Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিশেষ প্রতিবেদন: সুকৃতি ভট্টাচার্য: কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র পারিষদ (এমআইসি) তারক সিং এবার সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন (Tarak Singh)। শুধু দলীয় নেতৃত্বের সমালোচনাই নয়, তিনি প্রকাশ্যে দাবি করেছেন দলের সর্বোচ্চ স্তরে পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক উত্থান এবং দলের ভাবমূর্তি নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য।

‘অভিভাবক হিসেবে ব্যর্থ মমতা’ (Tarak Singh)
তারক সিংয়ের অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ বা শাসন করতে পারেননি। তাঁর মতে, একজন রাজনৈতিক অভিভাবক হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি বলেন, “সঠিকভাবে শাসন করলে আজ একজনের বিরুদ্ধে ওঠা চুরি বা দুর্নীতির অভিযোগের বোঝা গোটা দলকে বইতে হতো না। আজ দলের কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও ‘চোর’ স্লোগান শুনতে হচ্ছে। উনি ব্যক্তিগতভাবে চোর নন, কিন্তু ভাইপোকে বাড়তে দিয়েছেন বলেই আজ এই পরিস্থিতি।”
‘একজনকে বাঁচাতে গিয়ে পুরো দলকে চোর বানানো হয়েছে’
তারক সিংয়ের বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে আসে দলের ভাবমূর্তি নিয়ে উদ্বেগ। তাঁর দাবি, একজন ব্যক্তিকে রক্ষা করতে গিয়ে গোটা সংগঠনকেই বিরোধীদের আক্রমণের মুখে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “একটা লোককে চোর বানাতে গিয়ে গোটা দলটাই চোর হয়ে গেল। এমনকি আদালত চত্বরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও চোর বলে স্লোগান শুনতে হয়েছে। এর জন্য দায়ী নেতৃত্বের ব্যর্থতা।”

কলকাতা পুরসভা নিয়ে ক্ষোভ (Tarak Singh)
দলীয় রাজনীতির পাশাপাশি কলকাতা পুরসভার কাজকর্ম নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তারক সিং। বিশেষ করে বর্ষা মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে তিনি ক্ষুব্ধ। তাঁর অভিযোগ, মনসুন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকই অনুষ্ঠিত হয়নি। তিনি জানান, মেয়রকে জানিয়েও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কমিশনারকেও বিষয়টি অবহিত করেছিলেন, কিন্তু তাতেও কোনো ফল মেলেনি। তিনি বলেন, “প্রতিদিন পুরসভায় আসছি, সরকারি তেল খরচ করছি, কিন্তু কোনো আউটপুট নেই। এখানে এসে চা পর্যন্ত পাওয়া যায় না। এভাবে চলতে পারে না। আমার বিবেক আছে, তাই পদত্যাগ করছি।”
‘কলকাতার স্বার্থে কাজ করতে চাই’ (Tarak Singh)
তারক সিং দাবি করেন, তিনি দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে কলকাতার স্বার্থে কাজ করতে চেয়েছিলেন। জমা জল সমস্যা, নিকাশি ব্যবস্থা এবং বর্ষাকালীন প্রস্তুতি নিয়ে একাধিকবার আলোচনা করার চেষ্টা করলেও নেতৃত্বের তরফে কোনো সাড়া পাননি। তাঁর বক্তব্য, “এমআইসি মিটিং হলো না, মেয়র আমাদের সঙ্গে আলোচনা করলেন না। অথচ শহরের মানুষ সমস্যার মুখে পড়ছেন। কলকাতার স্বার্থে কাজ করাই আমার উদ্দেশ্য ছিল।”
অভিষেকের বাড়ির নোটিশ বিতর্ক (Tarak Singh)
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে নোটিশ পাঠানোর ঘটনাকেও ঘিরে বক্তব্য রাখেন তারক সিং। তিনি বলেন, অনেকেই তাঁকে কমিশনারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে বলেছিলেন, কিন্তু তিনি সেই পথে হাঁটেননি। তাঁর মতে, “নোটিশ দেওয়া কোনো অপরাধ নয়। আইন মেনেই কাজ হয়েছে। কিন্তু বিষয়টিকে রাজনৈতিক রং দেওয়া হয়েছে।”

হাউস বন্ধ হওয়া নিয়ে প্রশ্ন (Tarak Singh)
পুরসভার হাউস বৈঠক বন্ধ হওয়া নিয়েও সরব হন তিনি। তাঁর দাবি, আইনি ব্যাখ্যা ছাড়াই হাউস বন্ধ রাখা হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক রীতিনীতির পরিপন্থী। তিনি বলেন, “প্রতি মাসে অন্তত একটি হাউস হওয়া বাধ্যতামূলক। আইনি পথে সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত ছিল।”
‘১০৪টি ওয়ার্ডে পিছিয়ে তৃণমূল’ (Tarak Singh)
দলের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারক সিং। তাঁর মতে, একাধিক ওয়ার্ডে তৃণমূলের প্রভাব কমেছে। তিনি বলেন, “১০৪টি ওয়ার্ডে আমরা পিছিয়ে পড়েছি। এই পরিস্থিতিতে বোর্ডের পদত্যাগ করা উচিত।” নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি জানান, তিনি কোনো গোপন রাজনীতি করছেন না এবং কারও নির্দেশে কথা বলছেন না। তাঁর বক্তব্য, “আমি কারও ক্রীতদাস নই। যা বলছি প্রকাশ্যেই বলছি। নেতৃত্বের প্রতি আমার অনাস্থা রয়েছে।”
বিজেপিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তাবও ফিরিয়েছিলেন
তারক সিং দাবি করেন, অতীতে তাঁকে বিজেপির টিকিটে নির্বাচনে লড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।তিনি বলেন, “কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন বিজেপির টিকিট পাব। কিন্তু আমি যাইনি। দল ছাড়িনি।”
শুভেন্দু প্রসঙ্গেও আক্রমণ (Tarak Singh)
শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, দলের মধ্যে বিভাজনের রাজনীতি শুরু হয়েছিল অনেক আগেই। তাঁর মতে, নেতৃত্বের পক্ষ থেকে সঠিক রাজনৈতিক শাসনের অভাব ছিল। তিনি বলেন, “দলের মধ্যে বিভাজন হয়েছে। আমরা অনেক কথা বলতেই পারিনি।” ত্রিফলা আলো প্রকল্প সংক্রান্ত বিতর্ক নিয়েও মুখ খুলেছেন তারক সিং। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য করায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। এই ঘটনাকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলের ভেতরে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্রমশ সংকুচিত হয়েছে এবং সমালোচনাকে সহজভাবে নেওয়া হয় না।

এদিকে আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কতা
রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই আবহাওয়া দপ্তর জারি করেছে ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা। আগামী দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: Pahalgam Pak: পহেলগাম হামলায় পাক যোগ! ৯/১১ হামলায় যুক্ত ব্যাঙ্কের নাম এল তদন্তে
কোন কোন জেলায় সতর্কতা?
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর পাশাপাশি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। আবহাওয়াবিদদের মতে, ঝড়ের সঙ্গে বজ্রপাতের আশঙ্কাও রয়েছে। তাই খোলা মাঠ, গাছের নিচে বা বিদ্যুৎ খুঁটির কাছাকাছি অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



