Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপের বুধাখালি এলাকায় ২০১৮ সালের ১৩ মে পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগের রাতে ঘটে যাওয়া এক নৃশংস ঘটনাকে ঘিরে আবারও তোলপাড় শুরু হয়েছে (Budhakhali Case)। অভিযোগ, ওই রাতে নিজেদের বাড়ির ভিতর জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছিল সিপিআইএম সমর্থক দম্পতি দেবু দাস ও ঊষা দাসকে। ঘটনাটি সেই সময় গোটা রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসার অন্যতম আলোচিত উদাহরণ হয়ে উঠেছিল। দম্পতির মৃত্যুর পর তাঁদের ছেলে কাকদ্বীপ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগপত্রে তিনি ১২ জনের নাম উল্লেখ করে তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে।

প্রথম তদন্ত নিয়ে বিতর্ক (Budhakhali Case)
ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করে। তবে পরিবারের অভিযোগ ছিল, যাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছিল তাঁদের অধিকাংশের নাম অভিযোগপত্রে ছিল না। ফলে প্রকৃত অভিযুক্তদের আড়াল করা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও সামনে আসে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি অভিযোগ তোলে যে তদন্ত নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। নিহতদের পরিবারও বারবার বিচার পাওয়ার দাবিতে সরব হয়।
হাইকোর্টের নির্দেশে বিশেষ তদন্তকারী দল
মামলার গুরুত্ব এবং তদন্ত নিয়ে বিতর্কের জেরে বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। পরবর্তীতে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়। এই সিটের নেতৃত্বে রয়েছেন আইপিএস অফিসার মুরলীধর শর্মা। সিট গঠনের পর মামলার নথি, সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং পূর্ববর্তী তদন্তের বিভিন্ন দিক নতুন করে খতিয়ে দেখা শুরু হয়। তদন্তকারীরা অভিযোগকারীর বক্তব্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য এবং পুরনো তদন্তের বিভিন্ন অসঙ্গতি পর্যালোচনা করছেন বলে জানা যায়।
অভিযোগে নাম থাকা ১০ জনকে আটক (Budhakhali Case)
সাম্প্রতিক সময়ে মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। গতকাল রাতে কাকদ্বীপ থানার পুলিশ অভিযোগপত্রে নাম থাকা ১০ জনকে আটক করে। বর্তমানে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তকারী সংস্থার মতে, দীর্ঘদিনের পুরনো এই মামলায় নতুন তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

পরিবারের দীর্ঘ অপেক্ষা (Budhakhali Case)
দেবু দাস ও ঊষা দাসের পরিবারের দাবি, তাঁরা দীর্ঘ আট বছর ধরে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন। অভিযোগে যাঁদের নাম ছিল তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বারবার সরব হয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের মতে, হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ এবং সিট তদন্ত শুরু হওয়ার পরই মামলাটি নতুন গতি পেয়েছে। অভিযোগে নাম থাকা ব্যক্তিদের আটক হওয়ায় তাঁরা আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন।
রাজনৈতিক গুরুত্বও কম নয় (Budhakhali Case)
বুধাখালি দ্বৈত খুনকাণ্ড শুধুমাত্র একটি ফৌজদারি মামলা নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক হিংসার ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত ঘটনা। পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে ঘটে যাওয়া এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে বহুবার রাজনৈতিক তরজা হয়েছে। ফলে তদন্তের প্রতিটি পদক্ষেপ এখন রাজনৈতিক মহলও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
আরও পড়ুন : Naushad Siddiqui: মণিপুর থেকে চাকরি দুর্নীতি, একসঙ্গে একাধিক ইস্যুতে নওশাদের তোপ
এখন নজর সিট তদন্তের দিকে
অভিযোগে নাম থাকা ১০ জনকে আটকের পর মামলাটি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। তদন্তে নতুন তথ্য উঠে আসে কি না, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হয় এবং আট বছর পুরনো এই মামলায় শেষ পর্যন্ত দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত হয় কি না সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে নিহত পরিবারের সদস্যরা এবং এলাকার মানুষ।



