Last Updated on [modified_date_only] by Suparna Ghosh
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সকাল থেকে আকাশের মুখ ভার। রাত থেকে দফায় দফায় ভারী বৃষ্টির জেরে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে কোচবিহার(Cooch Behar) শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা। বুধবার সকাল থেকেই শহরের একাধিক ওয়ার্ডে জল জমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। কোচবিহার পৌরসভার অন্তর্গত ১, ২, ৩, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর-সহ একাধিক ওয়ার্ডে জল ঢুকে যায় বাড়িঘরে। ফলে চরম সমস্যার মুখে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
জলের তলায় শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা(Cooch Behar)
শহরের ব্যস্ততম সুনীতি রোড, কেশব রোড, কামেশ্বরী রোড, প্রাণনারায়ণ রোড, সিলভার জুবলি রোড-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংযোগকারী রাস্তা হাঁটু সমান জলের তলায় চলে যায়। রাজবাড়ি, বেসরকারি বাসস্ট্যান্ড, কলাবাগান ও শিবযজ্ঞ রোডেও জল জমে থাকায় যান চলাচল কার্যত ব্যাহত হয়। ভবানীগঞ্জ বাজার ও নতুন বাজার সংলগ্ন রাস্তায় জল জমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। দোকানে ক্রেতা আসা কমে যাওয়ায় এবং জল ঢোকার আশঙ্কায় বহু ব্যবসায়ী আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ।

স্থায়ী সমাধানের আশায় বাসিন্দারা(Cooch Behar)
স্থানীয় বাসিন্দা চন্দন বসাকের অভিযোগ, গত প্রায় ৫০ বছর ধরে প্রতি বর্ষাতেই কোচবিহারে জল জমার একই সমস্যা দেখা দেয়। তাঁর দাবি, শহরের নিকাশি ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। ড্রেন সংস্কার, জল নিষ্কাশনের আধুনিক ব্যবস্থা এবং গোটা ড্রেনেজ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের দাবি জানান তিনি।

শহরবাসীর অভিযোগ, আধুনিক নর্দমাগুলির গভীরতা ও ঢাল সঠিক না থাকায় দ্রুত জল নামতে পারে না। বর্ষার আগে নিয়মিত পলি ও বর্জ্য পরিষ্কার না করায় নর্দমার প্রবাহও বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। অভিযোগ, রাজ আমলের বৈজ্ঞানিক নিকাশি কাঠামো নষ্ট হলেও তার বিকল্প কোনও কার্যকর মাস্টার প্ল্যান এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।
পরিস্থিতি খতিয়ে দেখলেন বিধানসভার অধ্যক্ষ
বুধবার সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ শহরের বিভিন্ন জলমগ্ন এলাকা পরিদর্শন করেন রাজ্য বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বোস। তিনি সরেজমিনে বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন এবং মানুষের বাড়িতে নোংরা ও নর্দমার জল ঢুকে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। রথীন্দ্র বোস বলেন, দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে কোচবিহারবাসী একই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি বিষয়টি সরকারের নজরে আনবেন এবং স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
আরও পড়ুন: Kanchrapara: কাঁচরাপাড়ায় আবারো বড়সড় অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার
কোচবিহারকে নতুন করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা
অধ্যক্ষ জানান, একসময় ‘সিটি অফ বিউটি’ নামে পরিচিত কোচবিহারকে(Cooch Behar) নতুন করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তাঁর লক্ষ্য, ২০২৮ সালের মধ্যে ভারতের সবচেয়ে স্বচ্ছ ও সুন্দর ১০টি শহরের তালিকায় কোচবিহারের নাম তুলে আনা। এরপর আরও দুই বছরের মধ্যে দেশের প্রথম দুই-তিনটি সেরা শহরের মধ্যে কোচবিহারকে জায়গা করে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রাও নেওয়া হয়েছে।


