Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: এক সময় যে মেসি কেরিয়ার শুরু করেছিলেন উইঙ্গার হিসেবে আজ তিনিই স্ট্রাইকার আবার দলের মূল চালিকাশক্তি (Lionel Messi)।
কলকাতার মেসি (Lionel Messi)
কলকাতার রাস্তায় আজও দেখা যায় ফুটবলার হওয়ার স্বপ্নে অনেকের জার্সিতে লেখা মেসির নাম। হাতে আর্জেন্টিনার পতাকা। এই ভাবে বিশ্ব ফুটবল থেকে কলকাতার গলিতে ছড়িয়ে রয়েছেন হাজার হাজার মেসি। যাঁদের জীবনে হয়ত অভাব আছে অনটন আছে কিন্তু তাঁদের কাছে মেসি নামক স্বপ্ন আছে। বুকে আছে অসম্ভব জেদ আর সেই এক বুক বারুদের বাসা নিয়ে লড়াই করে যাচ্ছে পৃথিবীর সমস্ত প্রতিকূলতার সঙ্গে (Lionel Messi)।
উত্তর কলকাতার এক অভাবের ঘরে জন্ম নেওয়া ছেলের নাম টুকাই। যার বাবার দিন আনার টাকায় কোনও মতে সংসার চালিয়ে নেন মা। বেশিরভাগ দিনই আধ পেটা কিন্তু সেই টুকাই রোজ বিকেল হলেই পাড়ার বন্ধুদের সঙ্গে বেরিয়ে পড়ে ফুটবল খেলতে। ফুটবল কেনার পয়সা না থাকলেও কখনও বোতল আবার কখনও মোজার মধ্যে কাগজ ঢুকিয়ে সেটাকেই ফুটবল বানিয়ে এগিয়ে চলে জীবনের মাঝ মাঠে। খুব অদ্ভুতভাবে তাঁরও জন্মদিন ২৪ জুন আর তাঁর বাবা সারা বছর টাকা জমিয়ে সেই টুকাইয়ের জন্য নিয়ে আসে মেসি লেখা জার্সি। ফুটপাথের যে জার্সি হয়ত দামের দিক থেকে কিছুই না কিন্তু টুকাইয়ের কাছে সেটাই পৃথিবীর সবচেয়ে দামি জিনিস তখন। এমন ভাবেই মেসি হওয়ার স্বপ্ন ছড়িয়ে রয়েছে কলকাতা থেকে কেরালার অলি গলিতে (Lionel Messi)।
আজও ভেঙে পড়লে অথবা জীবনের কঠিন সমস্যা এলে টুকাই সেই বাবার জার্সিটা একবার হাতে নিয়ে দেখে। গায়ে না হলেও সেই জার্সি তাঁর মনে থেকে যাবে সারাজীবন। টুকাই বড় হয়েছে, এখন অবস্থা ফিরেছে, নাম হয়েছে কিন্তু আজও সে নিজেকে একটাই কথা বলে যে এখনও মেসি হতে চায় কারণ সেটাই তাঁর জীবনের মূল চালিকা শক্তি।
মেসি ম্যানিয়া
চলতি বিশ্বকাপে যে দলগুলির দিকে সবচেয়ে বেশি নজর রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম আর্জেন্টিনা। আর তার প্রধান কারণ? এক এবং অদ্বিতীয় লিওনেল মেসি। এই বিশ্বকাপে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। মেসির কেরিয়ারে যে স্বাদ অধরা ছিল সেই ফুটবল বিশ্বকাপও যেতে ২০২২ সালে। ৩৯ বছরে পা দিলেন মেসি আর এটা তাঁর ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। এই বিশ্বকাপ তিনি শুরু করেছেন গোলের হ্যাটট্রিক দিয়ে। এমনকি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড এখন মেসির দখলে। এই রেকর্ড যেদিন তিনি করলেন সেদিন ছিল ২২ জুন আর সেই দিনেই আরেক বিখ্যাত ঘটনার সাক্ষী থেকেছে ফুটবল বিশ্ব। আর্জেন্টিনার তারকা মারাদোনার হ্যান্ড অফ গডের দিনেই নতুন রেকর্ড তাঁর ভাবশিষ্যের (Lionel Messi)।