Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: প্রয়াত হলেন সুরেশ কালমাদি, যিনি ৮১ বছর বয়সে পুণের দীননাথ মঙ্গেশকার হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন (Suresh Kalmadi)। দীর্ঘ বয়স ও বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যার পাশাপাশি দীর্ঘ রোগভোগের পর মঙ্গলবার ভোর রাত সাড়ে তিনটার সময় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। প্রয়াত এই নেতার জীবন রাজনৈতিক ও ক্রীড়াজগতে সমানভাবে উজ্জ্বল, যদিও দুর্নীতির অভিযোগ তাঁর জীবনকে বিতর্কিত করেছিল।

প্রাথমিক জীবন ও পেশাদার যাত্রা (Suresh Kalmadi)
সুরেশ কালমাদি ১৯৪৪ সালে ব্যাঙ্গালোরে জন্মগ্রহণ করেন। কর্মজীবন শুরু করেছিলেন ভারতীয় বায়ুসেনায় পাইলট হিসেবে। সেই সময়ের শৃঙ্খলাপূর্ণ ও দায়িত্বপূর্ণ চাকরি তাঁকে নেতৃত্বের প্রাথমিক গুণাবলী প্রদান করেছিল। ১৯৭০-এর দশকে তিনি রাজনীতির দিকে মনোনিবেশ করেন।
রাজনীতিতে উত্থান (Suresh Kalmadi)
১৯৭৭ সালে পুণেতে ভারতীয় যুব কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন কালমাদি। পরের বছর মহারাষ্ট্র যুব কংগ্রেসের সভাপতির দায়িত্ব পান। তাঁর রাজনীতির মধ্য দিয়ে এক শক্তিশালী রাজনৈতিক পরিচয় তৈরি হয়। ১৯৮২ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত তিনবার রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৯৮ সালেও পুনরায় নির্বাচিত হন। পুণের সাংসদ হিসেবে তিনবার নির্বাচিত হন তিনি (১৯৯৬, ২০০৪, ২০০৯)। প্রধানমন্ত্রী পিভি নরসিমা রাও-এর আমলে ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত রেল প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছিলেন।

ক্রীড়া প্রশাসক হিসেবে সাফল্য (Suresh Kalmadi)
রাজনীতির পাশাপাশি ক্রীড়ার দুনিয়াতেও তাঁর অবদান অমোঘ। ১৯৯৬ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তিনি ভারতীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ছিলেন। ২০০০ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত এশিয়ান অ্যাথলেটিক্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির দায়িত্বও তিনি পালন করেন। ২০১৫ সালে তাঁকে এ সংস্থার আজীবন সভাপতি হিসেবে মনোনীত করা হয়। এই সময়কালে কালমাদি ভারতের ক্রীড়া প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে পরিচিত হন। কিন্তু একই সঙ্গে নানা দুর্নীতির অভিযোগও তাঁর নামে ওঠে। বিশেষ করে ২০১০ সালে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ গেমসে বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তারও হন তিনি। এই ঘটনায় কংগ্রেস তাঁকে বরখাস্ত করে।

দুর্নীতি অভিযোগ ও মুক্তি
দীর্ঘ তদন্তের পর ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে দিল্লির এক আদালত ঘোষণা করে যে, ২০১০ সালের কমনওয়েলথ গেমসে সুরেশ কালমাদির বিরুদ্ধে কোনও আর্থিক দুর্নীতির প্রমাণ মেলেনি। এই ঘোষণার ফলে তিনি কলঙ্কমুক্ত হন এবং জীবনের শেষ কয়েক বছর শান্তভাবে অতিবাহিত করতে পারেন।



