Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ডিজিটাল যুগের আগের নায়ক ধর্মেন্দ্র, যাঁর পেশিবহুল চেহারা একসময়ে পর্দা শাসন করেছে (Dharmendra)। লুধিয়ানার ছোট্ট শহর থেকে অভিনয়ের টানে আসা স্বপ্ননগরীর এই যাত্রাপথ এক সময়ে তাঁর কাছে কিছু কল্পনার মতো।
‘রহে না রহে হাম’… (Dharmendra)
অনেক সময়েই অভিনয় পর্দা ছাপিয়ে বেরিয়ে আসতে চায় বাইরে। ঠিক যেন দক্ষ হাতে করা কোন পেইন্টিং। ক্যানভাস থেকে যে রং ছড়িয়ে পড়ে আমাদের সর্বত্র। ঢুকে পড়ে আমাদের জীবনেও। যার রেশ আমরা বয়ে নিয়ে যাই বহু কাল ধরে। আজও মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থাকতে হয় মোনালিসার সেই বিখ্যাত ছবির দিকে। সিনেমার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি বহুক্ষেত্রে। আর ভারতীয় বাণিজ্যিক সিনেমায় ধর্মেন্দ্র এমনই একটা নাম। যাঁকে একটা যুগও বলা চলে। তিনি অভিনয়ের বাইরে উপচে পড়তে পারেন। সেইজন্যই তিনি দিলীপ কুমার উত্তর যুগের এবং অমিতাভ বচ্চনের আবির্ভাবের অন্তর্বর্তী সময়ের সবচেয়ে বড় তারকা। সেই যুগের অবসান হল (Dharmendra)।

বলিউডের ‘হি-ম্যান’ ধর্মেন্দ্র আর নেই। ৮৯ বছরে তিনি প্রয়াত। চিরতারুণ্যের এক আইকন হয়েই থেকে যাবেন সকলের মনে। তবে জানেন? সাধারণ পরিবার থেকে আসা এই মানুষটি কী করে হয়ে উঠলেন সবার প্রিয়? পঞ্জাবের এক সাদামাঠা ছেলে যাঁর সবচেয়ে বড় মূলধন ছিল স্বপ্ন আর কয়েকশো সাদা-কালো ছবি। আর ছিল মায়ানগরীর বুকে অভিনয়ের অদম্য ইচ্ছে। তাঁর সেই ইচ্ছে শক্তি আর সেই সাদা-কালো ছবিগুলোই একসময় বদলে দিয়েছিল তাঁর ভাগ্য (Dharmendra)।

লুধিয়ানার ছোট্ট শহর থেকে যখন অভিনয়ের টান তাঁকে টেনে আনছিল, তখন মুম্বইয়ের রাস্তাঘাট, ষ্টুডিও সবকিছুই ছিল তাঁর কাছে বিস্ফারিত চোখে দেখা। এ যেন এক কল্পনার শহর আর সেই কল্পনার পিছেই ছুটছিলেন ধর্মেন্দ্র ও তাঁর চিঠি। হ্যাঁ, ঠিকই শুনছেন, মাসের পর মাস প্রায় দু’শোরও বেশি খাম ভরেছিলেন নিজের ছবি দিয়ে। সঙ্গে থাকত ছোট্ট একটি অনুরোধ বা এক লাইন লেখা। প্রতিটি খামের ভিতরে থাকত তাঁর সাদা-কালো ছবি আর হাতে লেখা কয়েক লাইন, ‘অভিনয় করতে চাই, সুযোগ পেলে প্রমাণ করব নিজেকে।’
আরও পড়ুন: Midnapore News: সপ্তাহের প্রথম দিনেই আগুন! কীভাবে অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন রোগীরা?
সিনেমার লাইনে কেউ চ্যানেল না পরিচিত। পোস্ট অফিস দিয়ে ঢোকার সময় সেটা ছিল তাঁর কাছে স্বপ্নের দরজা। বন্ধুদের কাছ থেকে পোস্টকার্ড ও স্টাম্পের খরচ ধার করে ঠিকানা জোগাড় করে চিঠি পাঠাতেন। একবার এক সাক্ষাৎকারে তিঁনি বলেছিলেন, ‘যে দিন পোস্ট অফিস যেতাম না, মনে হত স্বনের থেকে পিছিয়ে গেলাম এক ধাপ।’ পরিচালক ও প্রযোজকদের কাছে চিঠি পৌঁছত কিনা বা কেউ উত্তর দেবেন কিনা তার কোনও নিশ্চিয়তা ছিল না। তবু হাল ছাড়েননি তিঁনি। আর এভাবেই এক সময় খুলে যায় তাঁর জন্য বলিউডের দরজা যার পর আর পিছনে ফায়ার তাকাতে হয়নি তাঁকে। এই ভাবেই ধর্মেন্দ্র হয়ে ওঠেন বলিউডের অন্যতম আইকন, বলিউডের ‘হি-ম্যান’। আজ তাঁর প্রয়াণে শোক স্তব্ধ গোটা ভারতবর্ষ (Dharmendra)।


