Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ২০১৩ সালের ৭ জুন কামদুনির নারকীয় ঘটনা (Kamduni case) নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা রাজ্যকে। ন্যায়বিচারের দাবিতে উত্তাল হয়েছিল বাংলা। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও, মামলার বিচার প্রক্রিয়া এখনও অসম্পূর্ণ। বিচারের আশায় দিন গুনছে কামদুনির নির্যাতিতার পরিবার। বারবার বিভিন্ন প্রতিবাদে কামদুনির সেই মর্মান্তিক ঘটনার কথা উঠে এলেও, আইনি জট কাটেনি। এবার সেই বিচার পাওয়ার আশায়, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবার’-এ হাজির হলেন নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যরা।
মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ কামদুনি (Kamduni case)
আজ বুধবার কামদুনির নির্যাতিতার পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হন কামদুনি আন্দোলনের দুই পরিচিত মুখ মৌসুমী কয়াল ও টুম্পা কয়াল। প্রশাসনিক প্রধানের কাছে তাঁদের প্রধান দাবি—কামদুনি মামলার ফাইল নতুন করে খোলা হোক। তদন্তের নামে সিআইডি যে গাফিলতি করেছে, তার নিরপেক্ষ বিচার চান তাঁরা। মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে পৌঁছে এদিন ক্ষোভ উগরে দেন আন্দোলনকারীরা।
তদন্তে সিআইডি-র বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ (Kamduni case)
পরিবারের অভিযোগ, তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি মামলার শুনানির সময় চরম গাফিলতি করেছে। মামলার চার্জশিট ও সাক্ষ্য গ্রহণে বিস্তর ফাঁকফোকর ছিল বলে দাবি তাঁদের। নিয়ম অনুযায়ী আদালতে ৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের কথা থাকলেও, সিআইডি মাত্র ২২ জনের সাক্ষ্য নিয়েই দায় সেরেছে বলে অভিযোগ। পরিবারের দাবি, বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও প্রমাণ আদালতে পেশই করা হয়নি, যার ফলে অভিযুক্তরা আইনি সুবিধা পেয়েছে।
নতুন করে আইনি প্রক্রিয়া শুরুর দাবি মৌসুমী কয়ালের
সিআইডি-র এই বেনিয়ম এবং গাফিলতির সপক্ষে যাবতীয় তথ্য-প্রমাণ মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দিতে চান নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, তদন্তে গাফিলতিই মামলার দীর্ঘসূত্রিতার কারণ। নতুন করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার আর্জি জানাতেই আজ তাঁদের এই জনদরবারে হাজিরা। মৌসুমী কয়াল সংবাদমাধ্যমকে জানান, “আমরা শুধু সঠিক বিচারটুকুই চাই।”

মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে মিলবে ন্যায়বিচার?
প্রশাসনিক স্তরে এই আবেদন কি আদৌ ন্যায়বিচারের পথ সুগম করবে? নাকি সিআইডি-র তদন্তের ওপর ভরসা রেখেই চলবে আইনি লড়াই? সব মিলিয়ে, কামদুনিকাণ্ডের ফাইল পুনর্বিবেচনার দাবিতে এখন জোর চর্চা চলছে। দীর্ঘ ১৩ বছর পর, মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে আদৌ কোনো নতুন মোড় আসে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে গোটা বাংলা।