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা জয় বয়সের সঙ্গে সঙ্গে পারফরম্যান্স কমতে দেখা যায়। তবে যাঁরা সর্বকালের সেরা হন তাঁরা নতুনভাবে নিজেদের গড়ে তোলেন। বিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেন যাঁরা তাঁরাই ফিটেস্ট আবার তাঁরাই রাজত্ব করেন। টেনিসে ফেডেরার থেকে ক্রিকেট শচীন আবার ফুটবলে মেসি বা রোনাল্ডো। যতদিন গেছে এনারা নিজেদের নিখুঁত করে তুলে ধরেছেন। পেনাল্টি বোজ থেকে ডি বাক্স নিজেদের মানিয়ে নিয়েছেন বলেই এরা সেরা। তবে আজ যে মেসি দলের মূল চালিকাশক্তি আবার গেমমেকার তিনি কিন্তু শুরুটা করেছিলেন উইঙ্গার হিসেবে। এখন গোলশিকারী হিসেবে বরাবর চর্চায় থেকেছেন মেসি আর রোনাল্ডো (Lionel Messi)।
১৬ বছর বয়সে বার্সেলোনার হয়ে হোসে মরিনহোর পোর্তোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে অভিষেক হয়েছিল এলএম ১০-এর। তখন তিনি ডান দিকে খেলতেন, ড্রিবলিং করতেন। সেই সময় থেকে শুরু করে আর্জেন্টিনা ও ইন্টার মায়ামির বর্তমান মেসি হয়ে ওঠার পথে তিনি অন্তত পাঁচবার নিজের খেলার ধরন বদলেছেন। আর প্রতিবারই তাঁর সেই পরিবর্তন তাঁকে আরও পরিণত, কার্যকর ও নিখুঁত ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে (Lionel Messi)।
মেসির উইং থেকে সরে যাওয়া
ভারত বিশ্বকাপ না খেললেও ভারতে বিশ্বকাপ বা ফুটবল নিয়ে উন্মাদনা থেকেছে বরাবর আকাশছোঁয়া। এক সময় পেলে থেকে মারাদোনা, ব্রাজিল থেকে আর্জেন্টিনা বরাবর ভারতের মানুষ গলা ফাটিয়েছেন পছন্দের দল এবং প্লেয়ারের জন্য। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম পাল্টেছে আর উন্মাদনার ব্যাটন এক হাত থেকে আরেক হাতে এসেছে। বর্তমান ফুটবলকে আরও বেশি জনপ্রিয় করার অন্যতম কারিগর মেসি। ব্রাজিল তারকা রোনালদিনহোর সমর্থক নেই এমন খুব কম জায়গা আছে। তিনি প্রথম মেসিকে দেখে বলেছিলেন ‘এ একদিন বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় হবে।’ তাঁর এই বক্তব্য যে সত্যি সেটাই আজ প্রমাণিত (Lionel Messi)।
২০০৫ সালের আগস্টে জুভেন্টাসের বিপক্ষে জোয়ান গ্যাম্পার ট্রফিতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে বিশ্ব ফুটবলে নিজের নিজের আগমনের ঘোষণা করেন ১৮ বছর বয়সী মেসি। সেই ম্যাচে মেসির খেলা দেখে এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন জুভেন্টাসের তৎকালীন কোচ ফাবিও ক্যাপেলো যে, তিনি নাকি সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে দলে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
