Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: টি-টোয়েন্টি আর টেস্ট ক্রিকেটের সাদা পোশাকটা অনেক আগেই তুলে রেখেছেন (Virat Kohli)। কিন্তু ২২ গজের রক্তে যার আগুন, সে কি অত সহজে শান্ত হতে পারে? আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অলিন্দে প্রায় দু’দশকের পথচলা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, ওডিআই বিশ্বকাপ—এক অলরাউন্ড কেরিয়ারের সমস্ত চূড়া ছোঁয়া হয়ে গেলেও, বুকের ভেতর থেকে আজও কমেনি দেশের নাম লেখা জার্সিটার প্রতি তীব্র অনুরাগ। জীবনের সমস্ত সাফল্য যার ঝুলিতে, সে চাইলে শেষটা আড়ালে থেকেই সেরে ফেলতে পারত। কিন্তু না, দেশের ভালোবাসায় আর দেশের বুকে ফের বিশ্বসেরার মুকুট ফিরিয়ে আনার উগ্র খিদেয় তিনি এখনও ২২ গজের চালক আসনে। লক্ষ্য এক ও অদ্বিতীয়—আগামী বছরের বিশ্বকাপটাই তাঁর শেষ, আর সেই মঞ্চে ব্যাট হাতে দেশকে চ্যাম্পিয়ন করে তবেই বিদায় নিতে চান তিনি!
গ্রিনফিল্ডে রাজকীয় মাইলফলক (Virat Kohli)
রবিবার তিরুঅনন্তপুরমের গ্রিনফিল্ড স্টেডিয়াম সাক্ষী রইল এক মহাকাব্যিক ইনিংসের। একবিংশ শতাব্দীর সেরা রান মেশিনের ঝুলিতে যোগ হলো আরও এক অবিস্মরণীয় মাইলস্টোন—একদিনীয় ক্রিকেটে ১৫,০০০ রান! প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ছারখার করে মাত্র ৭৪ বলে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে তুলে নিলেন নিজের কেরিয়ারের তৃতীয় দ্রুততম ওডিআই শতরান। গোটা স্টেডিয়াম দেখেছে নয়-নয়টি মহাকাশছোঁয়া ছক্কা আর চার-ছক্কার ধুমধাম প্রদর্শনী। সঙ্গে সেঞ্চুরি হাঁকালেন অনুজ তারকা শুভমান গিল-ও। যে বিরাটের খেলা দেখে ছোটবেলায় ব্যাটে সই করার স্বপ্ন দেখতেন গিল, সেই বিরাটের ঐতিহাসিক ১৫, হাজারের মুহূর্তটিতে ২২ গজের উল্টোদিকে দাঁড়িয়ে শুভমান যেন মন্ত্রমুগ্ধ। মুগ্ধ কণ্ঠে গিল বলছিলেন, “বিরাট ভাই এখন খেলাটা যেন সবকিছুর ঊর্ধ্বে গিয়ে উপভোগ করছে। ওর ব্যাটিংয়ে একদম নির্ভার স্বাধীনতা। পরিস্থিতি কেমন, কীভাবে ছক্কা হাঁকাতে হয়—সব ওঁর নখদর্পণে। এ এক দুর্ধর্ষ অভিজ্ঞতা!”
আগ্রাসী ভারসাম্যের নতুন নাম (Virat Kohli)
কেরিয়ারের এই সাঁঝবেলায় দাঁড়িয়ে নিজের খেলাকে যেন নতুন করে রি-ইনভেন্ট বা আবিষ্কার করছেন বিরাট। ট্রফি, সেঞ্চুরি, গ্ল্যামার আর রেকর্ডের পাহাড় পেরিয়ে বিরাটের মনের ক্যানভাসে এখন এক অদ্ভুত প্রশান্তি। তবে, স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন আগ্রাসন আর বেপরোয়া শটের পার্থক্য। কোহলির স্পষ্ট বক্তব্য, “জীবনের এই ধাপে এসে নতুনভাবে নিজের ব্যাটিংকে খুঁজে পাওয়া দারুণ অনুভূতির। এখন কোনও চাপ ছাড়া, উন্মুক্ত মনে ব্যাট করি। কিন্তু আমি আক্রমণাত্মক খেলব বলে বেপরোয়া হব না। দলের ক্ষতি হয় এমন বেহিসেবি শট কখনও খেলব না। একজন অভিজ্ঞ ও পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে এই সূক্ষ্ম ভারসাম্যটা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।”
শিকড়ের টানে এক মাটির মানুষের গল্প (Virat Kohli)
সাফল্যের সব আলো আর ভক্তদের অফুরান ভালোবাসার মধ্যেও নিজের শিকড়কে ভোলে যাননি বিরাট (Virat Kohli)। এত গ্ল্যামার, মানুষের উন্মাদনার মাঝেও তিনি পা রেখেছেন মাটিতেই। হৃদয়ের নিখাদ আবেগ ঢেলে দিয়ে কিং কোহলি স্মরণ করিয়ে দিলেন, “আমরা প্রায়শই ভুলে যাই যে ঠিক কোথা থেকে শুরু করেছিলাম। এত খ্যাতি আর নজরদারির মধ্যে নিজের শুরুটা বা শিকড়টা ভুলে যাওয়া কিন্তু খুব সহজ। কিন্তু আমি সেই প্রথম দিনগুলোকে আজও ভুলে যাইনি।”
আরও পড়ুন: India Football Team: ভারত-ব্রাজিল মেগা ম্যাচের আগে কলকাতায় ভারতীয় দল
রেকর্ডের রাজপুত্র তাই নিজের শেষ ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন পূর্ণ উদ্যমে। মাঠের সবুজ ঘাস হয়তো একদিন পুরনো হবে, কিন্তু বিরাটের এই নাছোড়বান্দা দেশের ভালোবাসা আর জেতার খিদেটা ক্রিকেট ইতিহাসে অমর হয়ে থেকে যাবে।



