Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে (Midterm Election) বড়সড় ধাক্কা খেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Stock Market)। আর তার প্রভাবেই বিশ্ববাজারে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচক হাওয়া। বুধবার সেই প্রভাব দেখা গিয়েছিল ভারতীয় শেয়ার বাজারেও। বৃহস্পতিবার যেন আরও গতি পেল সেই উত্থান। বাজার খোলার পর থেকেই দালাল স্ট্রিটে শুরু হয় তুমুল কেনাকাটা। একসময় সেনসেক্সের সূচক একলাফে প্রায় ১৫০০ পয়েন্ট বেড়ে পৌঁছে যায় ৭৮ হাজারের ঘরে। নিফটির সূচকেও দেখা যায় উল্লেখযোগ্য উত্থান। শুধু শেয়ার বাজার নয়, স্বস্তি ফিরেছে অপরিশোধিত তেলের বাজারেও। ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম নেমে এসেছে ৯৪ ডলারে।
বাজার খুলতেই বুল রানের ঝড় (Stock Market)
বুধবারের ইতিবাচক লেনদেনের পর বৃহস্পতিবারও ভারতীয় শেয়ার বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকবে বলে আশা করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। সেই প্রত্যাশাকেই কার্যত ছাপিয়ে গেল দালাল স্ট্রিট। বুধবার ৩৮৩.৫৫ পয়েন্ট বেড়ে ৭৭,৩০১.৪০ পয়েন্টে বন্ধ হয়েছিল সেনসেক্স। বৃহস্পতিবার বাজার খোলার পরই সূচকে বড়সড় উত্থান দেখা যায়। একসময় প্রায় ১৩০০ পয়েন্ট বেড়ে যায় সেনসেক্স। পরবর্তী সময়ে সেই বৃদ্ধি আরও বেড়ে প্রায় ১৫০০ পয়েন্টে পৌঁছয়। ফলে ৭৮ হাজারের গণ্ডিও পেরিয়ে যায় সূচক।
নিফটিতেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা (Stock Market)
সেনসেক্সের পাশাপাশি নিফটির সূচকেও দেখা গিয়েছে জোরালো বৃদ্ধি। প্রায় ৩০০ পয়েন্ট বেড়েছে নিফটি। বাজারের এই ইতিবাচক পরিস্থিতিতে অধিকাংশ সংস্থার শেয়ারই রয়েছে লাভের খাতায়। বিশেষ করে উত্থানের নিরিখে নজর কেড়েছে বিমান পরিবহণ সংস্থা ইন্ডিগোর শেয়ার। আন্তর্জাতিক বাজারের ইতিবাচক পরিস্থিতি এবং বিনিয়োগকারীদের নতুন করে কেনাকাটার প্রবণতা ভারতীয় বাজারকে বাড়তি অক্সিজেন জুগিয়েছে।
ডলারের তুলনায় শক্তিশালী টাকা (Stock Market)
শুধু শেয়ার বাজার নয়, বৃহস্পতিবার কিছুটা শক্তিশালী হয়েছে ভারতীয় মুদ্রাও। বুধবারের তুলনায় ডলারের নিরিখে টাকার মূল্য ২৯ পয়সা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪.৩৬ টাকায়। আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের গতিপ্রকৃতি এবং বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তিত পরিস্থিতির মধ্যেই এই উন্নতি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলের দাম কমলে ভারতের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির উপর চাপও কিছুটা কমতে পারে।
তেলের দামে পতন (Stock Market)
গত সাত মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়েছিল। ব্যারেলপ্রতি দাম ১০০ ডলারের গণ্ডিও পেরিয়ে যায়। কিন্তু বৃহস্পতিবার সেই দাম নেমে এসেছে প্রায় ৯৪ ডলারে। ট্রাম্পের নির্বাচনী ধাক্কার পর ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন নীতিতে পরিবর্তন আসতে পারে বলে আশা করছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমহল। সেই সম্ভাবনাতেই তেলের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারতের জন্যও এই পতন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, অপরিশোধিত তেল আমদানির উপর ভারতের নির্ভরতা যথেষ্ট বেশি। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলে আমদানি খরচ, মুদ্রাস্ফীতির চাপ এবং দেশের বাণিজ্য ঘাটতির ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ফলে তেলের দামে এই পতন ভারতীয় অর্থনীতির জন্যও স্বস্তির খবর।
ভারতের বাজারে কীসের প্রভাব? (Stock Market)
ট্রাম্পের নির্বাচনী ধাক্কার পর মার্কিন শেয়ার বাজারেও দেখা গিয়েছে ইতিবাচক প্রবণতা। গত তিন মাসের মধ্যে বুধবারই মার্কিন বাজারে সবচেয়ে বড় উত্থান লক্ষ্য করা গিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সেই ইতিবাচক মনোভাবের প্রভাব পড়েছে এশিয়ার বাজারগুলিতেও। তারই জেরে ভারতীয় শেয়ার বাজারে বৃহস্পতিবার বিনিয়োগকারীদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো।
আরও পড়ুন: Stock Market: শেয়ার বাজারে রকেট গতি! দীপাবলির আগে লগ্নিকারীদের মুখে হাসি
ধনতেরাসের আগে সোনার দামেও স্বস্তি (Stock Market)
শেয়ার বাজারের পাশাপাশি কিছুটা স্বস্তি মিলেছে সোনার বাজারেও (Stock Market)। মধ্যবিত্তের জন্য সুখবর দিয়ে কমেছে সোনার দাম। ফলে একদিকে শেয়ার বাজারের উত্থান, অন্যদিকে তেলের দাম কমা এবং সোনার দামে কিছুটা পতন—সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক অর্থনীতির অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেও আশার আলো দেখছেন বিনিয়োগকারীরা। ধনতেরাসের আগে বাজারের এই ইতিবাচক পরিস্থিতি কতটা স্থায়ী হয়, এখন সেটাই দেখার। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তেলের দামের গতিপ্রকৃতির উপর আগামী দিনে ভারতীয় শেয়ার বাজারের গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে।



