Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আজ তথা বুধবার প্রাথমিকে ৩২ হাজার চাকরি বাতিল মামলার রায় ঘোষণা করবে কলকাতা হাইকোর্ট (SSC Primary Tet Exam)। দীর্ঘ শুনানির পর গত ১২ নভেম্বর এই মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষ হয়েছিল। রায়দান স্থগিত রেখেছিল আদালত। আজ দুপুর ২টোয় এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় ঘোষণা করবেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রর ডিভিশন বেঞ্চ।

মামলার রায় আজ দুপুরে (SSC Primary Tet Exam)
এসএসসি-র মতো প্রাথমিকের নিয়োগেও বিস্তর দুর্নীতির অভিযোগে ৩২ হাজার চাকরি বাতিল করেছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য ও প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। দীর্ঘ শুনানির পর অবশেষে আজ রায় ঘোষণা করবে হাইকোর্ট। কলকাতা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এসএসসি-তে ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের পর নতুন নিয়োগ নিয়েও যখন একের পর এক অভিযোগে মামলা চলছে হাইকোর্টে, সেই আবহের মধ্যেই এবার প্রাথমিকে ৩২ হাজার চাকরি প্রার্থীর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে হাইকোর্ট। সব দিক থেকেই এই রায় যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।
২০১৪ সালে প্রাথমিকে টেটের ভিত্তিতে ২০১৬ সালে ৪২,৯৪৯ জন শিক্ষক নিয়োগ হয়েছিল রাজ্যে। সেই নিয়োগে বেনিয়মের অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হয় মামলা। ৩২ হাজার অপ্রশিক্ষিত প্রার্থীকে নিয়োগ, সঠিক পদ্ধতিতে ইন্টারভিউ এবং অ্যাপ্টিটিউড টেস্ট না নিয়েই চাকরি দেওয়া—সহ একাধিক অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। দীর্ঘ শুনানির পর ২০২৩ সালের ১২ মে কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় প্রশিক্ষণহীন ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেন। তবে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় নির্দেশে এও বলেছিলেন, চাকরি বাতিল হলেও ওই শিক্ষকরা স্কুলে যাবেন। তিন মাসের মধ্যে রাজ্যকে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যোগ্য এবং উত্তীর্ণ প্রার্থীদের চাকরি বহাল থাকবে।
ভাগ্য নির্ধারণ করবে ডিভিশন বেঞ্চ! (SSC Primary Tet Exam)
সিঙ্গেল বেঞ্চের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ এবং কর্মরত শিক্ষকদের একাংশ। তৎকালীন বিচারপতি সুব্রত তালুকদার এবং বিচারপতি সুপ্রতিম ভট্টাচার্য্যের ডিভিশন বেঞ্চ বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সিঙ্গেল বেঞ্চের চাকরি বাতিলের রায়ের উপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করে। তবে সিঙ্গেল বেঞ্চের নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ বহাল রাখে ডিভিশন বেঞ্চ। শুধু নিয়োগের সময়সীমা ৩ মাসের বদলে ৬ মাস করার নির্দেশ দেয় ডিভিশন বেঞ্চ।
কলকাতা হাইকোর্টের দুই বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ হয় রাজ্য, পর্ষদ এবং চাকরি হারানোদের একাংশ। আবেদনকারী চাকরিহারারা সুপ্রিম কোর্টে জানায়, কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সিঙ্গেল বেঞ্চ সব পক্ষের বক্তব্য শোনেনি। শুনানিতে সব পক্ষকে বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এরপর সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেয় এবং সব পক্ষের বক্তব্য শুনে কলকাতা হাইকোর্টকেই নির্দেশ দিতে বলে।
আসছে বহুল প্রতীক্ষিত রায় (SSC Primary Tet Exam)
সুপ্রিম কোর্ট থেকে মামলা ফেরত আসার পর কলকাতা হাইকোর্টে মামলা যায় বিচারপতি সৌমেন সেনের ডিভিশন বেঞ্চে। কিন্তু সৌমেন সেন এই মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোয় গত ২৮ এপ্রিল থেকে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রর ডিভিশন বেঞ্চে টানা সাড়ে ছ’মাস ধরে চলতে থাকে এই মামলার দীর্ঘ শুনানি। মামলাকারীদের অভিযোগ, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিয়ম মানা হয়নি। অন্য দিকে, রাজ্য সরকার এবং প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ আদালতে দাবি করে, নিয়োগে দুর্নীতির কোনও প্রমাণ নেই। কয়েকটি ক্ষেত্রে কিছু অনিয়ম হয়েছে, পরে তা সংশোধনও করে নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থেকেই ব্যাপক দুর্নীতির মিথ্যে অভিযোগ করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: Mamata: হুলিয়া জারি করবেন না যাতে বৃটিশ রাজের কথা মনে পড়ে যায়: কেন্দ্রকে তোপ মমতার
সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর অবশেষে গত ১২ নভেম্বর ডিভিশন বেঞ্চে প্রাথমিকে ৩২ হাজার চাকরি বাতিলের মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষ হয়। আদালত রায়দান স্থগিত রেখেছিল। আজ বুধবার সেই রায় ঘোষণা করবে আদালত। হাইকোর্ট কী রায় দেয়, সেই দিকেই এখন তাকিয়ে ৩২ হাজার চাকরিপ্রার্থী থেকে শুরু করে গোটা রাজ্য।



