Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কনকনে ঠান্ডা না থাকলেও সকাল ও সন্ধ্যায় দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে এখনও হালকা শীতের আমেজ অনুভূত হচ্ছে (Weather Update)। ভোরের দিকে শীতল হাওয়া আর শিশিরে ভেজা পরিবেশ মন ভালো করে দিচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই রোদের তেজ বেড়ে যাওয়ায় ঠান্ডার প্রভাব দ্রুতই কমে যাচ্ছে। উত্তুরে হাওয়ার দাপটে আপাতত তাপমাত্রা কিছুটা সহনীয় থাকলেও আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী এই মনোরম আবহাওয়া আর বেশিদিন স্থায়ী নয়।

ধীরে ধীরে বিদায় নিচ্ছে শীত (Weather Update)
আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সোমবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৫.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ১৫.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শুধু কলকাতা নয়, দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই তাপমাত্রা আপাতত ১১ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। মঙ্গলবার শ্রীনিকেতনে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছে ১১.৬ ডিগ্রিতে, ঝাড়গ্রামে ১৪.৮, বাঁকুড়ায় ১৩.০ এবং কল্যাণীতে ১১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। ভোরের দিকে হালকা কুয়াশা থাকলেও সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই আকাশ পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে।
ফেব্রুয়ারির শেষে গরমের ইঙ্গিত (Weather Update)
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকেই দক্ষিণবঙ্গে শীতের পাকাপাকি বিদায় ঘটতে পারে। কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পৌঁছে যেতে পারে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত। অর্থাৎ ধীরে ধীরে গরমের প্রভাব বাড়তে শুরু করবে, যা মার্চ মাসে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।
উত্তরবঙ্গে কুয়াশা ও শীতের মেলবন্ধন (Weather Update)
দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া এখনও বেশ মনোরম। তবে সেখানে কুয়াশার দাপট বজায় রয়েছে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও উত্তর দিনাজপুরে ঘন কুয়াশার সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর। পাহাড়ি এলাকায় তাপমাত্রা আপাতত ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যেই থাকবে। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের সমতলের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা ১৪ থেকে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে ঘোরাফেরা করবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। আপাতত সেখানে তাপমাত্রায় বড় কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবেই তাপমাত্রার ওঠানামা (Weather Update)
আবহাওয়া দপ্তরের মতে, বর্তমানে দেশে দু’টি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা সক্রিয় রয়েছে। পাশাপাশি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এই কারণেই রাজ্যজুড়ে তাপমাত্রার পারদ কখনও বাড়ছে, কখনও কমছে। তবে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, নতুন করে শীত পড়ার আর কোনও সম্ভাবনা নেই।
আরও পড়ুন: Anandapur Fire: শুভেন্দুর প্রতিবাদ মিছিলে ডিজের তালে ‘উদ্দাম’ নাচ! পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী
শীতের শেষ অধ্যায়ে বাংলা
সব মিলিয়ে বলা যায়, বাংলা এখন শীতের শেষ অধ্যায়ে দাঁড়িয়ে। সকালের হালকা ঠান্ডা আর দুপুরের উষ্ণ রোদ এই দুইয়ের মিশেলে তৈরি হয়েছে এক মনোরম আবহাওয়া। তবে খুব শীঘ্রই সেই আবহাওয়ার জায়গা নেবে গ্রীষ্মের আগমনী বার্তা। তাই শীতপ্রেমীদের জন্য এটাই হয়তো শেষ কয়েকটি উপভোগ্য দিন।



