Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাত নামলেই চারচাকা গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়া ছিল চার বন্ধুর নেশা (Alipurduar)। ফাঁকা জাতীয় সড়কে ঝড়ের গতিতে গাড়ি ছোটানো এই রোমাঞ্চই যেন তাঁদের জীবনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল। কিন্তু সেই নেশাই শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিল তিন তরুণের প্রাণ। আলিপুরদুয়ার জেলার পুটিমারি গ্রামে গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলে দিল গতির উন্মাদনা কি তরুণ প্রজন্মকে মৃত্যুর দিকেই ঠেলে দিচ্ছে?

জাতীয় সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ (Alipurduar)
সোমবার গভীর রাতে চার বন্ধু একটি চারচাকা গাড়ি নিয়ে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে বারোবিশার দিকে যাচ্ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গাড়িটির গতি ছিল অত্যন্ত বেশি। সেই সময়ই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জাতীয় সড়কের ধারে সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কের সামনে থাকা একটি বিশাল বটগাছে সজোরে ধাক্কা মারে গাড়িটি। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে চারচাকা গাড়িটি সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আনন্দের রাত পরিণত হয় মৃত্যুপুরীতে।
ঘটনাস্থলে ছুটে যান স্থানীয়রা (Alipurduar)
বিকট আওয়াজ শুনে আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা ছুটে যান ঘটনাস্থলে। তাঁদের চোখের সামনে যে দৃশ্য ধরা পড়ে, তা ছিল হাড়হিম করা। রাস্তার উপর তিন তরুণ ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় পড়ে ছিলেন। গাড়ির ভিতরে আটকে পড়েছিলেন আরও এক যুবক। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাঁকে গাড়ি থেকে বের করে আনা হয়। দ্রুত চারজনকেই আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

হাসপাতালে তিনজনকে মৃত ঘোষণা (Alipurduar)
আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তিনজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃতদের নাম প্রদীপ ঘোষ, অভিজিৎ দাস ও দ্বীপ দাস। তাঁদের বয়স ছিল মাত্র ২৩ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে। প্রদীপ ঘোষের বাড়ি আলিপুরদুয়ারের বিবেকানন্দ ক্লাব এলাকায়, অভিজিৎ দাসের বাড়ি রাজাভাতখাওয়ায় এবং দ্বীপ দাসের বাড়ি জিতপুরে। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বিনয় পাল চৌধুরী। তাঁর বাড়ি ভোলারডাবরি এলাকায়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িটি বিনয়েরই ছিল।
নিয়তির নির্মম পরিহাস (Alipurduar)
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই চারজন ছিলেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। মাঝেমধ্যেই গভীর রাতে চারচাকা গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়া ছিল তাঁদের অভ্যাস। অভিযোগ, রাস্তায় প্রায়ই অত্যন্ত দ্রুত গতিতে গাড়ি চালাতেন তাঁরা। সোমবার রাতেও সেই পুরনো অভ্যাসই তাঁদের সর্বনাশ ডেকে আনে। বন্ধুত্বের আনন্দ, রাত্রির রোমাঞ্চ আর গতির উন্মাদনা সবকিছু মিলিয়ে এক মুহূর্তের ভুল সিদ্ধান্ত কেড়ে নিল তিনটি তরুণ প্রাণ।
আরও পড়ুন: Content Creator Lab: চাকরির গণ্ডি ভেঙে জেন জির ভবিষ্যৎ গড়ছে কন্টেন্ট ক্রিয়েশন!
মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন কি না, তদন্তে পুলিশ
এই দুর্ঘটনার পিছনে আসল কারণ কী তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। চালক মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন কি না, নাকি শুধুমাত্র অতিরিক্ত গতিই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেই সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শামুকতলা রোড ফাঁড়ির ওসি সঞ্জীব মাদক জানান, “খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে গিয়ে জখমদের আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তিনজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আমরা গোটা ঘটনার তদন্ত গুরুত্ব দিয়ে করছি।” দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িটি উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং ফরেনসিক পরীক্ষার প্রস্তুতিও চলছে।