মেসির বয়স যখন ২১ সেই সময় রোনালদিনহোর জায়গায় তাঁর কাঁধে ধীরে ধীরে দলের সব দায়িত্বের ভার আসতে থাকে। সেই সময় বার্সেলোনার কোচ বুঝে গেছেন মেসিকে প্রয়জন মাঝ মাঠে। সেই সময় রাইকার্ড বলেছিলেন মেসিকে থাকতেই হবে মাঠের কেন্দ্রবিন্দুতে। তাঁর পায়ে যত বল আসবে ততই ভাল হবে দলের জন্য।
২০০৮ সালে পেপ গার্দিওলা যখন বার্সেলোনার দায়িত্ব নেন তখন প্রথম কয়েক মাস মেসি মূলত ডান উইং থেকেই খেলতেন। সেটিই ছিল তাঁর গোলের পথে এগিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে পরিচিত করিডর আর সেখানেই তিনি নিজের দক্ষতা দেখা থাকেন। তবে গার্দিওলা জানতেন মেসি একদিন মাঝ ম্যাথ পরিচালনা করবেন। সেই ভাবনাকে মাথায় রেখেই তিনি দল সাজিয়েছিলেন। তবে এর পর আসে সবচেয়ে স্মরণীয় মহুর্তগুলো (Lionel Messi)।
‘ফলস নাইন’
সালটা ২০০৯, দিন ২ মে। লা লিগার গুরুর্ত্বপূর্ণ ম্যাচ বার্সেলোনা বনাম রিয়াল মাদ্রিদ। সেদিন বার্সেলোনা দলের কোচ এক অভিনব সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ডান দিক থেকে সরিয়ে মেসিকে আক্রমণের মাঝখানে নিয়ে আসলেন। তবে সেখানে তাঁর ভূমিকা প্রচলিত স্ট্রাইকারদের মত ছিল না। তিনি দরকারে বারবার নিচে নেমে বল নিতে এবং খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারতেন। এই ভাবে কিছুটা ফ্রি হয়েই আক্রমণের দিক তিনি নির্ধারণ করতেন (Lionel Messi)।
সেই সময় ডান দিকে খেলেন স্যামুয়েল এতো, বাম দিকে থিয়েরি অঁরি। আর মেসির দায়িত্ব ছিল নিচে নেমে বল নেওয়া, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং আক্রমণ সাজানো। সেই ম্যাচের শেষে স্কোর ছিল ৬-২। সেদিন আধুনিক ফুটবলে জন্ম নেয় এক অভিনব কৌশল যার নাম ‘ফলস নাইন।’
তবে এর আগেও এই কৌশল একবার দেখা গেছিল আর সেটা ছিল ১৯৫৩ সাল। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে হাঙ্গেরি কোচ গুস্তাভ সেবেস এই কৌশল ব্যবহার করেছিলেন এবং ৬-৩ গোলে ম্যাচে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। এক্ষেত্রে বিপক্ষের সেন্টার ব্যাকরা নিজেদের জায়গা ছেড়ে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হন আর সেই ফাঁকা জায়গা কাজে লাগিয়ে আক্রমণ করে একটা দল। গার্দিওলার পরিকল্পনায় মেসি দ্রুতই প্রতিপক্ষের জন্য এমন এক সমস্যায় পরিণত হন, যার কার্যকর সমাধান ছিল না (Lionel Messi)।
মেসি যখন মাঠের মাঝখানে ও রক্ষণভাগের মাঝের ফাঁকা জায়গায় নেমে আসতেন, তখন রিয়াল মাদ্রিদের সেন্টার-ব্যাকদের সামনে দুটি কঠিন সিদ্ধান্ত থাকত তারা কি মেসিকে অনুসরণ করে নিজেদের অবস্থান ছাড়বে, নাকি জায়গায় থেকে মেসিকে বল নিয়ে ঘোরার সুযোগ দেবে?
