Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ত্রয়ণ চক্রবর্তী: টুলু মণ্ডলের বিপুল সম্পত্তি ও সোনা উদ্ধারের প্রসঙ্গ তুলে তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ তুললেন প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র সুমন রায়চৌধুরী (Suman Roy Chowdhury)। তাঁর দাবি, এক জন সরকারি পরিবহণ সংস্থার বাসচালকের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা ও বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধারের ঘটনায় শুধু স্থানীয় স্তরে নয়, বৃহত্তর রাজনৈতিক যোগাযোগের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁর অভিযোগের নিশানায় রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অনুব্রত মণ্ডল। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই হয়নি।

‘সরকারি বাসচালক (Suman Roy Chowdhury)
টুলু মণ্ডলকে ঘিরে প্রকাশ্যে আসা বিপুল সম্পত্তির প্রসঙ্গ তুলে সুমন রায়চৌধুরীর প্রশ্ন, একজন সরকারি পরিবহণ সংস্থার বাসচালকের কাছে কীভাবে কোটি কোটি টাকা এবং বিপুল পরিমাণ সোনা এল? তাঁর বক্তব্য, ‘‘টুলু মণ্ডলের কোটি টাকা, ৪৮ কোটি টাকা, কেজি কেজি সোনা। সরকারি পরিবহণ সংস্থার বাসের চালক, অথচ চাকরি করতে হয়নি।’’ কংগ্রেস মুখপাত্রের মতে, এই সম্পদের উৎস এবং এর সঙ্গে কারা যুক্ত ছিলেন, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। তাঁর প্রশ্ন, এই বিপুল অর্থ কি শুধুমাত্র ব্যক্তিগতভাবে উপার্জন করা হয়েছিল, নাকি এর পিছনে কোনও বৃহত্তর নেটওয়ার্ক কাজ করেছিল?
‘অনুব্রত বলছেন কিছু জানেন না, তৃণমূলও নীরব’
টুলু মণ্ডলকে ঘিরে বিতর্কের পাশাপাশি অনুব্রত মণ্ডলের বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সুমন রায়চৌধুরী। তাঁর দাবি, অনুব্রত মণ্ডল যদি এই বিষয়ে কোনও যোগসাজশ অস্বীকার করে থাকেন, তাহলে গোটা ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া আরও জরুরি। তাঁর কথায়, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও এই বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা আসা প্রয়োজন। বিশেষ করে টুলু মণ্ডলের মতো একজন ব্যক্তির কাছে এত বিপুল সম্পদ কীভাবে এল এবং তাঁর রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক যোগাযোগ কতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল—এই প্রশ্নগুলির উত্তর সামনে আসা দরকার বলে দাবি তাঁর।

