Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর ভিত্তি যতটা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায়, তার চেয়েও বেশি নিহিত থাকে এক সঠিক ও নির্ভুল ভোটার তালিকার ভিতের উপর। সেই কারণেই নির্বাচন কমিশন আবারও শুরু করছে (Special Intensive Revision) বা বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন। এর দ্বিতীয় দফা শুরু হচ্ছে আগামীকাল, মঙ্গলবার থেকে, এবং এই দফায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে পশ্চিমবঙ্গসহ আরও ১১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। সোমবার বিকেলে দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ার সময়সূচি ও উদ্দেশ্য ঘোষণা করেন। তাঁর কথায়, “বিহারে প্রথম দফার সফল সমাপ্তির পর এবার আরও ১২টি রাজ্যে এই সংশোধন শুরু হবে। ভোটার তালিকা যেন সর্বাধিক নির্ভুল ও স্বচ্ছ হয়, সেটাই মূল লক্ষ্য।”

গণতন্ত্রের ভিত্তি দৃঢ় করতে নতুন উদ্যোগ (Special Intensive Revision)
এই এসআইআর মূলত এমন এক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন পুরনো ভোটার তালিকাকে নতুন করে যাচাই করে দেখে কে বেঁচে আছেন, কে স্থানান্তরিত হয়েছেন, কার নাম ভুলবশত বাদ পড়েছে, এবং কার নাম অবৈধভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এবার পশ্চিমবঙ্গসহ অন্যান্য রাজ্যে ৪ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ ও এনুমারেশন ফর্ম পূরণের কাজ। এরপর ৯ ডিসেম্বর প্রকাশিত হবে খসড়া ভোটার তালিকা, এবং ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ প্রকাশ পাবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। এর মধ্যবর্তী সময়ে, অর্থাৎ ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত ভোটাররা নিজেদের নাম সংক্রান্ত যেকোনও অভিযোগ, সংশোধনের আবেদন বা তথ্য পরিবর্তনের অনুরোধ জানাতে পারবেন। নির্বাচন কমিশন প্রতিটি আবেদন পর্যালোচনা করে শুনানির ব্যবস্থা করবে।
ভোটার যাচাইয়ের নতুন মাত্রা (Special Intensive Revision)
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি ভোটার এলাকায় নিয়োজিত বুথ লেভেল অফিসার (BLO) বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন, তাঁদের তথ্য সংগ্রহ করবেন এবং প্রয়োজনে ফর্ম পূরণে সহায়তা করবেন। যাঁরা নিরক্ষর বা অসুস্থ, তাঁদের জন্য থাকবে বিশেষ ভলান্টিয়ার বা স্বেচ্ছাসেবক সহায়তা। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবার এই প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করে তুলেছে। যাঁরা বাড়িতে থাকবেন না বা সরাসরি যোগাযোগ সম্ভব হবে না, তাঁরা অনলাইনে ফর্ম পূরণ করতে পারবেন। কমিশনের সরকারি ওয়েবসাইটে গিয়ে ভোটাররা নিজেরাই পুরনো ও বর্তমান তালিকার মধ্যে ‘ম্যাচিং’ করতে পারবেন, অর্থাৎ তাঁদের নাম পূর্ববর্তী তালিকায় আছে কিনা তা যাচাই করে দেখতে পারবেন।
ভোটার তালিকাই এখন মূল রেফারেন্স (Special Intensive Revision)
কমিশন জানিয়েছে, ২০০২ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে যে ভোটার তালিকা সর্বশেষ নিবিড়ভাবে সংশোধিত হয়েছিল, সেগুলিই এবার মূল রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা হবে। ওই তালিকায় যাঁদের নাম আছে, তাঁরা বৈধ নাগরিক হিসেবেই গণ্য হবেন। আর যাঁদের নাম ওই পুরনো তালিকায় পাওয়া যাবে না, তাঁদের ক্ষেত্রে জন্মস্থান ও নাগরিকত্বের নথি যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এই পদক্ষেপটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও ময়ানমার থেকে আসা অনিবন্ধিত অভিবাসীদের উপস্থিতি নিয়ে যে প্রশাসনিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতেই এই ভোটার তালিকা যাচাই একটি সংবেদনশীল কিন্তু প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে।
ভোটারের দায়িত্ব ও সতর্কবার্তা (Special Intensive Revision)
নির্বাচন কমিশন এ-ও স্পষ্ট করেছে যে একজন ব্যক্তির নাম যদি দুই জায়গায় পাওয়া যায়, তবে তা অপরাধ বলে গণ্য হবে। ঠিকানা পরিবর্তন বা অন্য এলাকায় স্থানান্তরের ক্ষেত্রে নতুন ভোটার পরিচয়পত্র বা এপিক কার্ড পাওয়া যাবে, কিন্তু পুরনো ঠিকানায় নাম রাখলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কমিশন জানিয়েছে, এবার থেকে ভোটারদের তথ্যের সঙ্গে আধার কার্ড সংযুক্ত করা হবে, যাতে নাম যাচাই আরও নির্ভুল হয়। এই আধার লিঙ্কিং প্রক্রিয়া আগামীকাল থেকেই শুরু হচ্ছে।
বিহারের অভিজ্ঞতা এবং পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যাশা
প্রথম দফায় বিহারে এই এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ সফলভাবে শেষ হয়েছে। সেখানে প্রায় ৯০ হাজার BLO ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা একযোগে কাজ করেছেন। চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ৭ কোটি ৪২ লক্ষ নাম, যা কমিশনের ইতিহাসে এক বড় পদক্ষেপ। এই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার পশ্চিমবঙ্গে একই কাঠামো অনুসরণ করা হবে। রাজ্যের শহর, মফস্বল ও গ্রামীণ অঞ্চলে সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে বিশেষত বহুতল আবাসন, বস্তি ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলিতে বুথ সংখ্যা বাড়ানো হবে, যাতে প্রতিটি ভোটার সহজে নিজেদের তথ্য যাচাই করতে পারেন।
আরও পড়ুন: Nabanna: SIR জল্পনার মাঝেই বড়সড় প্রশাসনিক রদবদল, বদলি ১৭ IAS সহ মোট ৬৪ আধিকারিক
সংবিধান ও রাজ্যের দায়বদ্ধতা
কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে থেকেই রাজ্য সরকারগুলিকে এই প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে হবে। রাজ্যের দায়িত্ব হল প্রয়োজনীয় কর্মী ও প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বলেন, “প্রত্যেক সাংবিধানিক সংস্থার নিজস্ব দায়িত্ব আছে। আশা করি পশ্চিমবঙ্গ সরকারও সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবে।”



