Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: শ্রীলঙ্কার একটি বৃদ্ধাশ্রমে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে (Sri Lanka Fire Accident)। এই মর্মান্তিক ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেকে। আগুনের ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে মুহূর্তের মধ্যে গোটা বৃদ্ধাশ্রম ধোঁয়া ও আগুনে ঢেকে যায়। প্রাণ বাঁচাতে ছুটোছুটি শুরু করেন আবাসিকরা। যদিও দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছিল, তবুও শেষরক্ষা হয়নি। এই দুর্ঘটনা ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়।

কলম্বোর কাছেই ঘটল ভয়াবহ দুর্ঘটনা (Sri Lanka Fire Accident)
বুধবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ‘মায়পিয়া সেভানা এল্ডারলি কেয়ার হোম’-এ আচমকাই আগুন লাগে। প্রথমে ভবনের একটি অংশে আগুন দেখা যায়। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পুরো ভবনে। বৃদ্ধাশ্রমে থাকা প্রবীণ বাসিন্দাদের অনেকেই শারীরিকভাবে দুর্বল ছিলেন। ফলে আগুন লাগার পর দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়া তাঁদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। এর ফলে হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যায় বলে মনে করা হচ্ছে।
সময়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে উদ্ধারকাজ (Sri Lanka Fire Accident)
আগুন লাগার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় দমকল বাহিনী, পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মীরা। শুরু হয় ব্যাপক উদ্ধার অভিযান। ধোঁয়ায় ভরা ভবনের ভিতরে প্রবেশ করে একে একে বহু প্রবীণকে উদ্ধার করা হয়। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, মোট ৫১ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে অন্তত ৭ জন গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দমকল কর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্রুত পদক্ষেপের ফলেই আরও বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন প্রশাসনিক কর্তারা।

মৃত্যুমিছিল থামানো গেল না (Sri Lanka Fire Accident)
উদ্ধারকাজ দ্রুত শুরু হলেও আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে অন্তত ১১ জনের প্রাণহানি ঘটে। মৃতদের অধিকাংশই প্রবীণ বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। এই করুণ ঘটনার পর নিহতদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেকেই এখনও প্রিয়জনদের খোঁজে হাসপাতালে ও প্রশাসনিক দফতরে যোগাযোগ করছেন।
গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের সম্ভাবনা
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের জেরেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। বিস্ফোরণের পর মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ভবনের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে তদন্তকারীরা এখনও এই বিষয়ে চূড়ান্তভাবে কিছু বলতে নারাজ। তাঁদের বক্তব্য, সমস্ত তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখার পরই আগুন লাগার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তদন্তের নির্দেশ প্রশাসনের (Sri Lanka Fire Accident)
ঘটনার পরই শ্রীলঙ্কা প্রশাসন পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। আগুন লাগার কারণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থার অবস্থা এবং উদ্ধারকাজে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। বিশেষজ্ঞদের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নমুনা সংগ্রহ করেছে। ভবনের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হল আবাসিকদের
উদ্ধার হওয়া বৃদ্ধদের প্রথমে নিকটবর্তী একটি স্কুলে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় দেওয়া হয়। সেখানে তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে প্রশাসনের উদ্যোগে তাঁদের আরও নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি মানসিক আঘাত কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: Smart Border: স্মার্ট বর্ডার প্রকল্পে জোর শাহের, ‘প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করতে হবে’
বৃদ্ধাশ্রমের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর শ্রীলঙ্কা জুড়ে বৃদ্ধাশ্রমগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যেখানে অধিকাংশ বাসিন্দাই প্রবীণ এবং চলাফেরায় অক্ষম, সেখানে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, জরুরি নির্গমন পথ এবং নিয়মিত নিরাপত্তা মহড়া অত্যন্ত জরুরি।



