Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দীর্ঘ উনিশ বছরের অপেক্ষার অবসান। ২০২৬ সালের আগস্ট মাসের শুরুতে আবারও কলকাতার মাটিতে পা রাখলেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)। তাঁর এই প্রত্যাবর্তন শুধু ব্যক্তিগত সফর নয়, বরং বাংলা ভাষা, সাহিত্য এবং সংস্কৃতির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের আবেগঘন সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়। কলকাতায় পৌঁছেই তিনি জানিয়েছেন, এই শহরের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ তাঁর কাছে কলেজ স্ট্রিটের বইয়ের গন্ধ, ঐতিহ্যবাহী কফি হাউসের আড্ডা এবং বহুদিনের পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে আবার দেখা করার সুযোগ।

এক শহর, অসংখ্য স্মৃতির ভাণ্ডার (Taslima Nasrin)
তসলিমা নাসরিনের সাহিত্যজীবনের সঙ্গে কলকাতার সম্পর্ক বহু পুরনো। একসময় এই শহরেই তিনি সাহিত্যচর্চা করেছেন, পাঠকদের ভালোবাসা পেয়েছেন এবং বাংলা ভাষার সাহিত্যাঙ্গনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন। নানা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতির কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন কলকাতা ছেড়ে থাকতে হলেও শহরের প্রতি তাঁর টান কখনও কমেনি। প্রায় দুই দশক পর কলকাতায় ফিরে এসে তিনি যেন স্মৃতির অলিগলিতে ফিরে যেতে চান। তাঁর কথায়, এই শহরের প্রতিটি রাস্তা, প্রতিটি বইয়ের দোকান, প্রতিটি কফির কাপ যেন অতীতের অগণিত মুহূর্তকে আবারও জীবন্ত করে তোলে।
তসলিমা নাসরিন জানিয়েছেন (Taslima Nasrin)
কলকাতার নাম উচ্চারণ করলেই যে কয়েকটি স্থানের কথা প্রথম মনে পড়ে, তার মধ্যে কলেজ স্ট্রিট অন্যতম। এশিয়ার বৃহত্তম পুরনো বইয়ের বাজার হিসেবে পরিচিত এই ঐতিহাসিক অঞ্চল শুধু বই কেনাবেচার কেন্দ্র নয়, বরং বাংলা ভাষা, সাহিত্য, শিক্ষা এবং বৌদ্ধিক চর্চার এক অনন্য প্রতীক। তসলিমা নাসরিন জানিয়েছেন, তিনি আবার কলেজ স্ট্রিটে হাঁটতে চান। পুরনো বইয়ের দোকান ঘুরে দেখতে চান, বইয়ের পাতায় জমে থাকা সেই চেনা গন্ধ অনুভব করতে চান। তাঁর কাছে এই গন্ধ শুধু কাগজের নয়; এটি স্মৃতি, জ্ঞান, ইতিহাস এবং বাংলা সাহিত্যজগতের এক অমূল্য ঐতিহ্যের প্রতীক।
কফি হাউসের আড্ডা—ফিরে পাওয়া অতীত (Taslima Nasrin)
কলেজ স্ট্রিট মানেই কফি হাউস। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, শিল্পী, গবেষক এবং ছাত্রছাত্রীদের আড্ডার অন্যতম কেন্দ্র এই ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান। তসলিমা নাসরিন জানিয়েছেন, তিনি কফি হাউসে বসে আবারও সেই পুরনো পরিবেশ অনুভব করতে চান। এক কাপ কফি আর দীর্ঘ আড্ডার মধ্য দিয়ে ফিরে দেখতে চান জীবনের বহু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। তাঁর কাছে কফি হাউস শুধুমাত্র একটি রেস্তোরাঁ নয়; এটি বাংলা সংস্কৃতি ও মুক্তচিন্তার এক জীবন্ত প্রতীক।
পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে পুনর্মিলনের অপেক্ষা (Taslima Nasrin)
দীর্ঘ সময় বিদেশে এবং ভারতের বিভিন্ন শহরে কাটানোর পর কলকাতায় ফিরে পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন তসলিমা নাসরিন। সাহিত্যিক, সাংবাদিক, শিল্পী এবং ব্যক্তিগত পরিচিতদের সঙ্গে আবারও মুখোমুখি বসে কথা বলতে চান তিনি। সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলে গেলেও সম্পর্কের উষ্ণতা যে এখনও অটুট থাকতে পারে, সেই আশাই তাঁর কথায় স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
নির্বাসনের দীর্ঘ পথচলা (Taslima Nasrin)
তসলিমা নাসরিন দীর্ঘদিন ধরে নিজ দেশের বাইরে বসবাস করছেন। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং লেখালেখিকে কেন্দ্র করে নানা বিতর্কের পর তাঁকে নির্বাসিত জীবন কাটাতে হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থেকেছেন, কিন্তু বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চা থেকে কখনও নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখেননি। বাংলা ভাষায় লেখালেখি, নারীর অধিকার, মানবতাবাদ এবং ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্নে তিনি বরাবরই নিজের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। তাঁর সাহিত্যকর্ম যেমন সমর্থন অর্জন করেছে, তেমনই বিতর্কও সৃষ্টি করেছে।
আরও পড়ুন: Kolkata Metro: CMS পরীক্ষার্থীদের জন্য রবিবার ভোর থেকেই বিশেষ মেট্রো পরিষেবা
কলকাতার সঙ্গে আবেগের সম্পর্ক
কলকাতা তসলিমা নাসরিনের কাছে শুধু একটি শহর নয়। এটি বাংলা ভাষার প্রাণকেন্দ্র, সাহিত্যচর্চার উর্বর ভূমি এবং অসংখ্য স্মৃতির আধার। তাই দীর্ঘ ১৯ বছর পর এই শহরে ফিরে তাঁর আবেগ প্রকাশ্যে এসেছে স্বাভাবিকভাবেই। তিনি জানিয়েছেন, কলকাতার মানুষ, বই, ভাষা, সংস্কৃতি এবং আন্তরিক পরিবেশ তাঁকে বারবার এই শহরের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। তাই আবার এই শহরে ফিরে তিনি যেন নিজের এক টুকরো অতীতকে ফিরে পেয়েছেন।



