Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: একটা সময়ে বিশ্বমঞ্চে দাপট দেখিয়েছিলেন যে ফুটবলাররা, তাঁদের ছেলেদের সামনে এ বার চ্যালেঞ্জ বিশ্বকাপের মেগা মঞ্চে সেই ধারা বয়ে নিয়ে যাওয়ার (World Cup)।
বিশ্বকাপের মেগা মঞ্চে তারকা পুত্ররা (World Cup)
মহাভারতের মহারণ আজও শিহরণ জাগায়। দুই শিবিরের এমন ভয়ানক যুদ্ধ যা কাঁপিয়ে দিয়েছিল বিশ্ব ব্রহ্মান্ড। একদিকে যেমন ছিলেন অর্জুন আর অন্যদিকে কৌরবদের বিশাল বাহিনী। সেই বাহিনীতে কাকে ছেড়ে কার কথা বলবো সেটাই বড় কঠিন তবে সেই কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের অন্যতম ঘটনা অর্জুন-কৌরব এবং চক্রব্যূহকে কেন্দ্র করে (World Cup)।
চক্রব্যূহ এমন এক রণ কৌশল যা ভেদ করে ভিতরে প্রবেশ এবং বেরিয়ে আসার পথ সবার জানা থাকে না। দ্রোণের তৈরি সেই চক্রব্যূহে ভেদ করতে জানতেন পঞ্চপাণ্ডবের অর্জুন আর কৃষ্ণ। বাকি পাণ্ডবদের কেউ জানতেন না ভেদ করতে। আর সেই কারণে কৌশল করে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় সেখান থেকে দূরে আর এর মূল উদ্দেশ্য ছিল দ্রোণাচার্য যাতে যুধিষ্ঠিরকে আটক করতে পারেন। তবে কেহ্নেই আসে এক চূড়ান্ত বীরত্ব এবং এক করুন কাহিনী। অর্জুন ছাড়াও আর একজন জানতেন এই ব্যূহ ভেদ করতে তিনি আর কেউ নন অর্জুন পুত্র অভিমন্যু।
অর্জুন পুত্র অভিমন্যু সেই ব্যূহ ভেদ করে ঢুকলেও বাকি আর কেউ সেটা পারলেন না আর সেখানেই তিনি দিলেন বীরত্বের পরিচয়। অর্জুন পুত্রের এই রণমূর্তি তখন কৌরব শিবিরে ভয় হারিয়ে দিয়েছে। অবশেষে সপ্ত রথী মাইল নিরস্ত্র অর্জুন পুত্রের হত্যা করেন আর এরপরের গল্প সবার জানা। সেই রণের সঙ্গে ফুটবল বিশ্বকাপের মিল আছে। অর্জুন যেমন চক্রব্যূহে ঢুকতে এবং বেরোতে জানতেন সেটা অর্জুন পুত্র জানতেন আর তেমন বিশ্বকাপের মঞ্চে বা বিশ্ব ফুটবলে দাপট দেখিয়েছিলেন যে সকল তারকারা এবার তাদের উত্তরসূরির পালা। সেই ঊত্তরাধিকার বহনের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে তারকা পুত্ররা। এখন দেখার এই চক্রব্যূহে তো তাঁরা প্রবেশ করেছেন কিন্তু সফল হয়ে বেরিয়ে আসতে পারেন কিনা (World Cup)।
আর্লিং হাল্যান্ড (নরওয়ে)
হাতে গোনা কয়েকজন রয়েছেন যাঁরা নিজেদের বাবার সাফল্যকে ছাপিয়ে গেছেন। সালটা ১৯৯৪, বিশ্বকাপের মঞ্চ মাতিয়ে দিয়েছিলেন আলফি হাল্যান্ড। এরপর আবার ৩২ বছর পর নরওয়ে দলের মূল ভরসা আর্লিং হাল্যান্ড। বর্তমানে অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হিসেবে তিনি অন্যতম। ম্যান সিটির হয়ে ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছেন তিনি। দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেছে নরওয়ে আর তাঁদের চালিকা শক্তি হতে চলছে আর্লিং হাল্যান্ড (World Cup)।
ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও (পর্তুগাল)
পর্তুগালের উইঙ্গার ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও ইতিমধ্যেই বড় মঞ্চে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। ২০২৪ সালের ইউরো কাপে চেক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে পর্তুগালের প্রথম ম্যাচে জয়সূচক গোল করে বিশ্বে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন এই তরুণ উইঙ্গার। এছাড়া উয়েফা নেশন্স লিগের সেমি ফাইনালেও জার্মানির বিরুদ্ধে গোল পেয়েছেন। তাঁর বাবা সের্জিও কনসেইসাও ২০০২ সালের বিশ্বকাপে পর্তুগালের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন। এ বার আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে নজর থাকবে ফ্রান্সিসকোর দিকে।
লুকা জিদান (আলজিরিয়া)
ফুটবল বিশ্বে জিদান নামটাই যথেষ্ট। বিশ্ব ফুটবল মাতিয়ে দিয়েছেন এই তারকা ফুটবলার। এই বিশ্বকাপেও সবথেকে বিখ্যাত পদবি জিদান। জিদানের হাত ধরেই ১৯৯৮ সালে ফ্রান্স যেতে বিশ্বকাপ। তবে তাঁর ছেলে সেই পথে হাঁটেননি। লুক জিদান সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি খেলবেন আলজেরিয়ার হয়ে। এই তারকা ফুটবলারের দিকে বিশেষ নজর থাকবে। লুকার এবার মূল লক্ষ্য গোল বাঁচানো কারণ তিনি খেলেন গোলকিপার হিসেবে (World Cup)।
গিউলিয়ানো সিমিওনে (আর্জেন্তিনা)
আর্জেন্তিনার প্রাক্তন ফুটবলার ও আতলেতিকো মাদ্রিদের বর্তমান কোচ দিয়েগো সিমিওনের ছেলে গিউলিয়ানো এ বার বিশ্বমঞ্চে নিজের পরিচয় তৈরি করতে সফল হয়েছেন। দিয়েগো তিনটি বিশ্বকাপে আর্জেন্তিনার হয়ে খেলেছিলেন। বর্তমানে ২২ বছর বয়সি গিউলিয়ানো বাবার কোচিংয়েই খেলেন আতলেতিকোতে। এ বার মেসিদের দলের অন্যতম অস্ত্র হয়ে উঠতে পারেন এই তরুণ মিডফিল্ডার আর তাঁর দিকেই নজর থাকবে সকলের।
আরও পড়ুন: FIFA World Cup: বিশ্বকাপে বিশেষ নজরে তরুণ ব্রিগেড
জাস্টিন ক্লুইভার্ট (নেদারল্যান্ডস)
ডাচ ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হিসেবে গণ্য করা হয় প্যাট্রিক ক্লুইভার্টকে। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসকে সেমি ফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন এই তারকা স্ট্রাইকার। তাঁর ছেলে জাস্টিন ক্লুইভার্ট। এই মরশুমে প্রিমিয়ার লিগে বোর্নমাউথের হয়ে দারুণ খেলে জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছেন জাস্টিন। এ বার বিশ্বকাপে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দেওয়ার অপেক্ষায় এই তরুণ মিডফিল্ডার (World Cup)।


