Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: যত সময় এগোচ্ছে, ততই সমাজের প্রতিটি স্তরে নিজের ছাপ ফেলছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (Union Budget)। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রশাসন থেকে শুরু করে শিল্প ও পরিষেবা ক্ষেত্র কোনও জায়গাই আজ এআই-এর প্রভাবের বাইরে নয়। এই বাস্তবতাকে স্বীকৃতি দিয়েই রবিবার বাজেট বক্তৃতায় এআই প্রসঙ্গকে বিশেষ গুরুত্ব দিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। কর্মক্ষেত্রে এআই-এর প্রভাব কীভাবে ভবিষ্যতের চাকরির ধরন বদলে দিতে চলেছে, তা মূল্যায়নের লক্ষ্যে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠনের প্রস্তাব নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ।
বাজেট বক্তৃতায় এআই (Union Budget)
বাজেট ঘোষণার সময় অর্থমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, পরিষেবা ক্ষেত্রে এআই ও নতুন প্রযুক্তির প্রভাব খতিয়ে দেখার জন্য একটি নতুন কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটির মূল দায়িত্ব থাকবে কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং উদ্যোগ তৈরিতে এআই-এর ভূমিকা বিশ্লেষণ করা। অর্থমন্ত্রী বলেন, “তরুণ ভারতের আকাঙ্ক্ষা পূরণের পথ প্রশস্ত করার জন্য আমি এক উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ‘শিক্ষা থেকে কর্মসংস্থান ও উদ্যোগ’ বিষয়ক স্থায়ী কমিটি গঠনের প্রস্তাব করছি।” এই বক্তব্য থেকেই পরিষ্কার, সরকার এআই-কে কেবল প্রযুক্তিগত অগ্রগতি হিসেবে দেখছে না, বরং মানবসম্পদ উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক বৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে।
চাকরি কি বিপন্ন, না কি রূপান্তরের পথে? (Union Budget)
এআই নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি ঘোরে চাকরির ভবিষ্যৎকে ঘিরে। একদিকে যেমন আশঙ্কা স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি বহু প্রচলিত কাজকে অপ্রয়োজনীয় করে তুলবে, অন্যদিকে তেমনই বাস্তবতা হল এআই নতুন ধরনের কাজ ও দক্ষতার চাহিদা তৈরি করছে। ডেটা অ্যানালিটিক্স, মেশিন লার্নিং, সাইবার সিকিউরিটি, এআই নৈতিকতা এই সব ক্ষেত্রেই কর্মসংস্থানের নতুন দরজা খুলছে। নতুন কমিটির মাধ্যমে সরকার যদি আগেভাগেই এই রূপান্তরের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনাগুলি চিহ্নিত করতে পারে, তবে ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষা করা অনেক সহজ হবে।

কৌশলগত স্বীকৃতি (Union Budget)
বাজেটের আগেই সংসদে পেশ করা অর্থনৈতিক সমীক্ষায় এআই-কে নিছক প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা হিসেবে না দেখে একটি আর্থ-অর্থনৈতিক কৌশল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, সঠিক নীতি ও বিনিয়োগের মাধ্যমে এআই ভারতের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে দেশের অবস্থান আরও মজবুত করতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে বাজেটে এআই নিয়ে কমিটি গঠনের ঘোষণা আসা অনেকের কাছেই প্রত্যাশিত হলেও, তার বাস্তবায়ন কতটা কার্যকর হবে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে ওয়াকিবহাল মহল।
তরুণ ভারতের ভবিষ্যৎ (Union Budget)
ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে পরিষেবা খাতের ভূমিকা অনস্বীকার্য। আইটি, ফিনান্স, হেলথকেয়ার, শিক্ষা সব ক্ষেত্রেই এআই দ্রুত জায়গা করে নিচ্ছে। তরুণ প্রজন্মকে এই বদলে যাওয়া বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য দক্ষ করে তোলা এখন সময়ের দাবি। শিক্ষা থেকে কর্মসংস্থান পর্যন্ত পুরো শৃঙ্খলটিকে যদি প্রযুক্তি-সক্ষম করা যায়, তবে কর্মসংস্থানের মান ও সুযোগ দুটিই বাড়বে।

আরও পড়ুন: Anandapur Fire: শুভেন্দুর প্রতিবাদ মিছিলে ডিজের তালে ‘উদ্দাম’ নাচ! পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী
রাজনৈতিক গুরুত্ব
এবারের বাজেটের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে আরেকটি ঐতিহাসিক দিক। নবমবারের মতো বাজেট পেশ করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ যা নিজেই এক নজিরবিহীন ঘটনা। আগামী বছর তিনি বাজেট পেশ করলে দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাইয়ের দশবার বাজেট পেশের রেকর্ডও স্পর্শ করবেন। এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ছাপ তাঁর বাজেট বক্তৃতায় স্পষ্ট যেখানে প্রযুক্তি, যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ অর্থনীতিকে এক সুতোয় বাঁধার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।