দুই সিদ্ধান্তের কোনোটিই কার্যকর হয়নি। মেসি সহজেই ফাঁকা জায়গা ব্যবহার করে এগিয়ে যেতেন। তার পেছনে ছিলেন জাভি, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা ও ইয়ায়া তোরে। অন্যদিকে থিয়েরি অঁরি ও স্যামুয়েল এতো দুই দিকে রক্ষণভাগকে ছড়িয়ে রাখতেন। ফলে প্রতিপক্ষ যে সিদ্ধান্তই নিত, সেটিই শেষ পর্যন্ত তাদের বিপক্ষে যেত।
২০১১ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে লা লিগায় মাত্র ৬৯ ম্যাচে মেসি করেন অবিশ্বাস্য ৯৬ গোল। ২০০৯ সালে প্রথমবার জেতা ব্যালন ডি’অর এরপর যেন তার নামেই বারবার লেখা হয়। তিনি ২০১০, ২০১১, ২০১২, ২০১৫ ও ২০১৯ সালেও এই পুরস্কার জেতেন। পরে তার মোট ব্যালন ডি’অরের সংখ্যা দাঁড়ায় আটটি। প্রথমটি জিতেছিলেন ২২ বছর বয়সে, আর সর্বশেষটি ৩৬ বছর বয়সে।
আরও পড়ুন: Budhakhali Case: ২০১৮ সালে বুধাখালিতে সিপিএম সমর্থকের পুড়িয়ে মারার ঘটনায় আটক ১০
রূপান্তর
২০১৫ সালে জাভি বার্সেলোনা ছাড়েন। তিন বছর পর বিদায় নেন ইনিয়েস্তাও। এরপর থেকেই দলটির ভেতরে এক বড় পরিবর্তন শুরু হয়। লিওনেল মেসি বরাবরই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণকারী খেলোয়াড় ছিলেন আর সেই সময় থেকেই তাঁর কাঁধে শুধু গোল করার দায়িত্ব নয়, পুরো দলের আক্রমণভাগের মূল চালিকাশক্তি হয়ে ওঠার দায়িত্বও নিতে হয় (Lionel Messi)।
যে মিডফিল্ড একসময় তাঁকে নিরাপত্তা দিত, যারা বলের দখল ধরে রাখত, খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করত এবং তাঁর জন্য জায়গা তৈরি করত, তারা আর দলে ছিলেন না। ফলে একসময় মেসির কাছ থেকে একই সঙ্গে জাভি, ইনিয়েস্তা এবং দলের প্রধান গোলদাতার ভূমিকা পালনের প্রত্যাশা করা হচ্ছিল।
বাস্তবে এটি ছিল যেকোনো ফুটবলারের জন্যই অত্যন্ত কঠিন দায়িত্ব কিন্তু পেলেয়ারের নাম যদি মেসি হয় সেটাও অবলীলায় করে দিতে পারেন। এখানেও নিজের খেলার ধরণ বদলে নেন মেসি। গোলদাতা, নাম্বার টেন বা ‘ফলস নাইন’ থেকে তিনি ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন একজন প্লেমেকার। এর কারণে তাঁর গোলের পাশাপাশি অ্যাসিস্টের সংখ্যাও দ্রুত বাড়তে থাকে। ২০১৯-২০ মৌসুমে লা লিগার ৩৩ ম্যাচে তিনি করেন ২৫ গোল এবং ২২টি অ্যাসিস্ট।
জীবনের নানান পর্যায় এসে নিজেকে বারবার বদলে নিয়েছেন মেসি। তাঁর জন্য খুব প্রাসঙ্গিক একটি গান সেটাও আবার বাংলার একটি সিনেমার। ‘পাতালঘর’ সিনেমার নাম কমবেশি সবার জানা এবং দেখা আর সেখানেই একটা গান ছিল, ‘আমি যে কোন ভূমিকায় সমানে লড়ে যাই, আপনি যা চান আমি ঠিক তাই’, হ্যাঁ ময়দানের মেসি থেকে বাস্তবের মেসিরা সব রকম ভূমিকায় লড়ে যাচ্ছেন। যাঁরা হার না মেনে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন সেই সব মেসিদের লিওনেল মেসির জন্মদিনে অনেক শুভেচ্ছা (Lionel Messi)।