‘শান্তিনিকেতন বিল্ডিং থেকে ক্যামাক স্ট্রিট (Suman Roy Chowdhury)
বক্তব্যের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশে সুমন রায়চৌধুরী অভিযোগ করেন, টুলু মণ্ডলের মতো ব্যক্তিদের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিকাঠামোর কোনও অংশে পৌঁছত কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আসা উচিত। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘‘এই টাকা কি সিউড়ির অনুব্রতর মাধ্যমে শান্তিনিকেতন বিল্ডিংয়ে আসেনি, ক্যামাক স্ট্রিটে পৌঁছয়নি?’’ তবে এই বক্তব্যের পক্ষে তিনি কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ বা নথি প্রকাশ্যে উপস্থাপন করেননি। ফলে তাঁর এই অভিযোগকে রাজনৈতিক দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
‘টুলু মণ্ডলরা কি বৃহত্তর নেটওয়ার্কের অংশ?’ (Suman Roy Chowdhury)
সুমন রায়চৌধুরীর অভিযোগ, টুলু মণ্ডলের মতো একাধিক ব্যক্তিকে ব্যবহার করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অর্থ সংগ্রহের একটি ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল। তাঁর ভাষায়, এঁরা ছিলেন ‘চেইন পার্সন’ যাঁদের মাধ্যমে বিভিন্ন স্তর থেকে টাকা তোলা হতো বলে তাঁর দাবি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকারি প্রকল্প, সরকারি কর্মসূচি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বরাদ্দ অর্থের ক্ষেত্রেও অনিয়ম ও ‘ফলস বিলিং’-এর মাধ্যমে টাকা অন্য খাতে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও এই অভিযোগগুলির ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নথি বা তদন্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সামনে না আসা পর্যন্ত এগুলিকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত (Suman Roy Chowdhury)।
‘সততার প্রতীক’ স্লোগান নিয়েও কটাক্ষ (Suman Roy Chowdhury)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক প্রচারে ব্যবহৃত ‘সততার প্রতীক’ এবং ‘বাংলার গর্ব’ ধরনের পরিচিত স্লোগান নিয়েও তীব্র কটাক্ষ করেন প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র। তাঁর অভিযোগ, এক দিকে সততা ও স্বচ্ছতার রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া হয়েছে, অন্য দিকে দলের বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। এই দ্বন্দ্বের জবাব তৃণমূল নেতৃত্বকেই দিতে হবে বলে দাবি তাঁর। সুমন রায়চৌধুরীর বক্তব্য, দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসার পর শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্লোগান দিয়ে মানুষের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়। প্রয়োজন তদন্ত, নথি এবং স্বচ্ছ ব্যাখ্যা।
‘বাংলাকে ১০০ বছর পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে’
রাজ্যের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন তিনি। তাঁর দাবি, গত দেড় দশকে দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়মের কারণে পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘কোনও অর্থনীতিবিদের সঙ্গে কথা বলুন বাংলাকে ১০০ বছর পিছিয়ে দিয়ে গেছে এই বাংলার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’’ তাঁর অভিযোগ, সরকারি অর্থের অপব্যবহার এবং বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়মের ফলে রাজ্যের সাধারণ মানুষই শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
‘আরও টুলু মণ্ডল সামনে আসবে’ (Suman Roy Chowdhury)
সুমন রায়চৌধুরীর দাবি, টুলু মণ্ডলকে ঘিরে যে প্রশ্নগুলি উঠেছে, তা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখলে চলবে না। তাঁর মতে, তদন্ত এগোলে ভবিষ্যতে আরও এমন ব্যক্তির নাম সামনে আসতে পারে। তিনি দাবি করেন, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে অর্থনৈতিক যোগাযোগের একটি নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছিল। সেই নেটওয়ার্কের প্রকৃতি ও পরিধি তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলে মন্তব্য তাঁর।
মমতা-অভিষেকের বিরুদ্ধে সরাসরি নিশানা
বক্তব্যের শেষদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি রাজনৈতিক আক্রমণ শানান কংগ্রেস মুখপাত্র। তাঁর অভিযোগ, জেলা স্তরের নেতাদের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে তা ধাপে ধাপে আরও উপরমহলে পৌঁছনোর ব্যবস্থা ছিল। তবে এই দাবির সমর্থনে প্রকাশ্য কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ তিনি তুলে ধরেননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘অসৎ’ বলেও আক্রমণ করেন তিনি। তাঁর দাবি, দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসার পর রাজনৈতিক দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
‘ভাইপো এখনও খোলা আকাশের নিচে কেন?’ (Suman Roy Chowdhury)
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সুমন রায়চৌধুরী। তাঁর বক্তব্য, বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ ও তদন্তের প্রেক্ষাপটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে যে রাজনৈতিক প্রশ্ন উঠছে, তার উত্তর কেন্দ্র ও রাজ্যের রাজনৈতিক নেতৃত্বকেই দিতে হবে। তাঁর কথায়, ‘‘আর এখনো ভাইপো খোলা আকাশের নিচে কেন ঘুরে বেড়াচ্ছে, সেটা তো কেন্দ্রের শাসক দল আর বাংলার শাসক দল উত্তর দেবে।’’

আরও পড়ুন: Birbhum: দিনমজুর থেকে হাজার কোটির মালিক! রাতারাতি বদলে গেল টুলু মণ্ডলের ভাগ্য
অভিযোগের পাল্টা জবাব কী?
টুলু মণ্ডলকে ঘিরে যে বিপুল সম্পত্তির অভিযোগ সামনে এসেছে, তা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে। একদিকে বিরোধীরা এই ঘটনাকে সামনে রেখে শাসকদলের বিরুদ্ধে বৃহত্তর দুর্নীতির অভিযোগ তুলছে, অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের আইনি ও তদন্তমূলক পরিণতিই শেষ পর্যন্ত প্রকৃত তথ্য স্পষ্ট করবে।



