Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট বা SRFTI-তে ২৭ সেপ্টেম্বরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পঞ্চসায়র থানায় পরপর তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, তিনটি মামলাতেই অভিযুক্তদের পরিচয় অজ্ঞাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পৃথক দিক খতিয়ে দেখতে তিন মামলার তদন্তের দায়িত্বও আলাদা আধিকারিকদের দেওয়া হয়েছে (SRFTI)।

সরকারি কাজে বাধার অভিযোগ (SRFTI)
প্রথম মামলাটি পঞ্চসায়র থানার কেস নম্বর ৯৮, তারিখ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬। অভিযোগকারী পঞ্চসায়র থানার অ্যাডিশনাল ওসি ইনস্পেক্টর কৌশিক বসু। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দিন দুপুরে SRFTI ক্যাম্পাসে সরকারি দায়িত্ব পালন করার সময় একদল অজ্ঞাতপরিচয় পড়ুয়া পুলিশকর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। সরকারি একটি গাড়ির জানলার কাচ ভাঙচুরের অভিযোগও রয়েছে। মামলাটির তদন্ত করছেন SI সৌরভ প্রামাণিক।
পড়ুয়া ও ফ্যাকাল্টি সদস্যদের আটকে রাখার অভিযোগ
দ্বিতীয় মামলা, পঞ্চসায়র থানার কেস নম্বর ৯৯, দায়ের হয়েছে SRFTI-এর ডিন সুকান্ত মজুমদারের অভিযোগের ভিত্তিতে। অভিযোগে বলা হয়েছে, কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন পড়ুয়া এবং দুই ফ্যাকাল্টি সদস্যকে আটকে রাখেন। তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও মারধরের অভিযোগও উঠেছে। পাশাপাশি মহিলা পড়ুয়াদের উদ্দেশে অশালীন আচরণ এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই মামলার তদন্ত করছেন L/SI ধাত্রী মোহান্তি মণ্ডল।
কর্মসূচিকে ঘিরে তৃতীয় অভিযোগ (SRFTI)
তৃতীয় মামলা পঞ্চসায়র থানার কেস নম্বর ১০০। অভিযোগকারী আইনজীবী অঞ্জন সিংহ, যিনি একটি সংগঠনের পশ্চিমবঙ্গ শাখার পদাধিকারী। অভিযোগ অনুযায়ী, ২৭ সেপ্টেম্বর দুপুর থেকে সন্ধ্যার মধ্যে একটি কর্মসূচিতে যোগ দিতে SRFTI-তে গেলে তাঁদের একদল অজ্ঞাতপরিচয় পড়ুয়া ঘেরাও করে রাখেন। চলাফেরায় বাধা, গালিগালাজ, মারধর ও হুমকির পাশাপাশি সংগঠনের ব্যানার এবং কয়েকটি ছবি ভাঙচুরের অভিযোগও করা হয়েছে। ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার মতো মন্তব্যের অভিযোগও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত করছেন SI স্বরাজ দাস।

আরও পড়ুন: Kunal Ghosh: পরপর দু’দিন হামলার অভিযোগ, প্রাণনাশের আশঙ্কায় এবার হাইকোর্টে কুণাল ঘোষ
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগই অভিযোগ
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনটি মামলাতেই ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারা রয়েছে। প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে Prevention of Damage to Public Property বা PDPP Act-এর ধারাও যুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে মামলায় ওঠা অভিযোগগুলি এখনও তদন্তাধীন। যাঁদের নাম অভিযোগে উল্লেখ নেই, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে এই মুহূর্তে পৌঁছনোর সুযোগ নেই। পুলিশি তদন্ত, সাক্ষ্য, প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্যের ভিত্তিতেই ২৭ সেপ্টেম্বর SRFTI-তে ঠিক কী ঘটেছিল, তার পূর্ণ চিত্র সামনে আসবে।



