Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ‘১০০ শতাংশ ফিট নই’, নিজের চোট নিয়ে মুখ খুললেন বিরাট (Virat Kohli)।
সম্পূর্ণ ফিট নন বিরাট (Virat Kohli)
মাছি গোঁফ, লাঠি, মলিন ঢোলা প্যান্ট, টাইট কোট, তথাকতিত সমাজের চোখে বলা যায় একেবারেই বেমানান। কিন্তু এই ট্রাম্প কার্ডই যে সমাজের কাছে আয়না সেটা মানুষ ধীরে ধীরে বুঝেছে। হাতের লাঠি আসলে যেন জাদুকাঠি আর সেই জাদুতে বুঁদ গোটা বিশ্ব। এই লোকটার পরিচয় কে না জানেন, সকলের প্রিয় অভিনেতা চার্লি চ্যাপলিন। যাঁর সম্পর্কে কোনও বিশেষণই খাটে না। কিংবদন্তি বিংশ শতকের সবথেকে বড় প্রতিভাদের মধ্যে একজন, বিশ্বের সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিল্পী-বুদ্ধিজীবী। তাঁর জন্য সব উপাধিই সামান্য (Virat Kohli)।
কিন্তু শিল্পী চ্যাপলিন আর মানুষ চ্যাপলিনের মধ্যে রয়েছে এক সাঁকো যা সুখ-দুঃখের ভিতের উপর তৈরি। শৈশবে কঠোর সংগ্রাম করে পরবর্তী বিশ্বমঞ্চে সেরাদের আসনে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা মোটেও সহজ নয়। যতবার তিনি দর্শকের সামনে এসেছেন ততবার খুব যত্নে লুকিয়ে রেখেছেন নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি। কারণ তখন তিনি পেশাদার এক শিল্পী। তাঁর ব্যক্তিগত আবেগ কোনওদিন কাজের প্রতি দায়বদ্ধতাকে ছাপিয়ে যেতে পারেনি আর তাই তিনি শ্রেষ্ঠ। তাঁর বিখ্যাত উক্তি জীবন সম্পর্কে যা আজও মুখে মুখে ঘোরে সেটা হল, ‘জীবন কাছ থেকে দেখলে ট্র্যাজিডি দূর থেকে কমেডি।’ এতটা ভূমিকার কারণ ক্রিকেট মাঠেও এমন অনেক ঘটনা আছে যারপর সেই ক্রিকেটারের প্রতি সম্মান আরও বেড়ে যায়।

পূর্বে শচীনকেও দেখা গিয়েছে নিজের চোট এবং ব্যক্তিগত শোককে সরিয়ে রেখে দলের জন্য নেমে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলতে। বর্তমানে ভারতের অন্যতম তারকা বিরাট কোহলি। তাঁকেও সেই একই কাজ বারবার করতে দেখা গিয়েছে আর সেটাই তাকে বসিয়েছে কিংবদন্তির আসনে। গতকাল LSG-র বিরুদ্ধে ম্যাচে সম্পূর্ণ ফিট না হয়েও নেমেছেন দলের জন্য এবং ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন (Virat Kohli)।

চলতি আইপিএল-এ ২৩ নম্বর ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু এবং লখনৌ সুপার জায়ান্টস। এই ম্যাচে পাঁচ উইকেটে জয় পায় বেঙ্গালুরু। এই জয়ের কারণে এই মুহূর্তে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে রয়েছে বেঙ্গালুরু। এবার ম্যাচ শেষে নিজের চোট নিয়ে মুখ খুললেন কোহলি।

