Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বালোচিস্তানে ফের ভয়াবহ রক্তপাত। পাকিস্তানি সেনার একটি কনভয় লক্ষ্য করে বিস্ফোরণ ও হামলার ঘটনায় অন্তত ২৩ জন জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে (Pakistan)। আহত হয়েছেন আরও বহু সেনা। রবিবার বালোচিস্তানের লাসবেলা জেলার এন-২৫ জাতীয় সড়কের কাশারী এলাকায় এই হামলা চালানো হয় বলে সূত্রের খবর। এখনও কোনও সংগঠন আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে হামলার ধরন এবং এলাকার সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে বালোচ বিদ্রোহীদের দিকেই সন্দেহের তির।
১৫টি গাড়ির কনভয়কে নিশানা (Pakistan)
জানা গিয়েছে, ফ্রন্টিয়ার ফোর্সের প্রায় ১৫টি গাড়ির কনভয় এন-২৫ জাতীয় সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় হামলার মুখে পড়ে। প্রথমে ব্যাপক বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এরপর একাধিক গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে খবর। হামলার তীব্রতায় বহু সেনা হতাহত হন। ঘটনার পর দ্রুত ওই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় পাকিস্তানি প্রশাসন। এলাকায় পাঠানো হয় অতিরিক্ত সেনা। শুরু হয় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান।
স্বাধীন বালোচিস্তানের দাবিতে আরও তীব্র লড়াই? (Pakistan)
বালোচিস্তানে পাকিস্তানবিরোধী সশস্ত্র আন্দোলন দীর্ঘদিনের। সাম্প্রতিক সময়ে সেই আন্দোলন আরও তীব্র হয়েছে। বালোচ বিদ্রোহীদের একাংশ স্বাধীন ‘বালোচিস্তান’-এর দাবি সামনে রেখে পাকিস্তানি সেনা ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে তারা দাবি করেছে, প্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় তাদের প্রভাব রয়েছে। পাকিস্তান সেনা অভিযান চালালে পালটা হামলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা।

এন-২৫ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? (Pakistan)
লাসবেলার মধ্য দিয়ে যাওয়া এন-২৫ জাতীয় সড়ক বালোচিস্তানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। এই সড়ক করাচিকে কোয়েটার সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং প্রদেশের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলির মধ্য দিয়ে গিয়েছে। ফলে সামরিক ও বাণিজ্যিক—দুই দিক থেকেই এই সড়কের গুরুত্ব অপরিসীম। অতীতে এই রুটে পাকিস্তানি নিরাপত্তাবাহিনীকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাই এবারও বালোচ সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না নিরাপত্তা মহল।
চিন-পাকিস্তান করিডোর ঘিরে কেন বাড়ছে ক্ষোভ?
বালোচিস্তান প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মানুষের অভিযোগ, এই সম্পদের যথাযথ সুবিধা তারা পাচ্ছেন না। বরং প্রশাসনিক বঞ্চনা, দারিদ্র্য এবং নিরাপত্তা অভিযানের মধ্যে তাঁদের জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর বা CPEC প্রকল্প শুরু হওয়ার পর এই ক্ষোভ আরও বেড়েছে বলে বালোচপন্থীদের দাবি। গুরুত্বপূর্ণ বন্দর, সড়ক ও খনিজ সম্পদকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির বিরুদ্ধেও স্থানীয়দের একাংশ সরব।
আরও পড়ুন: Jeetu Kamal: বিতর্কের মাঝেই ‘বিগ বস’-এ জীতু কমল!
দমন-পীড়ন বনাম স্বাধীনতার লড়াই
বালোচিস্তানে সংঘাত এখন শুধুমাত্র বিচ্ছিন্ন হামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। একদিকে স্বাধীনতার দাবিতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির হামলা, অন্যদিকে তাদের দমনে পাকিস্তানি নিরাপত্তাবাহিনীর অভিযান—দুইয়ের মধ্যে আটকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বালোচপন্থী সংগঠনগুলি পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে গুম, হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগ তোলে। ইসলামাবাদ অবশ্য সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপকে দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় বলে দাবি করে। ফলে হামলা-পালটা হামলার এই চক্র কবে থামবে, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা। লাসবেলার সাম্প্রতিক হামলা সেই অস্থিরতাকেই আরও একবার সামনে নিয়ে এল।



