Last Updated on [modified_date_only] by Ananya Dey
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল : রাজ্যে শিল্প ও কর্মসংস্থান বাড়াতে (SBI) যখন একদিকে নতুন বিনিয়োগ আনার উদ্যোগ চলছে, তখন অন্যদিকে কলকাতা থেকে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ দফতর সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (SBI) বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই কলকাতা থেকে একাধিক বিভাগ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দফতর সরানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে দাবি ব্যাংক অফিসারদের।
সরছে SBI-এর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতর
এসবিআইয়ের (SBI) সেন্ট্রাল অ্যাকাউন্টস অফিস, গ্লোবাল মার্কেট ইউনিট এবং সেন্ট্রালাইজড গ্লোবাল ব্যাক অফিস কলকাতা থেকে আগেই সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এবার এই ব্যাংকের সেন্ট্রালাইজড চেক প্রসেসিং সেন্টার, লায়াবিলিটি সেন্ট্রাল প্রসেসিং সেন্টার এবং সেন্ট্রালাইজ পেনশন প্রসেসিং সেন্টার সরানোর উদ্যোগ শুরু হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
কলকাতার সঙ্গে এসবিআইয়ের সম্পর্ক
কলকাতার সঙ্গে SBI-এর সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ১৮০৬ সালে ব্যাংক অব ক্যালকাটা এবং ১৮০৯ সালে ব্যাংক অব বেঙ্গলের হাত ধরে যে ব্যাংকিং ব্যবস্থার সূচনা, পরবর্তীতে তারই ধারাবাহিকতায় তৈরি হয়েছে আজকের স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া। দেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলির অন্যতম এই প্রতিষ্ঠানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতর দীর্ঘদিন কলকাতাকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হয়েছে।
আরও পড়ুন : Pak Terrorist Arrested: হামিম-কাণ্ডের সূত্রে ধরে সন্ধান, বেঙ্গল STF-এর জালে পাক-জঙ্গি!
কাজ হারানোর আশঙ্কায় কর্মীরা
আশঙ্কা করা হচ্ছে SBI-এর গুরুত্বপূর্ণ দফতরগুলি কলকাতা থেকে সরিয়ে নেওয়া হলে শুধু কর্মসংস্থানের সুযোগই কমবে না, এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে রাজ্যের রাজস্ব আদায়েও। একই সঙ্গে বহু চুক্তিভিত্তিক ও ঠিকাকর্মীর কর্মসংস্থানও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। অল ইন্ডিয়া ব্যাংক অফিসার্স কনফেডারেশনের রাজ্য সম্পাদক শুভজ্যোতি চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন – SBI-এর গুরুত্বপূর্ণ দফতরগুলি যাতে কলকাতা থেকে সরিয়ে নেওয়া না হয়, সে বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দেওয়া হলেও সরকারের তরফে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
আরও পড়ুন : South Bengal: বৃষ্টি থামলেও প্যাচপ্যাচে গরমের দাপট! ফের ভিজবে কোন কোন জেলা? জানাল হাওয়া অফিস
মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের দাবি
একদিকে শিল্প ও বিনিয়োগ টানার প্রতিশ্রুতি, কর্মসংস্থান বাড়ানোর কথা বলছে সরকার। অন্যদিকে কলকাতা থেকে SBI – এর একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ সরিয়ে যাওয়ার অভিযোগে তৈরি হচ্ছে কর্মসংস্থান হারানোর আশঙ্কা। প্রশ্ন উঠছে, নতুন শিল্প আনার পাশাপাশি যে প্রতিষ্ঠানগুলি ইতিমধ্যেই রাজ্যে কর্মসংস্থান ও রাজস্বের ভিত্তি তৈরি করেছে, সেগুলিকে ধরে রাখার উদ্যোগ কোথায়? অফিসারদের দাবি, শুধু নতুন বিনিয়োগের ঘোষণা নয়, কলকাতায় থাকা কর্মসংস্থান ও আর্থিক পরিকাঠামো ধরে রাখতেও এবার সরকারকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁদের আবেদন—বিষয়টি শুধু একটি ব্যাংকের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে না দেখে, রাজ্যের কর্মসংস্থান ও রাজস্বের প্রশ্ন হিসেবেও দেখা হোক।


