Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আইপ্যাক কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির (Suvendu Adhikari) তল্লাশিকে ঘিরে বৃহস্পতিবার রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ছড়াল। দিল্লির একটি আর্থিক প্রতারণা সংক্রান্ত মামলার সূত্রে ইডি এই তল্লাশি অভিযান চালায় বলে জানা যায়। কিন্তু তল্লাশির মাঝেই ঘটনাস্থলে একের পর এক শীর্ষ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও বিস্ফোরক করে তোলে।
হাজির মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Suvendu Adhikari)
তল্লাশি চলাকালীন প্রথমে প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছন (Suvendu Adhikari) কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভর্মা। তাঁর কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অভিযানের সময় মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি উপস্থিতি ঘিরে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। কয়েক মিনিট প্রতীক জৈনের বাড়ির ভিতরে থাকার পর মুখ্যমন্ত্রী বেরিয়ে আসেন হাতে একটি সবুজ রঙের ফাইল নিয়ে। বাইরে এসে সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন।

মমতার দাবি, (Suvendu Adhikari)
মমতার দাবি, ইডির তল্লাশির আড়ালে তাঁর দলের রাজনৈতিক (Suvendu Adhikari) কৌশল, প্রার্থী তালিকা ও নির্বাচনী পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হার্ড ডিস্ক ও ফোন বাজেয়াপ্ত করার নাম করে তৃণমূল কংগ্রেসের স্ট্র্যাটেজির ওপর আঘাত হানাই ছিল এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। তিনি এই ঘটনাকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে আখ্যা দেন। প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে বেরিয়েই মুখ্যমন্ত্রী সোজা রওনা হন গডরেজ ওয়াটার সাইডে আইপ্যাকের দফতরের দিকে। গোটা ঘটনায় কেন্দ্র ও রাজ্যের সংঘাত আরও প্রকাশ্যে আসে।
তীব্র আক্রমণ শানান শুভেন্দু অধিকারী
এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর এই ভূমিকা নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানান রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাজে এভাবে হস্তক্ষেপ করা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক ও অনৈতিক। শুভেন্দুর দাবি, ইডির উচিত এবার আইন মেনে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেই পদক্ষেপ করা।

অতীতেও কেন্দ্রীয় সংস্থার কাজে বাধা
তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, অতীতেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার কেন্দ্রীয় সংস্থার কাজে বাধা দিয়েছেন। ২০২১ সালে নিজাম প্যালেসে সিবিআই দফতরের সামনে ধরনায় বসা থেকে শুরু করে, সারদা মামলায় রাজীব কুমারের বাড়িতে তল্লাশির সময় কলকাতার ধর্মতলায় আন্দোলন-সব ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, একজন মুখ্যমন্ত্রী শুধুই রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। সেই জায়গা থেকে তদন্তে হস্তক্ষেপ করা গুরুতর অপরাধ।
আরও পড়ুন: Narendra Modi: সিঙ্গুরে সভা করবেন প্রধানমন্ত্রী, তবে কি নতুন শিল্পের আভাস? ভোটের আগেই ঘুরছে খেলা…
শুভেন্দু আরও কড়া ভাষায় বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশ কমিশনারের এভাবে একসঙ্গে গিয়ে ইডির তল্লাশিতে উপস্থিত থাকা তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার সামিল। এমনকি তিনি দাবি করেন, যদি কখনও মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে তল্লাশি হয়, তবে বিপুল অঙ্কের অর্থ উদ্ধার হতে পারে।


