Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভূগর্ভস্থ জলের দূষণ রোধে কেন্দ্রের আনা The Water (Prevention and Control of Pollution) Amendment Act, 2024 রাজ্য গ্রহণ করবে কি না, সেই বিষয় নিয়ে সোমবার রাজ্য বিধানসভায় বিস্তৃত আলোচনা হয়। এই রেজোলিউশনটি উত্থাপন করেন রাজ্যের পরিবেশ দফতরের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। আলোচনায় অংশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্র সরকারকে কটাক্ষ করে একাধিক বিষয়ে তোপ দাগেন।
“দূষণ রোধ করতে হবে, কিন্তু রুলস আমরা করবো” – মমতা (Groundwater Pollution Control)
আলোচনায় অংশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “পরিবেশ দূষণ থেকে সবাইকে মুক্ত করতে হবে — এটাই মূল কথা। কিন্তু এখন কেন্দ্রীয় সরকার হঠাৎ হঠাৎ সব নিয়ম বদলে দিচ্ছে, আমাদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে। শুধু ডাইরেকশন দিলেই হবে না, রুলস ফ্রেম করার ক্ষমতা রাজ্যেরই থাকবে।” তিনি আরও বলেন, “আজকে বিহার, দিল্লিতে দূষণের মাত্রা কত, আর কলকাতায় কত? আগে নিজেরা ঠিক থাকুন। রাজ্যে আমরা নিজেরাই যথেষ্ট কাজ করছি। ‘জল ধরো, জল ভরো’ প্রকল্পে আমরা সাড়ে চার লক্ষ কাজ করেছি।”
আরও পড়ুন: Manoranjan Byapari: বিধানসভায় হঠাৎ অসুস্থ মনোরঞ্জন ব্যাপারী, নিয়ে যাওয়া হল SSKM-এ
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের মাধ্যমে রাজ্য সরকারের স্পষ্ট ইঙ্গিত — কেন্দ্রের পরিবেশ সংক্রান্ত নির্দেশকে সম্মান জানানো হলেও, প্রয়োগের পদ্ধতি এবং নিয়ম তৈরি করবে রাজ্যই (Groundwater Pollution Control)। রাজ্যের নিজস্ব বাস্তবতা, চাহিদা ও পরিকল্পনার ভিত্তিতে আইন প্রয়োগ করা হবে।
জল সংরক্ষণে রাজ্যের সাফল্য ও কেন্দ্রের অবহেলা (Groundwater Pollution Control)
রাজ্যে ক্রমবর্ধমান বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের এখানে ম্যাক্সিমাম বন্যা ম্যান-মেড। ডিভিসি রাজ্যকে না জানিয়েই জল ছেড়ে দেয়। আগের মতো আগে থেকে কোনও সতর্কতা বা তথ্য দেওয়া হয় না। নতুন কেন্দ্র সরকার এ সব কিছুই মানে না। কোনও কথা শোনে না, কোনও দায়িত্ব মানে না।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাজ্যে জলমগ্নতার প্রধান কারণ কেন্দ্রীয় সংস্থার একতরফা পদক্ষেপ (Groundwater Pollution Control)। তাঁর কথায়, “ডিভিসি যখন তখন জল ছেড়ে দিচ্ছে, আর তার ফলে হাওড়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া সহ একাধিক জেলায় জল জমে যাচ্ছে। অথচ কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যকে বন্যা ত্রাণে এক পয়সাও দেয় না।”
আরও পড়ুন: Kaliganj: কালীগঞ্জ থাকল তৃণমূলের হাতেই, শুভেচ্ছাবার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রের বিদ্যুৎ নীতির বিরুদ্ধেও মুখ খোলেন। তিনি বলেন, “তিস্তা নদীর উপর ১৪টি হাইডাল পাওয়ার প্রজেক্ট তৈরি করে তিস্তার স্বাভাবিক শ্বাস নেওয়ারও জায়গা রাখেনি কেন্দ্র। এতে উত্তরবঙ্গের পরিবেশ ও জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।” তিনি ইন্দো-ভুটান রিভার প্রজেক্ট নিয়েও কেন্দ্রের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বলেন, “আমরা বার বার বলেছি এই প্রকল্পে বাংলার প্রতিনিধিত্ব থাকা উচিত। কিন্তু কেন্দ্র বাংলাকে পুরোপুরি বাদ দিয়ে দিয়েছে। কোনও পরামর্শ বা সম্মতির প্রয়োজনও মনে করে না তারা।”
পরিবেশ রক্ষায় রাজ্যের উদ্যোগ
পরিবেশ রক্ষায় রাজ্যের তরফে নেওয়া হয়েছে একাধিক উদ্যোগ (Groundwater Pollution Control)। ৪.৫ হাজার একর জমি যুক্ত হয়েছে বন্যভূমির তালিকায়। ২০ কোটি ম্যানগ্রোভ লাগানো হয়েছে তিনটি জেলায়। ৫ লক্ষ বিঘা জমিতে বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। জলাভূমি রক্ষা ও পুকুর ভরাটে কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি কেউ জোর করে পুকুর ভরাট করে, আমি তা ভেঙে দেব। পরিবেশ দফতরকে নির্দেশ দিচ্ছি, যাতে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”


