Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: শীতের প্রকোপ বাড়তেই দেশের নানা প্রান্তে (Winter Socks) পারদ নামছে দ্রুত। পশ্চিমবঙ্গও তার ব্যতিক্রম নয়। ভোরবেলায় ঠান্ডা জল ছুঁতেই কাঁপুনি, সন্ধের পর চায়ের দোকানে উনুনের আগুনে হাত সেঁকার দৃশ্য এখন নিত্যদিনের। কিন্তু দিনের শেষে সবচেয়ে বড় লড়াইটা শুরু হয় রাতে-ঘুমোতে যাওয়ার সময়। শরীর যতই কম্বল বা লেপে ঢাকা থাকুক, অনেকের ক্ষেত্রেই পা ঠান্ডা থাকলে ঘুম আসতে চায় না। তাই শীত থেকে বাঁচতে অনেকেই মোজা পরে ঘুমোনোর অভ্যাস করেন, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই প্রবণতা বেশি দেখা যায়। তবে জানেন কি, এই অভ্যাস অজান্তেই শরীরের ক্ষতি করতে পারে?
অজান্তেই শরীরের ক্ষতি! (Winter Socks)
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতে দীর্ঘ সময় পায়ে মোজা (Winter Socks) পরে ঘুমোলে শরীরের স্বাভাবিক রক্ত চলাচলে প্রভাব পড়তে পারে। মোজা টাইট হলে পায়ের রক্তনালিতে চাপ পড়ে, যার ফলে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হয় না। এর প্রভাব হৃদ্যন্ত্রের উপরও পড়তে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ঘুমের মধ্যে হার্টরেট বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। দীর্ঘদিন এই অভ্যাস বজায় থাকলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পর্যাপ্ত অক্সিজেন না পাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

ত্বকের স্বাস্থ্য (Winter Socks)
এ ছাড়াও পায়ের ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য মোজা পরে ঘুমোনো মোটেই ভালো নয়। দীর্ঘ সময় মোজা পরে থাকলে পায়ে ঘাম জমে যায়, যা ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক সংক্রমণের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। বিশেষ করে নাইলনের মোজা হলে সমস্যা আরও বাড়ে, কারণ এই ধরনের মোজায় বাতাস চলাচল কম হয়। এর ফলে চুলকানি, র্যাশ, এমনকি ফাঙ্গাল ইনফেকশনও হতে পারে। ত্বক বিশেষজ্ঞরা তাই সব সময় সুতির কাপড় ব্যবহারের পরামর্শ দিলেও, রাতে মোজা না পরাই সবচেয়ে নিরাপদ বলে মনে করেন।
শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যেতে পারে
আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল শরীরের তাপমাত্রা। রাতে মোজা পরে ঘুমোলে শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যেতে পারে। এতে ঘুমের স্বাভাবিক চক্র ব্যাহত হয়, ঘনঘন ঘুম ভেঙে যেতে পারে এবং পরদিন শরীরে ক্লান্তি অনুভূত হয়। বিশেষ করে যারা ইতিমধ্যেই গরম কম্বল বা লেপ ব্যবহার করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও বেশি দেখা দিতে পারে।

আরও পড়ুন: Aniket Mahato: জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্টের ট্রাস্ট থেকে ইস্তফা অনিকেত মাহাতোর!
তাহলে মোজা ছাড়া কীভাবে পা গরম রাখা যায়? এর সহজ কিছু বিকল্প রয়েছে। ঘুমোনোর আগে সর্ষের তেল বা অলিভ অয়েল হালকা গরম করে পায়ের তলায় মালিশ করলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং উষ্ণতা বজায় থাকে। এছাড়া পায়ের পাতায় গরম জলের সেঁক দিতে পারেন। চাইলে হট প্যাড ব্যবহার করাও যেতে পারে, তবে সরাসরি ত্বকের উপর না রেখে তোয়ালে জড়িয়ে নেওয়া ভালো।


