Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের (Swastika Mukherjee) জীবনে সবচেয়ে বড় আনন্দের খবর এসেছে এবার বিদেশ থেকে। তাঁর একমাত্র মেয়ে অন্বেষা মুখোপাধ্যায় লন্ডনে নিজের পছন্দের চাকরি পেয়েছেন। এই সুখবর সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করে নিয়েছেন স্বস্তিকা নিজেই।

মায়ের লড়াইয়ের গল্প (Swastika Mukherjee)
কলেজে পড়তে পড়তেই মা হয়েছিলেন স্বস্তিকা (Swastika)। বিয়ে টেকেনি, তখন মাত্র দুই বছরের অন্বেষাকে কোলে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি ছাড়তে হয়েছিল তাঁকে। তারপর থেকেই একা হাতে মেয়েকে বড় করেছেন অভিনেত্রী। পাশে ছিলেন তাঁর বাবা-মা, অভিনেতা সন্তু মুখোপাধ্যায় (Santu Mukherjee ) ও গোপা মুখোপাধ্যায় ( Gopa Mukherjee)।
সেই সময় থেকে স্বস্তিকার (Swastika) একটাই লক্ষ্য ছিল মেয়ের শিক্ষা, মেয়ের স্বপ্ন। নিজের জন্য নয়, অন্বেষার ভবিষ্যতের জন্যই সঞ্চয় করেছেন তিনি। বিলাসবহুল জীবন নয়, মেয়ের পড়াশোনাই ছিল তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।
স্বপ্নপূরণের পথে অন্বেষা (Swastika Mukherjee)
অন্বেষা কলকাতার সাউথ সিটি ইন্টারন্যাশন্যাল স্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন। এরপর মুম্বইয়ের সোফিয়া কলেজ থেকে সাইকোলজি ও সোসিওলজিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তারপর স্কলারশিপ নিয়ে পাড়ি দেন ব্রিটেনে। কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাইকোলজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন অন্বেষা।
বর্তমানে লন্ডনে মনের মতো চাকরি পেয়েছেন অন্বেষা। ভবিষ্যতে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিতে গবেষণা করার ইচ্ছে অন্বেষার। মেয়ের এই সাফল্যে আপ্লুত স্বস্তিকার মতে, “সন্তানেরা যা হওয়ার স্বপ্ন দেখে, সেই পথে গুটিগুটি পায়ে এগোতে দেখাই আসল সুখ।”
মেয়ের প্রতি মায়ের ভালোবাসা (Swastika Mukherjee)
স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের (Swastika Mukherjee) লেখেন, অন্বেষা আবেগপ্রবণ হয়ে ধন্যবাদ দিতে এলে তিনি জানান ,“সব তুই করেছিস মা, আমি শুধু ছায়া হয়ে পাশে থেকেছি।” তাঁর কথায়, সন্তানদের স্বপ্ন পূরণই একজন মায়ের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
ছোটবেলায় ছুটিতে মায়ের সঙ্গে কাজের সূত্রে নানা জায়গায় গিয়েছে অন্বেষা। কিন্তু তাঁর সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল ইংল্যান্ড। তখনই সে বলত, একদিন এখানে পড়বে, চাকরি করবে, আর মাকে নিজের কাছে রাখবে। আজ সেই স্বপ্নই সত্যি হলো অন্বেষার।
মায়ের গর্ব, মেয়ের সাফল্য (Swastika Mukherjee)
স্বস্তিকার (Swastika) চোখে অন্বেষা তাঁর “রাজকন্যা”। অভিনেত্রীর কথায়, সন্তানের সুখই তাঁর কাছে সবকিছু। সন্তানের জীবনে আলো থাক, হাসি থাক, তিনি শুধু বটগাছের মতো আশ্রয় হয়ে থাকবেন। মায়ের মতো অভিনেত্রী হওয়ার কোনও ইচ্ছে নেই অন্বেষার। ছোট থেকেই মনোযোগ দিয়েছে পড়াশোনায়। অন্বেষা এখন সেই পরিশ্রমের ফল পেয়েছে ।
আরও পড়ুন:Rubel Das: শ্বেতাকে নিয়ে ভুয়ো খবরের ছড়াছড়ি, মুখ খুললেন রুবেল
জীবনের আসল পুরস্কার
স্বস্তিকার (Swastika) জীবনে সবচেয়ে গর্বের মুহূর্ত মেয়ের সাফল্য। তিনি জানেন, জীবনের সব কষ্ট, লড়াই, পরিশ্রম আজ সার্থক। কারণ, তাঁর মেয়ে নিজের স্বপ্নের পথে সফল। লন্ডনে মেয়ের নতুন জীবনের শুরুতে আনন্দে ভাসছেন মা। স্বস্তিকার কথায়,“আমি কিছুই করিনি, মা হয়ে শুধু ছায়া দিয়েছি।”