কোহলি এই দিন ৪৯ রান করেন ৩৪ বলে। অল্পের জন্য হাফ সেঞ্চুরি মিস হলেও দলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। এই রানের ফলে অরেঞ্জ ক্যাপের দখল এখন কোহলির কাছে। এই ম্যাচে তাঁর স্ট্রাইক রেট কোহলিসুলভ না হলেও দলের জয়ের জন্য ভিত গড়তে সাহায্য করেছে। এই আইপিএল-এ এখনও পর্যন্ত তাঁর সংগ্রহে রয়েছে ২২৮ রান। যার মধ্যে রয়েছে দুটি অর্ধশতরান। তবে তাঁর চোট উদ্বেগের কারণ (Virat Kohli)।
এর আগে বিরাটের চোট নিয়ে উদ্বিঘ্ন ছিলেন সমর্থকরা। এবার নিজের চোট নিয়ে মুখ খুললেন স্বয়ং কোহলি। তিনি জানান এখনও তিনি পুরোপুরি ফিট নন। আগের ম্যাচে হাঁটুতে ব্যথা ছিল আর গত ৪-৫ দিন ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি। সেই কারণে ম্যাচে ফিল্ডিং করেননি এবং ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসেবে খেলেছেন।
বিরাট বলেন, ‘আগের ম্যাচের তুলনায় অনেক ভাল। আমি এখনও ১০০ শতাংশ ফিট নই। আগের ম্যাচে আমার হাঁটুতে ব্যথা করছিল। গত চার-পাঁচ দিন ধরে আমি শারীরিক ভাবেও একটু অসুস্থ ছিলাম। তাই এখন ধীরে ধীরে নিজের সেরা অবস্থায় ফেরার চেষ্টা করছি। এই ম্যাচে আমি ভাল ভাবে শুরু করেছি, তাই আমার ইন্টেনসিটি নিয়ে আমি খুশি ছিলাম। তবে আবারও বলছি, ম্যাচটা শেষ করে আসা উচিত ছিল (Virat Kohli)।’
পিচ নিয়ে কোহলি এই দিন মুখ খোলেন। তিনি বলেন পিচ আগের তুলনায় স্লো এবং শুষ্ক ছিল। ঘাসও কম ছিল। গরম আবহাওয়া ব্যাট করা আরও কঠিন করে তুলেছিল। বিরাট বলেন, ‘কখনও কখনও আপনাকে কন্ডিশনের কথাও মাথায় রাখতে হয়। পিচটা অনেক স্লো হয়ে গিয়েছিল এবং আমি চেষ্টা করছিলাম আগের মতোই খেলতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওই ইনিংসটা শেষ করা উচিত ছিল। (পিচ নিয়ে) হ্যাঁ, এটা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক স্লো ছিল। যদি দেখেন, এখানে যথেষ্ট ঘাসও ছিল না। গত ৩-৪ দিন খুবই গরম ছিল।’
বিরাট দিন বলেন পিচ খুব শুষ্ক ছিল এবং তাঁরা আগে থেকেই বুঝেছিলেন যে এটা স্লো উইকেট থাকবে। আর সেই কারণে শুরু থেকেই ম্যাচের দখল নেওয়ার লক্ষ্য ছিল। তিনি বলেন, ‘পিচ শুষ্কও ছিল খুব। তাই আমরা ভেবেছিলাম এটা শুষ্ক ও স্লো উইকেট হবে, চিন্নাস্বামীর মতো ট্যাকি উইকেট নয়। তাই এটা আলাদা ছিল, আর সেই কারণেই আমাদের পরিকল্পনা ছিল প্রথম পাঁচ-ছয় ওভারে ম্যাচটা প্রতিপক্ষের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া (Virat Kohli)।’
আরও পড়ুন: Dilip Ghosh: বাংলা সত্যিই ‘দখল’ করার কথা বলছে বিজেপি
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমাকে আমার ভূমিকা অনুযায়ী মানিয়ে নিতে হয়। এতে আমি স্যালটির (ফিল সল্ট) সঙ্গে ওপেনিংয়ে সহজে খেলতে পারি। আমাদের দলে সবাই নিজের দায়িত্ব ঠিক ভাবে পালন করে। রোমারিও (শেফার্ড) আর টিমের (ডেভিড) মতো খেলোয়াড় দলে আছে, তাই আমাদের ব্যাটিং খুব শক্তিশালী, আর দল ভালোই খেলছে।’
এই দিন LSG ওভার শেষে ১০ উইকেট হারিয়ে করে ১৪৬ রান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে সল্ট ৭ রানে ফিরে গেলেও কোহলি ৪৯ রান করেন। এরপর দলের অধিনায়ক রজত ২৭ এবং জিতেশ শর্মা ২৩ রান করেন। সবার সৌজন্যে ৫ উইকেট হাতে থাকতেই ম্যাচ জিতে নেয় বেঙ্গালুরু (Virat Kohli)।


