Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পুরুলিয়া জেলার বরাবাজার ব্লকের রাজা পেলা গ্রামে এবারের নির্বাচনে এক বিরল চিত্র দেখা গেল (Vote Boycott)। গণতান্ত্রিক উৎসবের দিনেও গ্রামের বাসিন্দারা ভোটদান থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকলেন। তাদের এই সিদ্ধান্ত হঠাৎ নয় বরং দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, বঞ্চনা ও অবহেলার ফল। নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার পরেই গ্রামের মানুষ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিলেন, রাস্তার সমস্যা না মেটালে ভোট নয়।

মাত্র ৩০০ মিটার রাস্তার অভাবেই বিপর্যস্ত জনজীবন (Vote Boycott)
গ্রামের প্রধান সমস্যা একটি ছোট্ট রাস্তা হুড়ুমদা মোড় থেকে গ্রামে ঢোকার মুখ পর্যন্ত প্রায় ৩০০ মিটার অংশে কোনো পাকা বা কাঁচা রাস্তা নেই। ফলে বাসিন্দাদের চাষের জমির ওপর দিয়েই যাতায়াত করতে হয়। বর্ষায় কাদামাটি, গ্রীষ্মে ধুলো আর শীতে অস্বস্তিকর পথ সব ঋতুতেই এই রাস্তা হয়ে ওঠে দুর্ভোগের কারণ। এই অপ্রতুল অবকাঠামোর কারণে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্কুল, কলেজ, স্বাস্থ্যকেন্দ্র যে কোনো জরুরি কাজে বেরোতে গেলেই বাসিন্দাদের সম্মুখীন হতে হচ্ছে বিপদের।
দুর্ঘটনার ঝুঁকি, জীবনযাত্রায় অনিশ্চয়তা (Vote Boycott)
গ্রামের মানুষের অভিযোগ, এই পথ দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে একাধিকবার দুর্ঘটনা ঘটেছে। কেউ হাত ভেঙেছেন, কেউ গুরুতর আহত হয়েছেন। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ ও শিশুদের জন্য এই পথ অত্যন্ত বিপজ্জনক। জরুরি পরিস্থিতিতে, যেমন অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া, প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অ্যাম্বুল্যান্স গ্রামে ঢুকতেই পারে না, ফলে অনেক সময় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

বাসিন্দাদের কণ্ঠে ক্ষোভ ও হতাশা (Vote Boycott)
গ্রামের বাসিন্দা শান্তিরাম মাহাতো জানান, “আমাদের গ্রামে ৯০টিরও বেশি পরিবার রয়েছে, মোট ভোটার সংখ্যা ৪০০-র বেশি। কিন্তু এতদিনেও রাস্তার কোনো সমাধান হয়নি। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি কেউ ভোট দিতে যাব না।” এই বক্তব্যে স্পষ্ট, গ্রামবাসীরা তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত বোধ করছেন এবং সেই ক্ষোভই তাদের এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে।
প্রশাসনের প্রচেষ্টা, কিন্তু সমাধান অধরাই (Vote Boycott)
ভোট বয়কটের ডাক পাওয়ার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার গ্রামে গিয়ে আলোচনা করা হয়। আধিকারিকরা সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিলেও, বাস্তবে কোনো কাজ না হওয়ায় গ্রামের মানুষ আশ্বস্ত হননি। ফলে শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনাও কোনো ইতিবাচক ফল আনতে পারেনি।

গণতন্ত্র বনাম মৌলিক অধিকার
রাজা পেলা গ্রামের এই ঘটনা আবারও সামনে নিয়ে এল একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, মৌলিক পরিকাঠামোর অভাবে কি মানুষ গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হচ্ছে? ভোট দেওয়া যেমন নাগরিকের অধিকার, তেমনি ন্যূনতম পরিষেবা পাওয়াও তাদের প্রাপ্য। যখন সেই প্রাথমিক চাহিদাগুলোই পূরণ হয় না, তখন এই ধরনের প্রতিবাদই হয়ে ওঠে মানুষের শেষ ভরসা।