মেসির জন্মদিনে তাঁর উত্থান কাহিনী: চলতি বিশ্বকাপে যে দলগুলির দিকে সবচেয়ে বেশি নজর রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম আর্জেন্টিনা। আর তার প্রধান কারণ? এক এবং অদ্বিতীয় লিওনেল মেসি। এই বিশ্বকাপে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। মেসির কেরিয়ারে যে স্বাদ অধরা ছিল সেই ফুটবল বিশ্বকাপও যেতে ২০২২ সালে। ৩৯ বছরে পা দিলেন মেসি আর এটা তাঁর ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। এই বিশ্বকাপ তিনি শুরু করেছেন গোলের হ্যাটট্রিক দিয়ে। এমনকি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড এখন মেসির দখলে। এই রেকর্ড যেদিন তিনি করলেন সেদিন ছিল ২২ জুন আর সেই দিনেই আরেক বিখ্যাত ঘটনার সাক্ষী থেকেছে ফুটবল বিশ্ব। আর্জেন্টিনার তারকা মারাদোনার হ্যান্ড অফ গডের দিনেই নতুন রেকর্ড তাঁর ভাবশিষ্যের।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা জয় বয়সের সঙ্গে সঙ্গে পারফরম্যান্স কমতে দেখা যায়। তবে যাঁরা সর্বকালের সেরা হন তাঁরা নতুনভাবে নিজেদের গড়ে তোলেন। বিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেন যাঁরা তাঁরাই ফিটেস্ট আবার তাঁরাই রাজত্ব করেন। টেনিসে ফেডেরার থেকে ক্রিকেট শচীন আবার ফুটবলে মেসি বা রোনাল্ডো। যতদিন গেছে এনারা নিজেদের নিখুঁত করে তুলে ধরেছেন। পেনাল্টি বোজ থেকে ডি বাক্স নিজেদের মানিয়ে নিয়েছেন বলেই এরা সেরা। তবে আজ যে মেসি দলের মূল চালিকাশক্তি আবার গেমমেকার তিনি কিন্তু শুরুটা করেছিলেন উইঙ্গার হিসেবে। এখন গোলশিকারী হিসেবে বরাবর চর্চায় থেকেছেন মেসি আর রোনাল্ডো।
১৬ বছর বয়সে বার্সেলোনার হয়ে হোসে মরিনহোর পোর্তোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে অভিষেক হয়েছিল এলএম ১০-এর। তখন তিনি ডান দিকে খেলতেন, ড্রিবলিং করতেন। সেই সময় থেকে শুরু করে আর্জেন্টিনা ও ইন্টার মায়ামির বর্তমান মেসি হয়ে ওঠার পথে তিনি অন্তত পাঁচবার নিজের খেলার ধরন বদলেছেন। আর প্রতিবারই তাঁর সেই পরিবর্তন তাঁকে আরও পরিণত, কার্যকর ও নিখুঁত ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
মেসিকে উইং থেকে সরিয়েছিলেন গার্দিওলা
ভারত বিশ্বকাপ না খেললেও ভারতে বিশ্বকাপ বা ফুটবল নিয়ে উন্মাদনা থেকেছে বরাবর আকাশছোঁয়া। এক সময় পেলে থেকে মারাদোনা, ব্রাজিল থেকে আর্জেন্টিনা বরাবর ভারতের মানুষ গলা ফাটিয়েছেন পছন্দের দল এবং প্লেয়ারের জন্য। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম পাল্টেছে আর উন্মাদনার ব্যাটন এক হাত থেকে আরেক হাতে এসেছে। বর্তমান ফুটবলকে আরও বেশি জনপ্রিয় করার অন্যতম কারিগর মেসি। ব্রাজিল তারকা রোনালদিনহোর সমর্থক নেই এমন খুব কম জায়গা আছে। তিনি প্রথম মেসিকে দেখে বলেছিলেন ‘এ একদিন বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় হবে।’ তাঁর এই বক্তব্য যে সত্যি সেটাই আজ প্রমাণিত।
২০০৫ সালের আগস্টে জুভেন্টাসের বিপক্ষে জোয়ান গ্যাম্পার ট্রফিতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে বিশ্ব ফুটবলে নিজের নিজের আগমনের ঘোষণা করেন ১৮ বছর বয়সী মেসি। সেই ম্যাচে মেসির খেলা দেখে এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন জুভেন্টাসের তৎকালীন কোচ ফাবিও ক্যাপেলো যে, তিনি নাকি সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে দলে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।


