Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল : তালিবান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির দিল্লি সফর ঘিরে বড় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে(Taliban Press Conference)। শুক্রবার রাজধানীতে তাঁর এক সাংবাদিক সম্মেলনে মহিলা সাংবাদিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা নিয়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে রাজনৈতিক মহলে। কংগ্রেস সহ বিরোধী দলগুলির নেতারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কঠোরভাবে আক্রমণ করেছেন এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে।
সরকারের সাফাই,আমাদের কোনও ভূমিকা নেই (Taliban Press Conference)
বিতর্ক বাড়তেই শনিবার কেন্দ্রীয় সরকার পরিষ্কার জানিয়েছে, বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) এই প্রেস কনফারেন্সের সঙ্গে কোনও যোগ ছিল না।(Taliban Press Conference) সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে,
“দিল্লিতে আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রেস ইন্টারঅ্যাকশনে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের কোনও অংশগ্রহণ বা ভূমিকা ছিল না।”
অর্থাৎ, তালিবান প্রতিনিধিদলের সাংবাদিক সম্মেলনটি সরকারি অনুষ্ঠান ছিল না, বরং একটি স্বাধীন ইন্টারঅ্যাকশন বলে জানানো হয়েছে।
রাহুল গান্ধীর আক্রমণ, ‘নারী শক্তির স্লোগান ফাঁপা’
বিরোধী দলের নেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) এক্স (প্রাক্তন টুইটার)-এ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লেখেন,
“মোদীজি, আপনি যখন মহিলা সাংবাদিকদের কোনো জনসম্মুখের অনুষ্ঠান থেকে বাদ পড়তে দেন, তখন আপনি ভারতের প্রতিটি নারীকে জানিয়ে দেন যে আপনি তাঁদের পাশে দাঁড়াতে দুর্বল।”
তিনি আরও লেখেন, “নারী শক্তির স্লোগান দিয়ে দেশকে বিভ্রান্ত করা যায় না। আমাদের দেশে মহিলাদের সমান অংশগ্রহণের অধিকার আছে—এই ঘটনার নীরবতা আপনার স্লোগানের ফাঁপা ভাবকে প্রকাশ করে(Taliban Press Conference)।”

আরও পড়ুন : Khurelsukh Ukhnaa Visit India : ভারত সফরে মঙ্গোলিয়ার প্রেসিডেন্ট খুরেলসুখ, আলোচনায় থাকবে কোন কোন বিষয়?
প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও মহুয়া মৈত্রর কটাক্ষ(Taliban Press Conference)
প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে পোস্ট করেন,
“যদি আপনার নারীর অধিকার রক্ষার অবস্থান কেবল নির্বাচনী প্রচারের জন্য না হয়, তবে ভারতীয় মাটিতে মহিলা সাংবাদিকদের অপমান হতে কীভাবে দিলেন?”
অন্যদিকে, তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র এক্সে লেখেন,
“তালিবান মন্ত্রীকে দিল্লিতে মহিলা সাংবাদিকদের বাদ দিতে দেওয়া মানে দেশের প্রতিটি নারীর প্রতি অসম্মান। লজ্জাজনক ও কাপুরুষোচিত।”

তালিবান ও ভারতের বৈঠক(Taliban Press Conference)
তালিবান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি দিল্লি সফরে বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন, যেখানে দুই পক্ষ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, মানবিক সহায়তা এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করে(Taliban Press Conference)।
তবে পরদিন তাঁর সাংবাদিক সম্মেলনে মহিলা সাংবাদিকদের বাদ দেওয়া—যা তালিবানের নারী-বিরোধী মনোভাবের প্রতিফলন—তা ভারতীয় মাটিতে ঘটায় আরও ক্ষোভ ছড়িয়েছে।
তালিবানের নারী বিরোধী ইতিহাস(Taliban Press Conference)
তালিবান শাসনে আফগানিস্তানে নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও জনজীবনে প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে সীমিত। জাতিসংঘ (UN) গত জুলাইয়ে আফগানিস্তানে নারীদের উপর “গভীর, সুসংগঠিত ও ক্রমবর্ধমান নিপীড়ন”-এর নিন্দা জানিয়েছিল এবং তালিবান সরকারকে এই নীতিগুলি অবিলম্বে প্রত্যাহার করার আহ্বান জানায়(Taliban Press Conference)।
ভারতের মাটিতে মহিলা সাংবাদিকদের বাদ দিয়ে এমন এক অনুষ্ঠান ঘটা দেশের গণতান্ত্রিক ও সমানাধিকারের ভাবনার পরিপন্থী বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সরকার যদিও নিজেকে এই ঘটনার দায় থেকে মুক্ত রাখছে, তবু বিরোধীরা বলছে—“এমন বৈষম্যমূলক আচরণ ভারতীয় সংস্কৃতি ও সংবিধানের মর্যাদাকে আঘাত করেছে।” আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রাক্কালে এমন ঘটনা, ভারতের নারী মর্যাদার প্রশ্নে নতুন বিতর্কের জন্ম দিল।


