারণ মানুষ। একজন নাগরিক হিসেবে আমার কর্তব্য পালন করছি মাত্র। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে আমি এই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি।” তাঁর এই বক্তব্য অনেকের কাছেই আন্দোলনের মূল বার্তা হিসেবে উঠে এসেছে—ব্যক্তিকে নয়, গুরুত্ব দিতে হবে শিক্ষাব্যবস্থা ও ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎকে।
ছাত্রসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়েই মূল লড়াই
সোনম ওয়াংচুকের দাবি, এই আন্দোলন কোনও ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নয়; বরং দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্বচ্ছ, নির্ভরযোগ্য এবং জবাবদিহিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্দেশ্যেই তাঁর এই প্রতিবাদ। এখন নজর আদালতের সিদ্ধান্ত, সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার দিকে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই আগামী কয়েক দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।



